অজিদের জবাব দিতে নেমে শুরুতে বাংলাদেশ সাদমান ইসলামের উইকেট হারায়। এই ওপেনার ৩০ বলে ২০ রান করে আউট হন। মিচেল স্টার্কের বলে তিনি ক্যাচ দেন নাথান লায়নকে। এরপর তানজিদ হাসান ও মুমিনুল হক মিলে দিনের বাকি অংশ বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই পার করে দেন। তানজিদ ৩২ ও মুমিনুল ৩৫ রান করে অপরাজিত থাকেন।
এর আগে টসে হেরে বল হাতে নেমে ডারউইনে শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়াকে চাপে রাখেন বাংলাদেশের পেসাররা। ট্রাভিস হেড ও জ্যাক ওয়েদারল্ড শুরুতে কিছুটা মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। ইবাদত হোসেনের বলে শুরুতেই দুবার পরাস্ত হন হেড। পরে তার প্রথম ওভারে এলবিডব্লিউয়ের আবেদন করে বাংলাদেশ।
আম্পায়ার সাড়া না দিলে রিভিউ নেওয়া হলেও সফল হয়নি টাইগাররা। যদিও উইকেট পেতে খুব বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি বাংলাদেশকে। দলীয় ৪৫ রানে প্রথম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। হাসান মাহমুদের ফুলার লেন্থের বলে ব্যাটের কানায় লেগে লিটন দাসের ক্যাচ হন ৩৭ বলে ২৩ রান করা ওয়েদারল্ড। এরপর হাসানের বলেই ইনসাইড এজ হয়ে বোল্ড হন হেড। ৫২ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।
ইবাদতের বলে তানজিদ হাসান তামিম স্টিভেন স্মিথের ক্যাচ নিতে পারেননি। খানিক বাদেই ইবাদতের বলে ১ রান করা মার্নাস ল্যাবুশেনের ক্যাচ নেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ৬১ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। তাসকিন আহমেদের বলে ১৩ রান করা ক্যামেরন গ্রিনকে দারুণ ক্যাচে ফেরান মুশফিকুর রহিম।
৭৪ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। এর আগে স্মিথের ক্যাচের জন্য রিভিউ নিয়েও ব্যর্থ হয় বাংলাদেশ। ইবাদতের বলে স্মিথের ব্যাটের পাশ দিয়ে বল চলে যাওয়ার সময় শব্দ শোনা গেলেও স্নিকোমিটারে ব্যাটের কোনো স্পর্শ পাওয়া যায়নি। ফলে দ্বিতীয় রিভিউ নষ্ট হয় বাংলাদেশের। দ্বিতীয় সেশনে স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারি ৫৫ রানের জুটি গড়েন।
শেষ পর্যন্ত ইবাদতের বলে ইনসাইড এজ হয়ে বোল্ড হন ক্যারি। তাতেই ভাঙে অজিদের জুটি। এরপর তাসকিনের ইনসুইংয়ে বোল্ড হন বিউ ওয়েবস্টার। তাতেই ১৫২ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলতে থাকেন স্মিথ। ৭৬ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি।
এরপর প্যাট কামিন্সকে লিটন দাসের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান হাসান। এরপর মিচেল স্টার্ককেও নিজের শিকার বানিয়েছেন বাংলাদেশের এই পেসার। মাত্র ১ রান করে লিটনের ক্যাচে ফেরেন স্টার্ক। এতে অল আউট হওয়ার দ্বারপ্রান্তে চলে যায় অজিরা। এর মধ্যে দিয়ে দ্বিতীয় সেশনটিও নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ। ৪৮ ওভারে ১৮৩ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে চা বিরতিতে যায় অস্ট্রেলিয়া।
চা বিরতির পরও বাংলাদেশের দাপট অব্যাহত থাকে। শেষ পর্যন্ত স্মিথের প্রতিরোধও ভাঙেন হাসান। তার বলে টপ এজ হয়ে উইকেটের পেছনে লিটনের ক্যাচ হন স্মিথ। ১০৯ বলে ৭১ রান করে ফেরেন তিনি। এটি ছিল হাসানের পঞ্চম উইকেট। এরপর ৭ রান করা নাথান লায়নকে আউট করে অজিদের অল আউট করে দেন হাসান। এই পেসার ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করেন।