সবশেষ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ থেকেই যেন টেস্ট ক্রিকেটটা নতুনভাবে খেলতে শুরু করেছে বাংলাদেশ। নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বে প্রথমবারের মত সেই আসরে সাত নম্বরে শেষ করেছিল বাংলাদেশ। পাকিস্তানকে তাদের ঘরের মাটিতে হোয়াইটওয়াশের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজে গিয়েও প্রথমবার টেস্ট জেতে টাইগাররা। ক্রিকেট বিশ্লেষক হিসেবে স্বনামধন্য রমিজের ধারণা, টেস্ট ম্যাচে কিভাবে জয় আনতে হয় তা শিখে গেছে শান্তর এই দলটা।
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে রমিজ বলেন, 'আমার দেখা টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ এই প্রথম এত সাহসের সাথে ক্রিকেট খেলল। তাদের আসলে এভাবেই খেলা উচিত। কারণ তাদের মধ্যে এখন নির্ভীকতা কাজ করছে। তারা হারতে ভয় পাচ্ছিল না, বরং তারা দেখছিল যে এই টেস্ট ম্যাচটা জেতা যায় কীভাবে।'
এ প্রসঙ্গে রমিজ যোগ করেন, 'বাংলাদেশ তাদের সব তুরুপের তাস দারুণভাবে ব্যবহার করেছে। তাদের সিলেকশন ভালো ছিল, ৫ জন বোলার খেলিয়েছে। তারা অসাধারণ ব্যাটিং করেছে। টস হারার পরেও গ্রিন পিচে তারা ৪০০-র বেশি রান করে দিল। পাকিস্তান ৩০ রানে ২ উইকেট নিলেও তারা ১৭০ রানের পার্টনারশিপ করে ম্যাচ বের করে নিল। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ পাকিস্তানকে খোলা চ্যালেঞ্জ দিল যে, যদি সাহস থাকে তবে ২৬০ রান তাড়া করে দেখাও।'
২০২৩ সালে দায়িত্ব নিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশের টেস্ট দলের চেহারা বদলে দিয়েছেন শান্ত। সাতটি জয় নিয়ে বাংলাদেশের সফলতম টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে নাম লিখিয়েছেন মুশফিকুর রহিমের নামের পাশে। এই সাত জয়ের মধ্যে পাকিস্তান ছাড়াও নিউজিল্যান্ডের মত দলকে হারিয়েছে শান্তর দল। নেতা হিসেবে শান্তকে বেশ মনে ধরেছে রমিজের। টেস্ট ম্যাচ জুড়ে ধারাভাষ্যেও শান্তর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তিনি।
শান্তর অধিনায়কত্ব প্রসঙ্গে রমিজ যোগ করেন, 'বাংলাদেশ জয় পাওয়ার যোগ্য কারণ তাদের একজন খুব ভালো অধিনায়ক আছে, তাদের থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক তাদের বলে যে, নিজেদের চ্যালেঞ্জ করো এবং প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলো।'
বাংলাদেশের দারুণ পারফরম্যান্সের সামনে নিজের উত্তরসূরীদের অসহায় আত্মসমর্পণ কাছ থেকে দেখছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক সভাপতি রমিজ। পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদের অধিনায়ক হিসেবে থেকে যাবার সমালোচনা করেন রমিজ। তার ধারণা, টেস্ট ম্যাচ জেতার জন্য যে একাগ্রতার প্রয়োজন তা এই পাকিস্তান দলে নেই।
পাকিস্তানের সমালোচনা করে রমিজ বলেন, 'শান মাসুদের অধিনায়কত্বে তারা সাফল্য ছাড়াই খেলে যাচ্ছে। এখন ভাবার সময় এসেছে যে, তাদের কি আরও লম্বা সময় সুযোগ দেওয়া হবে, নাকি পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে? পাকিস্তানের একটা 'মেন্টাল ব্লক' (মানসিক বাধা) তৈরি হয়েছে। এবং এই মেন্টাল ব্লক বেশ অনেকদিন ধরেই চলছে। এ ছাড়া রান তাড়া করার জন্য যে একাগ্রতা বা আত্মবিশ্বাসের প্রয়োজন, সেটা এখন আর পাকিস্তান দলে দেখা যাচ্ছে না।'