‘লাপাত্তা’ হওয়া নাজমুলের সঙ্গে কথা হয়েছে মিঠুর, উত্তরের অপেক্ষায় বিসিবি

বাংলাদেশ ক্রিকেট
এম নাজমুল ইসলাম, বিসিবি
এম নাজমুল ইসলাম, বিসিবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
‘আমরা চেষ্টা করেছি উনার সঙ্গে সারাদিন যোগাযোগ করতে। আমরা চেয়েছিলাম (তাকে) আজকে এখানে আনার জন্য। কিন্তু উনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারা যায়নি।’ বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারায় ১৫ জানুয়ারি রাতে আক্ষেপের সুরেই এমনটা বলেছিলেন ইফতেখার রহমান মিঠু। তবে সেই ঘটনার পরদিন নাজমুলের সঙ্গে যোগাযোগা করতে পেরেছেন তারা। পাশাপাশি বিসিবির সেই পরিচালকের সঙ্গে কথাও হয়েছে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিবের।

কয়েক দিন আগেই তামিম ইকবালকে ভারতীয় দালাল বলে মন্তব্য করায় সমালোচনার মুখে পড়েন নাজমুল। সেই মন্তব্যের জন্য তাকে রিজয়েন্ডার দিতে বলা হলেও সেটা করেননি তিনি। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক, সাফল্যসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। বিসিবির সেই পরিচালকের বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে সব ধরনের ক্রিকেট বর্জনের হুমকি দেন ক্রিকেটাররা।

বিপিএলের ম্যাচ শুরুর আগে পদত্যাগ করতে বলা হলেও সেটা করেননি। যার ফলে ১৫ জানুয়ারি বিপিএলের একটি ম্যাচও মাঠে গড়ায়নি। এমন পরিস্থিতিতে অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে নাজমুলকে সরিয়ে দেয় বিসিবি। তাদের এমন পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে নিজেদের অনড় অবস্থান থেকে সরে আসেন ক্রিকেটাররা। পরবর্তীতে শর্তসাপেক্ষে ক্রিকেটে ফেরেন মোহাম্মদ মিঠুন, নাজমুল হোসেন শান্তরা।

যেখানে নাজমুলকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে। এদিকে ১৫ জানুয়ারি সকালেই বিসিবির সেই পরিচালককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বিসিবির বেঁধে দেয়া সময় অনুযায়ী, ১৭ জানুয়ারি সকাল ১১ টার মধ্যে লিখিতভাবে কারণ দর্শাতে হবে। সমস্যা সমাধানে গতকাল সারাদিন চেষ্টা করলেও নাজমুলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি বিসিবি। যদিও পরদিন তাঁর সঙ্গে কথা বলতে পেরেছেন মিঠু।

নাজমুলের উত্তরের অপেক্ষার কথা জানিয়ে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব বলেন, ‘হ্যাঁ, উনার ফোন বাজছে তো। উনি (এম নাজমুল ইসলাম) হয়ত আমাদের ফোন নেয় না। আমি যোগাযোগ করেছি উনার সাথে, কথা বলেছি। তাকে বলেছি এখন পরিস্থিতি যেটা হয়েছে। এমনি হাই, হ্যালো করেছি। আমি এটা নিয়ে কথা বলিনি উনার সাথে, ব্যাপারটা নিয়ে। কালকে তো বলেই দিয়েছি আমরা কি করছি। এখন দেখা যাক উনার তো কালকে ১১টা পর্যন্ত সময় উত্তর দেয়ার। আমরা তাঁর উত্তরের অপেক্ষা করছি।’

ক্রিকেটারদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে একবারে লাপাত্তা হয়ে গেছিলেন নাজমুল। বিসিবি খোঁজ করলেও তাকে সামনে আনতে পারেনি। মিঠু মনে করেন, যার মন্তব্যের জন্য এমন ঘটনা ঘটেছে তাকে পুরো পরিস্থিতি সামনে থেকে মোকাবেলা করা উচিত ছিল। ক্রিকেটারদের রাজি করাতে না পারলে বিপিএল স্থগিত করে দিতে হতো সেই আশঙ্কার কথাও মনে করিয়ে দিলেন গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব।

মিঠু বলেন, ‘ওইদিকে না যাই। কিন্তু আমার মনে হয় তাঁর (এম নাজমুল ইসলাম) এটা মোকাবেলা করা উচিত ছিল। কারণ আপনাদের যখন বলেছে এজন্য তাঁর এসে পরিস্কার করা দরকার ছিল। চিন্তা করেন এই মন্তব্যের হওয়াতে একটা দিন খেলা মিস হয়েছে, কত কিছু হয়ে গেছে। আজকে যদি খেলতে না পারতাম তাহলে বিপিএল হওয়ার কিন্তু আর সময় ছিল না। দর্শকদের কষ্ট হয়েছে, সবাই কিন্তু একটা সমস্যায় পড়ে গিয়েছিলাম। আমি খেলোয়াড়দের, আপনাদের ধন্যবাদ দিব। কাল রাত ১০ টায় আমরা সমাধান করতে পেরেছি।’

পরবর্তী ধাপ নিয়ে ভিন্ন আরেকটি প্রশ্নে মিঠু বলেন, ‘আমাদের ডিসিপ্লিনারি কমিটি আছে, ওইটার চেয়ারম্যানের কাছে জমা দেয়ার কথা। তারপরে পরবর্তী ধাপে থাকবে। খেলোয়াড়দের সাথে আমাদের কথা হয়েছে, প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।’

আরো পড়ুন: