কদিন আগে শেষ হওয়া ইন্টারন্যাশনাল লিগ টি-টোয়েন্টিতে গালফ জায়ান্টসের হয়ে খেলেছেন গুরবাজ। সেই টুর্নামেন্ট শেষ হতেই ঢাকার হয়ে বিপিএল খেলতে সিলেটে আসেন তিনি। এখনো পর্যন্ত ফ্র্যাঞ্চাইজিটির হয়ে তিনটি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ভালো শুরু পেলেও ৩১ রানে ফিরতে হয়েছিল ডানহাতি ওপেনারকে। নোয়াখালী এক্সপ্রেসের সঙ্গে অবশ্য রানের খাতাই খুলতে পারেননি। যদিও তৃতীয় ম্যাচেই পেয়েছেন হাফ সেঞ্চুরি।
সিলেটের সঙ্গে ৫১ রানের ইনিংস খেললেও বাকিদের ব্যর্থতায় ঢাকাকে জেতাতে পারেননি গুরবাজ। রাতে ম্যাচ শেষ করে টিম হোটেলে ফিরে দ্রুতই ঘুমিয়ে যেতে পারেননি তিনি। আতিক ফাহাদের ভাষ্যমতে, সকাল সাত কিংবা ৮টা নাগাদ ঘুমান আফগান ব্যাটার। এমন সময় হুট করেই গুরবাজের রুমে হানা দেয় বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিট। আচমকা এমন ঘটনা ঘটায় বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন তিনি। ওই সময় গুরবাজের মোবাইল ফোন চেক করার পাশাপাশি কিছু প্রশ্নও করেছে তারা।
ঘটনার বিস্তারিত জানিয়েছে আতিক ফাহাদ বলেন, ‘আজকে সকালের একটি ঘটনার কথা বলি। আমাদের একজন বিদেশি ক্রিকেটার, সে বড় খেলোয়াড় (রহমানউল্লাহ গুরবাজ)। সে সারা রাত ঘুমাতে পারেনি, সাতটা কিংবা ৮টার দিকে ঘুমিয়েছে। হুট করে কয়েকজন এসে কোন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়া, দলকে জানানো ছাড়া কিংবা টিম ম্যানেজমেন্টকেও না জানিয়ে তাঁর রুমে ঢুকে গেছে। আমাকে গুরবাজ এসে বলতেছে, এসব কী? ১০-১৫ মিনিট ধরে সে দ্বিধায় ছিল, সে বুঝতেছিল না কী হচ্ছে। অ্যান্টি করাপশনের লোকজন তাঁর মোবাইল ফোন চেক করল, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করল।’
নিয়ম অনুযায়ী, কোন ক্রিকেটারকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হলে সেটার জন্য সবার আগে ওই দলকে কিংবা দলের ম্যানেজারকে জানাতে হয়। পরবর্তীতে ওই ক্রিকেটারের সঙ্গে কথা বলে নির্দিষ্ট একটি সময় নির্ধারণ করা হয়। আফগানিস্তানের অ্যান্টি করাপশন ইউনিটও গুরবাজকে এমনটাই জানিয়েছে। তবে ডানহাতি ওপেনারের ক্ষেত্রে এমন নিয়ম মানা হয়নি বলে দাবি করেছেন ঢাকার প্রধান নির্বাহী। তিনি মনে করেন, আইসিসিও এমন প্রক্রিয়া সমর্থন করে না।
আতিক ফাহাদ বলেন, ‘অ্যান্টি করাপশন যাওয়ার পর গুরবাজ আফগানিস্তানের অ্যান্টি করাপশন ইউনিটকে কল দিয়ে জিজ্ঞেস করল, এভাবে ফাংশন করতে পারে কিনা। পরে আফগানিস্তানের অ্যান্টি করাপশন ইউনিট থেকে তাকে বলল, অবশ্যই প্রথমে ম্যানেজারকে জানাতে হবে। ম্যানেজার খেলোয়াড়কে জানিয়ে শিডিউল নেবে। শিডিউল দেয়ার পর তাকে জেরা করতে পারে বা কোন কিছু জানার থাকলে প্রশ্ন করতে পারে। এই যে একজন বিদেশি ক্রিকেটারের রুমে গিয়ে বিরক্ত করল কোন ধরনের অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়া। এটা তো আইসিসিও কখনো সাপোর্ট করে না।’
বিপিএল শুরুর আগে গভর্নিং কাউন্সিল থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে, ইন্টিগ্রিটির বিষয়ে কোন ছাড় দেয়া হবে না। আতিক মনে করেন, বিসিবি আইসিসির নিয়ম মানছে না। তিনি বলেন, ‘বিসিবি একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবার ইন্টিগ্রিটির বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। কিন্তু এই ছাড়টা এমনভাবে দেওয়া হয়েছে বা এমনভাবে নেওয়া হয়েছে যে, তারা আইসিসির রেগুলেশনটাই মানতেছে না।’
শুধু গুরবাজ নয় ঢাকার আরেক ক্রিকেটারের সঙ্গেও অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই জেরার চেষ্টা করেছে অ্যান্টি করাপশন ইউনিট! এমন তথ্যই দিয়েছেন আতিক ফাহাদ। ব্যাটিংয়ে নামার আগে আচমকা সাইফকে প্রশ্ন করতে শুরু করে তারা। ঢাকার প্রধান নির্বাহী মনে করেন, এসব করে ক্রিকেটারদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলছে বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিট।
তিনি বলেন, ‘সাইফ থেকে শুনলাম সে ব্যাটিংয়ে নামার আগে...ম্যানেজমেন্টের কেউও খেলোয়াড়দেরও কেউ যারা মাঠে নামবে তাঁর সঙ্গে সাধারণ কেউ কথা বলে না। কথা না বলার পেছনে কারণ হচ্ছে সে একটা স্টেবল ফোকাসের মধ্যে আছে, সে কীভাবে খেলবে না খেলবে। ওরকম একটা পরিস্থিতিতে যখন অ্যান্টি করাপশন এসে চার্জ করে তাকে কিন্তু এটা আরও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে ফেলেছিল। যেমন মিঠুন বলতেছিল তুমি মারো, না পারলে আউট হয়ে যাও অসুবিধা নাই।’
‘আমাদের লজিস্টিক ম্যানেজারকে বলতেছিল, ‘যখন অ্যান্টি করাপশন আমাকে চার্জ করেছে তখন তো আমার মনে হচ্ছিল আমি যদি প্রথম বলে আউট হয়ে যাই তখন (বলবে) আমি তো ফিক্সিং করতেছি। এই ট্রমা এই জিনিসগুলো তো অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতি। এই জিনিসগুলো তো কখনই কাম্য নয়।’