তিন বলে তখন বাংলাদেশের দরকার ৪ রান। চতুর্থ বলটি শেখ মেহেদীর প্যাডে লাগতেই এলবিডব্লিউর সম্ভাবনা তৈরি হয়। তবে বল করার সময় ফিল্ডারের নড়াচড়ার কারণে আম্পায়ার আগেই ডেড বলের সংকেত দেন। সিদ্ধান্তটি নিয়ে ইভান্স ও তানজিদের মধ্যে কিছুক্ষণ তর্কও হয়। তবে পরের বলেই চার মেরে বাংলাদেশের নাটকীয় জয় নিশ্চিত করেন শেখ মেহেদী।
তাতেই শেষ ম্যাচে জয়ের সঙ্গে সিরিজ নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের। যদিও এই ম্যাচে একাদশ সাজাতেই হিমশিম খেতে হয়েছে বাংলাদেশকে। সিরিজ শুরুর পর চোটের কারণে ছিটকে গেছেন শরিফুল ইসলাম। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ম্যাচের মাঝেই সাইড স্ট্রেইনের চোটে পড়েন পেস তারকা নাহিদ রানা। তবে বাংলাদেশ যেভাবে চ্যালেঞ্জ সামলে সিরিজ জিতেছে তাতে সন্তুষ্ট অধিনায়ক হৃদয়।
তিনি সিরিজ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, 'কিছুটা চ্যালেঞ্জিং ছিল। কারণ দ্বিতীয় ম্যাচে ম্যাচের মাঝপথে রানা চোটে পড়ে। সেটি অবশ্যই আমার জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জিং ছিল। শেষ ম্যাচেও আমাদের একটি বিকল্প ছিল না। শরিফুল চোটে ছিল, তাকে আমরা মিস করেছি। আমাদের স্কোয়াডে ছিল মাত্র ১৩ জন খেলোয়াড়। এই দল নিয়েই লড়াই করতে হয়েছে। তবে এর আগেও এখানে যারা এসেছে, তাদের অনেকেই চোটে পড়েছে। ইনশাআল্লাহ, পরেরবার এখানে এলে এই জায়গাটায় আরও ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে, আরও যত্ন নিতে হবে।'
এই সিরিজ দিয়েই দেশের বাইরে নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা হয়েছে হৃদয়ের। প্রথম সিরিজেই দল জিতেছে তাই দারুণ আনন্দিত তিনি। পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে যেকোনো পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেয়া জরুরী ছিল। বাংলাদেশ সীমিত বিকল্পের মধ্যেই নিজেদের সেরা একাদশ সাজিয়ে লড়াই করেছে বলে জানিয়েছেন হৃদয়।
এ প্রসঙ্গে হৃদয় বলেন, 'অধিনায়ক হিসেবে এটি আমার জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জিং ছিল। কারণ আমাদের দুইজন মূল বোলার চোটে ছিল এবং স্কোয়াডে ছিল মাত্র ১৩ জন খেলোয়াড়। তাই পরিস্থিতি কিছুটা কঠিন ছিল। তবে পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে আপনাকে মানিয়ে নিতেই হবে। আমাদের বিকল্পও সীমিত ছিল। তাই শুধু ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেছি।'
আরও উন্নতির সুযোগ আগে বলেও মনে করেন হৃদয়। তিনি সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে বলেন, 'টি-টোয়েন্টি দল হিসেবে গত কয়েকটি সিরিজে আমরা সত্যিই ভালো করেছি, দেশে এবং বিদেশে। তবে দল হিসেবে আমাদের আরও কিছু জায়গায় উন্নতি করতে হবে। বিশ্বকাপ এখনও অনেক দূরের বিষয়। আপাতত আমরা ম্যাচ ধরে ধরে, সিরিজ ধরে ধরে এগোচ্ছি।'
নাহিদ রানাকে হারিয়ে সিরিজের মাঝ পথে ধাক্কা খেয়েছিল বাংলাদেশ। সিরিজ শেষে সেই কথাই স্বীকার করলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তিনি বলেন, 'আমরা জানতাম, সে (নাহিদ রানা) আমাদের বড় শক্তি। কিন্তু ম্যাচের মাঝপথে হঠাৎ চোটে পড়ে। এরপর আমরা বুঝতে পারি, পরিস্থিতি আমাদের জন্য কিছুটা কঠিন হয়ে গেছে। কারণ আমাদের হাতে সীমিত বিকল্প ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত যে বদলি হিসেবে এসে সাকলাইন ভালো করেছে।'