বৃষ্টি আইনে ৩৪.১ ওভারে রূপগঞ্জের লক্ষ্য দাঁড়িয়েছিল ২২৩ রানে। সেই রান তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারায় রূপগঞ্জ। পেসার আশরাফুল হাসানের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান ওপেনার হাবিবুর রহমান৷ নিজের দ্বিতীয় ওভারেই আইচ মোল্লাকে তোফায়েল আহমেদের ক্যাচ বানিয়ে দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন আশরাফুল। বেশিক্ষণ টেকেননি আশিকুর রহমান শিবলিও। ১৮ বলে চার রান করে রবিউল হকের বলে বিফোর হন তিনি।
মিডল অর্ডারে শাহরিয়ার আহমেদ ও চৌধুরি মোহাম্মদ রিজওয়ান হাল ধরেন রূপগঞ্জের। ইনিংস সর্বোচ্চ ৩৪ রান করা শাহরিয়ারকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে আউট করেন নাসির হোসেন। ২১ রান করে রিজওয়ানও আউট হলে ৮০ রানেই পাঁচ উইকেট হারায় রূপগঞ্জ। সাত নম্বরে নেনে ইরফান শুক্কুর ৩৪ বলে ৪০ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকলেও সেই রান শুধু হারের ব্যবধান কমিয়েছে। নির্ধারিত ৩৪.১ ওভারে ছয় উইকেটে ১৪৫ রানে থানে থামে রূপগঞ্জের ইনিংস। অগ্রণীর হয়ে আশরাফুল ও আরিফ আহমেদ দুটি করে এবং রবিউল ও নাসির একটি করে উইকেট নেন।
এর আগে বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্স মাঠে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ওপেনার রবিনের সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহ পায় অগ্রণী। রবিন ও তৌফিক খান তুষার ওপেনিং জুটিতে তুলেছিলেন ২৯ রান। ১২ বলে ২০ রান করে সালাহউদ্দিন শাকিলের বলে বোল্ড হন তুষার। তিন নম্বরে নামা অধিনায়ক ইমরুল কায়েস ৩১ বলে ১৯ রাব করে শেখ মেহেদী হাসানের শিকার হন। এক প্রান্তে তখন রূপগঞ্জের বোলারদের ওপর চড়াও হন রবিন। মাঝে মার্শাল আইয়ুব (৩৫) ছাড়া তাকে কেউ সঙ্গ দিতে না পারলেও সেঞ্চুরি তুলে নেন এই ওপেনার।
পাঁচ নম্বরে নামা নাসিরও সামিউন বশির রাতুলের শিকার হয়ে চার রান করে আউট হন। লিস্ট 'এ' ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে ১৩৮ হলে তিন ছক্কা ও দশ চারে ১২৭ রানে অপরাজিত থাকেন রবিন। নির্ধারিত ৫০ ওভারে সাত উইকেটে ২৯৩ রানে শেষ হয় অগ্রণীর ইনিংস। রূপগঞ্জের হয়ে অধিনায়ক মেহেদী তিনটি, শাহরিয়ার আহমেদ দুইটি এবং সালাউদ্দিন ও রাতুল একটি করে উইকেট নেন।
শাকিলের পাঁচ উইকেট শিকারে ব্রাদার্সের প্রথম জয়
চতুর্থ রাউন্ডের আরেক ম্যাচে ক্রিকেটার্স একাডেমিতে মুখোমুখি হয়েছিল সিটি ক্লাব ও ব্রাদার্স ইউনিয়ন। সিটি ক্লাবের দেয়া ২০৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বৃষ্টির বাঁধায় পড়ে ব্রাদার্স। ওপেনিংয়ে অধিনায়ক জাহিদুজ্জামান খান দলীয় সর্বোচ্চ ৫৮ রানের ইনিংস খেলেন। এ ছাড়াও ফিফটির দেখা পান উইকেটরক্ষক আদিল বিন সিদ্দিক। ৬৬ বলে বলে ৫৭ রান করেন তিনি। ৩৪ ওভারে ১ বলে তাদের রান যখন ১৫০ তখন হানা দেয় বৃষ্টি। বৃষ্টি আইনে ২৬ রানে জয়ী ঘোষণা করা হয় ব্রাদার্সকে। টুর্নামেন্টে ব্রাদার্সের এটি প্রথম জয়।
এর আগে টস হেরে ব্যাট কররে নেমে দলীয় ২৭ রানে অধিনায়ক মেহেদী মারুফের উইকেট হারায় সিটি ক্লাব। ২১ বলে ২৩ রান করেন তিনি। মিডল অর্ডারে বড় জুটি গড়েন দুই ব্যাটার এনামুল হক এনাম ও আহরার আমিন। দলীয় সর্বোচ্চ ৫১ রান করেন এনাম। শেষদিকে আর কেউ ইনিংস বড় করতে না পারলে ৪৭.১ ওভারে ২০৪ রানে অলআউট হয় সিটি ক্লাব। ব্রাদার্সের হয়ে পাঁচ উইকেট নেন গোলাম কিবরিয়া শাকিল। এ ছাড়াও শফিকুল ইসলাম ও সোহাগ গাজী দুইটি করে এবং শরিফুল ইসলাম একটি উইকেট নেন।