কাইল মেয়ার্স যখন ফিরলেন ম্যাচ জিততে রংপুর রাইডার্সের তখনো ৩১ বলে ৫০ রান প্রয়োজন। উইকেট ‘কঠিন’ হয়ে ওঠায় কাজটা একেবারে সহজ ছিল না। তবে মেহেদী হাসান মিরাজকে এক ওভারে তিনটি চারের সঙ্গে একটি ছক্কা মারলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত খেললেন বলে রানের ক্যামিও ইনিংস। মুস্তাফিজুর রহমান ও ফাহিম আশরাফের দুর্দান্ত বোলিংয়ে সিলেট টাইটান্সকে দেড়শর আগেই আটকে দেয়ার পর লিটন দাস, মেয়ার্স ও মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে ৬ উইকেটের জয় পেয়েছে রংপুর।
সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে জয়ের জন্য ১৪৫ রান তাড়ায় দেখেশুনে ব্যাটিং করছিলেন ডেভিড মালান ও লিটন দাস। যদিও ইনিংসের পঞ্চম ওভারে তাদের জুটি ভাঙেন খালেদ আহমেদ। ডানহাতি পেসারের শর্ট ডেলিভারিতে পুল করতে গিয়ে তাঁরই হাতে ক্যাচ দিয়েছেন ২১ বলে ১৯ রান করা মালান। তৃতীয় উইকেটে জুটি বড় করতে পারেননি তাওহীদ হৃদয় ও লিটন। স্পিনার নাসুমের এক ওভারে লিটন দু’বার জীবন পেয়েছেন।
যদিও সেই ওভারে হৃদয়ের উইকেট হারায় রংপুর। নাসুমের বলে ব্যাকফুটে গিয়ে খেলার চেষ্টায় ১১ বলে ৬ রান করে বোল্ড হয়েছেন হৃদয়। তারপর জুটি গড়ে টেনে তোলার চেষ্টা করেন লিটন ও মেয়ার্স। যদিও দ্রুত রান তুলতে পারছিলেন না তারা। চাপের মুখে সাইম আইয়ুবের ঝুলিয়ে দেয়া ডেলিভারিতে সোজা ব্যাটে খেলতে গিয়ে লং অনে আফিফ হোসেনের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন। এক ছক্কা ও চারটি চারে ২৫ বলে ৩৫ রান করে ফেরেন লিটন।
একটু পর ইথান ব্রুকসের প্রথম চার বলে একটি করে ছক্কা-চার মেরে চাপ কমানোর চেষ্টা করেন মেয়ার্স। যদিও সেই ওভারেই ফিরতে হয় তাকে। ব্রুকসের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে এজ হয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন ২৯ বলে ৩১ রানের ইনিংস খেলে। পরের ওভারে মিরাজকে তিনটি চারের সঙ্গে একটি ছক্কা মেরে সমীকরণ সহজ করে নিয়ে আসেন মাহমুদউল্লাহ। সেই ওভার থেকে আসে ১৬ রান।
২৪ বলে যখন ৩০ রান প্রয়োজন তখন মোহাম্মদ আমিরের এক ওভারে দুইটি চার মারেন খুশদিল শাহ ও মাহমুদউল্লাহ। পরের ওভারে খালেদের ওভারে ছক্কার সঙ্গে চারও মেরেছেন খুশদিল। ফলে শেষ ১২ বলে রংপুরের প্রয়োজন হয় মাত্র ৭ রান। প্রথম দুই বলে সিঙ্গেল নেয়ার পর তৃতীয় বলে ফাইন লেগ দিয়ে চার মারেন মাহমুদউল্লাহ। পঞ্চম বলে সিঙ্গেল নিয়ে জয় নিশ্চিত করেন তিনি। ১৬ বলে ৩৪ রান করে অপরাজিত ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। আরেক ব্যাটার খুশদিল ১১ বলে ১৯ রান করেছেন।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই সাইমকে হারায় সিলেট। একটু পর আউট হয়েছেন মিরাজও। ডানহাতি ব্যাটারকে ফিরিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৪০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন মুস্তাফিজ। বাংলাদেশের দ্বিতীয় বোলার হিসেবে এমন কীর্তি গড়েছেন বাঁহাতি এই পেসার। মুস্তাফিজের আগে টি-টোয়েন্টিতে ৪০০ উইকেট নিয়েছেন সাকিব আল হাসান। ভালো শুরু পেলেও পাওয়ার প্লে শেষের আগেই ফিরেছেন রনি তালুকদার।
১৪ বলে ১৯ রান করে ফাহিমের বলে বোল্ড হয়েছেন ডানহাতি এই ওপেনার। ছন্দে থাকলেও রংপুরের সঙ্গে ভালো করতে পারেননি পারভেজ হোসেন ইমন। ১৯ বলে ১৫ রান করে মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরির বলে বোল্ড হয়েছেন তিনি। ৬৩ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর জুটি গড়ে তোলেন ব্রুকস ও আফিফ। তাদের দুজনের ব্যাটেই একশ পেরিয়ে যায় স্বাগতিক সিলেট। একটা সময় ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছিলেন ব্রুকস ও আফিফ।
তাদের দুজনকে ফিরিয়ে রংপুরকে স্বস্তি এনে দিয়েছেন মুস্তাফিজ ও ফাহিম। ৩১ বলে ৪৬ রান করে আফিফ ও ব্রুকস আউট হয়েছেন ৩০ বলে ৩২ রান করে। শেষের দিকে কেউই সেভাবে রান করতে পারেনি। ডেথ ওভারে ৪ ওভারে ৩৬ রান তুলতে ৪ উইকেট হারায় সিলেট। আফিফ ও ব্রুকসের ব্যাটে শেষ পর্যন্ত ১৪৪ রানের পুঁজি পায় স্বাগতিকরা। রংপুরের হয়ে তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজ ও ফাহিম। একটি করে উইকেট পেয়েছেন মৃত্যুঞ্জয় ও আলিস।