সবসময় টিভিতে দেখা অস্ট্রেলিয়ান পেসত্রয়ীর চ্যালেঞ্জ নিতে মুখিয়ে শান্ত

অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ সিরিজ
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজেলউড ও মিচেল স্টার্ক— এমন পেসত্রয়ীকে নিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট খেলবে অস্ট্রেলিয়া। বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সেরা পেসত্রয়ীকে সামলাতে ব্যক্তিগতভাবে মুখিয়ে আছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক জানিয়েছেন, ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে তাদের চাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভালো ব্যাটিং করা।

সর্বশেষ অ্যাশেজে নিয়মিত একসঙ্গে খেলতে পারেননি কামিন্স, হ্যাজেলউড ও স্টার্ক। অ্যাডিলেডে খেললেও বাকি টেস্টগুলোতে মাঠের বাইরে ছিলেন অধিনায়ক কামিন্স। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট থেকে সেরে ওঠার সময় অ্যাকিলিসে চোট পাওয়া হ্যাজেলউড পুরো সিরিজেই খেলতে পারেননি। এমনকি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও খেলতে পারেননি অস্ট্রেলিয়ার দুই তারকা পেসার।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অজিদের কাণ্ডারি হয়েছিলেন স্টার্ক। তাকে দারুণভাবে সঙ্গ দিয়েছিলেন স্কট বোল্যান্ড। বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজে অবশ্য তাদের সবাইকে একসঙ্গে পাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলার সুযোগ হয়েছে বাংলাদেশের। দেশের বেশিরভাগ ব্যাটারের তাদের বিপক্ষে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা নেই। বেশিরভাগ সময়ই তাদেরকে টিভিতে দেখতে হয়েছে। এবার তাদের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পাওয়ায় উচ্ছ্বসিত বাংলাদেশের ব্যাটাররা।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চারশ কিংবা সাড়ে চারশ রান করা সম্ভব কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে শান্ত বলেন, ‘সংখ্যার দিকে না যাই। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এটা একটা অনেক বড় সুযোগ যদি এরকম বোলিংয়ের বিপক্ষে আমরা ব্যাটাররা ভালো করতে পারি। যতটুকু আমরা অনুশীলন করার সুযোগ পেয়েছি এবং যতটুকু আমাদের মধ্যে আলোচনা হয় আমরা প্রত্যেকটা ব্যাটার অনেক রোমাঞ্চিত যে এই ধরনের চ্যালেঞ্জ আমরা মোকাবেলা করার সুযোগ পাচ্ছি।’

‘কত রান আমরা বোর্ডে দিতে পারব ওইদিকে যাচ্ছি না। এই চ্যালেঞ্জটা আমরা কত ভালোভাবে সামলাচ্ছি এবং চ্যালেঞ্জটা আমরা ‍উপভোগ করছি কিনা। সাধারণত, এরকম বোলিং আমরা খুব একটা সুযোগ পাই না টেস্ট ক্রিকেটে। সবসময় টিভিতে দেখারই সুযোগ হয়। এবার খেলতে পারছি একজন খেলোয়াড় হিসেবে ব্যক্তিগতভাবে আমার ভেতরে অনেক উচ্ছ্বাস কাজ করছে।’

সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাট হাতে ভালো করতে পারছেন না বাংলাদেশের ওপেনাররা। ব্যাট হাতে জ্বলে উঠতে না পারায় জিম্বাবুয়ে সফরের দল থেকে বাদ পড়েছেন মাহমুদুল হাসান জয়। তার জায়গায় পাঁচ বছর পর টেস্ট দলে সুযোগ পেয়েছেন সৌম্য সরকার। সবশেষ এনসিএলের পারফরম্যান্সের সঙ্গে বাউন্সি উইকেটে ভালো খেলতে পারার সামর্থ্যের কারণে দলে নেওয়া হয়েছে তাকে। সৌম্যর সঙ্গে আছেন সাদমান ইসলাম ও তানজিদ হাসান তামিম।

তাদের তিনজনের দুজনই ছিলেন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে। তবে দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা থাকায় তাদের উপর বিশ্বাস রাখছেন শান্ত। পাশাপাশি ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করতে না পারলেও উদ্বেগের কারণ দেখছেন তিনি। বরং ওপেনিংয়ে ব্যাটিং করা কতটা কঠিন সেটা সামনে এনেছেন বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক। শান্ত মনে করেন, ওপেনিংয়ে ব্যাটিংটা আরেকটু ভালো হলে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ একধাপ এগিয়ে যাবে।

শান্ত বলেন, ‘গত ম্যাচটা খেলেনি ওপেনাররা কিন্তু আমার মনে হয় দুইটা ওপেনারই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অনেক বছর ধরে খেলছে। অবশ্যই, ওইখানে কঠিন হবে। ওপেনিং নিয়ে অনেক কথা হয় কারণ ওইরকম ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তারা করে না। ওপেনিং পজিশনটাও অনেক কঠিন এটাও বুঝতে হবে। অনেক চ্যালেঞ্জ থাকে। আপনি দেখবেন কখনো দিনের ৫ ওভার বাকি তখন নামতে হচ্ছে আবার কখনো কখনো ভেজা উইকেটে ব্যাটিং করতে হচ্ছে।’

‘এই জায়গাটাতে আমি বলব তাদের অনেক চ্যালেঞ্জ। ওই চ্যালেঞ্জটা কিভাবে উপভোগ করছে ওইটা গুরুত্বপূর্ণ। ওই চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে কিনা ওইটা দেখতে হবে। আমি যতটুকু বাইরে থেকে দেখি বা দলের মধ্যে দেখি তারা যথেষ্ট চেষ্টা করে। আমি আবারও বলব এই জায়গায় যদি আমরা আরেকটু উন্নতি করতে পারি, ধারাবাহিক হতে পারি টেস্ট দলটা আমার মনে হয় আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।’

আরো পড়ুন: