তানজিদ হাসানের হাফ সেঞ্চুরিতে বেশ ভালোই এগোচ্ছিল বাংলাদেশ। তবে শেষের দিকে বেশ কিছু উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে যায় টাইগাররা। শেষ ওভারে জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য ছিল ৬ রান। প্রথম বলে তানজিদ থার্ড ম্যানে ঠেকে এক রান নেন। পরের দুই বলে আউট হন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ফলে জয় নিয়ে শঙ্কা জাগে। পরের বলে নিশ্চিত এলবিডব্লিউ থেকে শেখ মেহেদী বেঁচে যান আম্পায়ার ডেড বল ডাকায়। কারণ রান আপ শুরুর পরও একজন ফিল্ডার নড়াচড়া করছিলেন মাঠে। যদিও পরের বলেই ৪ মেরে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন মেহেদী।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ৪ রান করেই ফেরেন ওপেনার সাইফ হাসান। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে তানজিদ হাসান তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমন দারুণ এক জুটি গড়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান। ইমন ২৪ রান করে ফিরলে ৫৫ রানের জুটি ভাঙে। এরপর তাওহীদ হৃদয়কে নিয়ে আরেকটি বড় জুটি গড়েন তানজিদ। তৃতীয় উইকেটে তারা যোগ করেন আরও ৬৩ রান।
হৃদয় ২৪ রান করে আউট হয়েছেন। ইয়াসির আলীও ম্যাচ শেষ করে আসতে পারেননি। তিনি ফেরেন ১০ রান করে। ইনিংসের শেষ ওভারে ব্র্যাড ইভান্সের ফুল টসে বোল্ড হয়েছেন ১ রান করা মোসাদ্দেক। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন কোনো রান না করেই টপ এজ হয়ে নিজের খেলা প্রথম বলেই ক্যাচ দেন। তবে শেখ মেহেদী বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেছেন। তানজিদ শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৫৮ বলে ৬৬ রান করে। জিম্বাবুয়ের হয়ে দুটি উইকেট নেন সিকান্দার রাজা। একটি উইকেট নেন রিচার্ড এনগারাভা ও ইভান্স।
এর আগে বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব মাঠে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে। ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়ের হয়ে সর্বোচ্চ ৭৩ রান করেছেন ডিওন মেয়ার্স। ৪৭ রান এসেছে ব্রায়ান বেনেটের ব্যাট থেকে। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই প্রথম উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে।
এরপর ব্রায়ান বেনেটকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন ডিওন মেয়ার্স। দ্বিতীয় উইকেটে দুজনে যোগ করেন ৭১ রান। দলীয় ৭৭ রানে ফিফটির আক্ষেপ নিয়ে ফিরতে হয় বেনেটকে। ৩৮ বলে ৮টি চারে ৪৭ রান করেন তিনি। এরপর চার নম্বরে নেমে বড় ইনিংস খেলতে পারেননি অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। মাত্র ৩ রান করে আউট হন তিনি।
তার বিদায়ে ১০৭ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। দলীয় ৬ রানে ওপেনার মারুমানি আউট হওয়ার পর ক্রিজে নামেন মেয়ার্স। ৩৮ বলে ৫টি চার ও ১টি ছক্কায় তুলে নেন ফিফটি। শেষ পর্যন্ত ইনিংস শেষ হওয়ার ২ বল আগে আউট হওয়ার আগে ৫৩ বলে ৭টি চার ও ২টি ছক্কায় ৭৩ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন তিনি।
বাংলাদেশের হয়ে একাই দুই উইকেট নেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। এ ছাড়া একটি করে উইকেট নিয়েছেন শেখ মেহেদী, রিশাদ হোসেন ও আব্দুল গাফফার সাকলাইন। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে উইকেট শূন্য থাকেন শুধু তাসকিন আহমেদ।