বিপিএল নিয়ে বিসিবির ব্যাখ্যায় খুশি কোয়াব

বিপিএল
ক্রিকফ্রেঞ্জি
ক্রিকফ্রেঞ্জি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার আগেই তামিম ইকবাল বলেছিলেন, জোড়াতালি দিয়ে বিপিএল আয়োজন করবেন না। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) হারানো জৌলুস ফেরাতে বেশ কিছু সংস্কার করতে চান বিসিবি সভাপতি। সেজন্য আগামী বছর বিপিএল আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তামিমের বোর্ড। বিসিবির সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একাত্মা প্রকাশ করেছে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)। তবে ক্রিকেটারদের আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে দিতে সেই সময় নতুন একটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরামর্শ দিয়েছেন কোয়াবের প্রতিনিধিরা।

বিপিএলের প্রতি মৌসুমেই টুর্নামেন্টের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক সমস্যা, আয়োজনের অব্যবস্থাপনা, নিম্ন মানের বিদেশি ক্রিকেটারের সঙ্গে স্পটফিক্সিংয়ের সন্দেহ। পাশাপাশি টুর্নামেন্টের গত কয়েক আসরে নিয়মিতই লোকসান করেছে বিসিবি। অন্যান্য দেশ যখন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ আয়োজন করে টাকা আয় করছে বিসিবি সেখানে উল্টো পথে হাঁটছে। কদিন আগে তামিম জানিয়েছেন, বিপিএলের গত দুই আসরে ৪০ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে।

এভাবে জোড়াতালি দিয়ে বিপিএল আয়োজন করতে চান না বিসিবি। এজন্য ২০২৭ সালে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগটি বন্ধ রেখে নতুন মডেল দাঁড় করাতে চান। বিসিবি কেন আগামী বছর বিপিএল আয়োজন করবে না এবং ভবিষ্যত মডেল কেমন হবে সেসব নিয়ে ২৯ আগষ্ট রংপুর রাইডার্স, রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ও ঢাকা ক্যাপিটালসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তামিম।

৩০ আগষ্ট তারা আলোচনা করেছেন কোয়াবের সঙ্গে। মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিসিবির সঙ্গে সেই সভায় কোয়াবের প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন নাসির, মোহাম্মদ মিঠুন, ইয়াসির আলী রাব্বি, ফজলে মাহমুদ রাব্বি ও মার্শাল আইয়ুবের মতো ক্রিকেটাররা। বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন নাসির। তারকা অলরাউন্ডার জানান, বিপিএলের ওই সময়টায় কী আয়োজন করা যায় সেসব নিয়ে বিসিবিকে তারা কিছু প্রস্তাব দিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে নাসির বলেন, ‘প্রথমেই বলি এই ক্রিকেট বোর্ড সবসময় ক্রিকেটারদের পাশে ছিল এবং আছে। আমরা বিপিএল নিয়েই কথা বলেছি যে কেন হবে না। বোর্ড সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা দিয়েছে কেন বিপিএল হচ্ছে না। বিপিএলের জায়গায় (সময়) কী করলে খেলোয়াড়দের জন্য ভালো হয়...। দেখুন, খেলোয়াড়রা কিন্তু আর্থিকভাবে সমস্যায় পড়ে যাবে বিপিএলটা না হলে। এটার জন্য ক্রিকেট বোর্ড কী করতে পারে আমরা এসব নিয়ে আলোচনা করেছি।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘তারা (বিসিবি) আমাদের কিছু প্রস্তাব দিয়েছে, আমাদের দিক থেকেও কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোন কিছুই চূড়ান্ত হয়নি। আমরা আবার পরবর্তীতে বসব এবং এটা নিয়ে আলোচনা করব।’

২০২৪ সালে সরকার পরিবর্তনের পর তাড়াহুড়ো করে বিপিএল আয়োজন করতে আগ্রহী ছিলেন না ফারুক আহমেদ। বিপিএল যাতে বন্ধ না হয় এজন্য তৎকালীন সভাপতিকে অনুরোধ করেছিলেন তামিমসহ বাকি ক্রিকেটাররা। তাদের কথা অনুযায়ী বিপিএল চলমান রাখে বিসিবি। মুশফিকুর রহিম একবার এও বলেছিলেন, বিপিএল না হলে তাদের সংসার চলবে না। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টটি এক বছর না হলেও বিসিবির ব্যাখ্যা মনে ধরেছে ক্রিকেটারদের।

নাসির বলেন, ‘এখনো আমরা পুরোপুরি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি। আমাদের হয়তবা আরও দুই-একবার বসতে হবে। যতটুকু কথা হয়েছে তাতে আমার মনে হয় আমরা খেলোয়াড়রা মোটামুটি খুশি। খুব ভালো একটা আলোচনা হয়েছে। পরবর্তী সভায় যখন আমরা বসব তখন হয়ত সুন্দর একটা সমাধান হবে।’

জানুয়ারির ওই সময়ে একটা টুর্নামেন্ট চান নাসিররা। তিনি বলেন, ‘আমরা তো ব্যস্ত থাকব, বিভিন্ন ধরনের খেলা আছে। বিপিএল যেহেতু দেড় মাসের, আমরা চাচ্ছিলাম যদি একটা টুর্নামেন্ট হয় ওই সময় তাহলে জিনিসটা খুব ভালো হতো। কিন্তু এটা এখনো চূড়ান্ত হয়নি টুর্নামেন্ট হবে কি হবে না। আমি এটাই বারবার বলছি পরের মিটিংয়ে অনেকটা ক্লিয়ার ধারণা পাবেন যে আমরা কোন জায়গায় যাচ্ছি বা কী টুর্নামেন্ট হচ্ছে, খেলোয়াড়দের জন্য কোনটা ভালো হবে। এটা পরবর্তী মিটিংয়ে আমরা চূড়ান্ত করব।’

চলতি আগষ্ট-সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ সফর করার কথা ছিল ভারতের। তিনটি করে ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি খেলার কথা থাকলেও আপাতত সিরিজটি স্থগিত হয়ে গেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আগামী বছরের জানুয়ারিতে ভারতকে আতিথ্য দিতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিসিবি। এমনটা হলে ওই সময়ের ঘরোয়া টুর্নামেন্টে বড় একটা প্রভাব পড়তে পারে।

বিপিএলের পরিবর্তে যে টুর্নামেন্টটা হবে সেটা সরিয়ে নেওয়া হতে পারে ঢাকা কিংবা চট্টগ্রামের বাইরে। পাশাপাশি জাতীয় দলের ক্রিকেটারদেরও না পাওয়ার একটা আশঙ্কা থাকবে। তবে জানুয়ারিতে ভারত সিরিজ হতে পারে এমনটা জানেন না নাসির। তারকা অলরাউন্ডার বলেন, ‘এ (বাংলাদেশ-ভারত সিরিজ) ব্যাপারে আমাদের সাথে কোনো কথা হয়নি, আমরা জানিও না।’

আরো পড়ুন: