অনুমতি পাওয়ার পর নিজের স্বপ্নের কথা জানিয়েছেন আনায়া। বিসিসিআই ভবিষ্যতে তাকে খেলার সুযোগ দেবে বলে আশা করছেন তিনি। তার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য ভারতের হয়ে বিশ্বকাপ খেলা এবং শিরোপা জেতা।
আনায়া বলেন, 'আমি আশা করব, বিসিসিআই বিষয়টা গুরুত্ব দিয়ে দেখবে। এক দিন ভারতের নারী দলে খেলার সুযোগ পাব। এক দিন ভারতের হয়ে বিশ্বকাপ খেলব। আমি দেশের হয়ে বিশ্বকাপ জিততে চাই। সেটাই আমার লক্ষ্য।'
ক্রিকেটে ফেরার এই পথটা মোটেও সহজ ছিল না আনায়ার জন্য। পরিবারসহ নানা জায়গা থেকে বিরোধিতা পেয়েছেন তিনি। তবু থেমে যাননি। নিজের লড়াইয়ের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, 'খুব কঠিন ছিল। অনেক বাধা সামলেছি। শুধু বাইরের মানুষ নয়, পরিবারের মধ্যেও অনেক বিরোধিতা সহ্য করতে হয়েছে। নামমাত্র সমর্থন পেয়েছি। কিন্তু থামিনি।'
লিঙ্গ পরিবর্তনের চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের পুরো খরচও নিজেকেই বহন করতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন আনায়া। অর্থ জোগাড় করতে লন্ডনে অন্যের সঙ্গে ঘর ভাগ করে থেকেছেন, সমাজমাধ্যমে নিজের কথা তুলে ধরেছেন এবং বিজ্ঞাপন থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে অস্ত্রোপচার করিয়েছেন তিনি।
'একটা সময় এমন গিয়েছে যে লন্ডনে অন্যের সঙ্গে ঘর ভাগ করে থেকেছি। প্রায় পাঁচ মাস সে ভাবে কাটাতে হয়েছে। কয়েকটা বিজ্ঞাপনের সুযোগ পেয়েছিলাম। সেই টাকা থেকে অস্ত্রোপচার করিয়েছি। পুরোটা নিজের টাকায় করেছি।'
বিসিসিআইয়ের অনুমতি না পাওয়ায় হতাশ আনায়া। তার দাবি, রূপান্তরিত ক্রিকেটারদের নিয়ে নতুন নিয়ম তৈরি করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, 'বরাবর আমার প্রতি নীরব থেকেছে বোর্ড। দেখে প্রচণ্ড হতাশ হয়েছি। মন ভেঙে গিয়েছে। আশা করি এ বার বোর্ড আমাদের মতো ক্রিকেটারদের খেলানো নিয়ে নতুন নিয়ম তৈরি করবে। কারণ আমিই এ ব্যাপারে ভারতে প্রথম।'
সুযোগ পেলে ভারতীয় ক্রিকেট ও নারী খেলাধুলার উন্নয়নে নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চান আনায়া। তার ভাষায়, 'সুযোগ পেলে দলের সদস্য হতে রাজি। নিজের জ্ঞান এবং গোটা যাত্রাপথের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে চাই। দেশ এবং নারীদের খেলাধুলার উন্নতির জন্য যা যা দরকার, তা করতে চাই।'