ভালোর তো শেষ নেই, ম্যাচসেরা হয়ে রিপন

বিপি
রিপন মণ্ডল, রাজশাহী ওয়ারিয়র্স
রিপন মণ্ডল, রাজশাহী ওয়ারিয়র্স
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
পারভেজ হোসেন ইমন ও মুমিনুল হক ফেরার পরও সিলেট টাইটান্সের জয়ের আশা জাগিয়ে রেখেছিলেন মঈন আলী। রাজশাহী ওয়ারিয়র্সকে হারিয়ে জিততে হলে শেষ ১২ বলে সিলেটের প্রয়োজন ছিল ২৫ রান। এমন সময় রিপন মণ্ডলের হাতে বল তুলে দেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ডানহাতি পেসারের প্রথম বলেই ফুলটস পেয়ে এক্সট্রা কভারের উপর দিয়ে ছক্কা মারেন মঈন। দ্বিতীয় বলে উড়িয়ে মেরেছেন ডিপ মিড উইকেটের উপর দিয়ে।

দুই বলে দুই ছক্কা হজম করা মানসিকভাবে হতাশ হয়ে পড়েন রিপন। যদিও কঠিন সেই সময়ে তরুণ পেসারের পাশে থেকে উজ্জীবিত করেছেন অধিনায়ক শান্ত। সেটা কাজে লাগিয়ে তৃতীয় বলেই উইকেট পেয়েছেন। রিপনের বলে উড়িয়ে মারার চেষ্টায় ডিপ এক্সট্রা কভারে মঈন ধরা পড়েছেন সীমানার কাছে। ইংলিশ অলরাউন্ডারের বিদায়ে সিলেটের জয়ের স্বপ্নও ধুলিসাৎ হয়। মঈনের পাশাপাশি ওই ওভারে নাসুম আহমেদের উইকেটও নেন রিপন।

পুরো ম্যাচ জুড়ে দুর্দান্ত বোলিংয়ে শেষ পর্যন্ত রাজশাহীর জয়ের নায়ক বনে গেছেন তরুণ এই পেসার। ৪ ওভারে ৩৪ রান খরচায় ৪ উইকেট নিয়ে জিতেছেন ম্যাচসেরার পুরস্কারও। সংবাদ সম্মেলনে এসে ১৯তম ওভারের পরিস্থিতি ও পরিকল্পনার কথা শুনিয়েছেন তিনি। রিপন বলেন, ‘উনি (মঈন) সেট ব্যাটসম্যান, বড় ব্যাটসম্যান, অন্য পাশে টেল এন্ডারের মতো একজন ব্যাটসম্যান ছিল, আমাদের পরিকল্পনা ছিল উনাকে (মঈন) এক রান দেওয়া।

‘কিন্তু উনি প্রথম বলে ছক্কা মারলেন, দ্বিতীয় বলেও মারলেন। তখন আমি মানসিকভাবে একটু হতাশ হয়ে পড়েছিলাম, সত্যি কথা বলতে। তবে শান্ত ভাই এসে অনেক সাহায্য করেছেন, উজ্জীবিত করেছেন। আমাদের পরিকল্পনা ছিল, আমরা যদি মইন ভাইকে আউট করতে পারি, তাহলে ম্যাচ জিতব।’

রিপন সেই ওভারে ২ উইকেট নিতে ১৪ রান খরচা করায় শেষ ওভারে সিলেটের প্রয়োজন ছিল ১১ রান। শেষ ওভারে শান্ত ভরসা রাখেন বিনুরা ফার্নান্দোর উপর। প্রথম পাঁচটা ডেলিভারি ঠিকঠাকই করেছিলেন শ্রীলঙ্কার পেসার। তবে শেষ বলটি করতে গিয়ে একটু ভড়কে যান। ক্র্যাম্প হওয়ার পর বল হাতে নিয়ে দিয়েছেন টানা দুই ওয়াইড। তাতে শেষ বলে সিলেটের দরকার ছিল ৬ রান। যদি সেটা হতে দেননি তিনি। শেষ বলে রুয়েল মিয়াকে বোল্ড করে রাজশাহীর জয় নিশ্চিত করেন।

বিনুরা দুইটি ওয়াইড দেয়ায় চিন্তা পড়ে গিয়েছিলেন রিপনরাও। যদিও বিনুরার উপর বিশ্বাস ছিল তাদের। রিপন বলেন, ‘টেনশন তো একটু হবেই… ও (বিনুরা) আমাদের গুরুত্বপূর্ণ একজন বোলার, ক্র্যাম্পিং ধরনের কিছু হয়েছিল। যখন এক বলে আট লাগে, তখন একটু রিল্যাক্সড ছিলাম আমরা। দুটি ওয়াইড হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই একটু চাপ তো থাকেই। তবে বিশ্বাস ছিল যে, ও পারবে।’

আরো পড়ুন: