রাওয়ালপিন্ডিতে হওয়া সেই সিরিজের আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট জয়ের স্মৃতি ছিল না বাংলাদেশের। তবে সেবছর নিজেদের পুরনো ইতিহাস বদলে ফেলে তারা। ২৬ রানে ৬ উইকেট হারালেও সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচ জিতে বাংলাদেশ। এমনকি ২-০ ব্যবধানে সিরিজও জিতে। ২০২৪ সালের পর এবারই প্রথম বাংলাদেশের সঙ্গে টেস্ট খেলবে পাকিস্তান।
স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশ সফরে প্রতিশোধ নিতে চাইবে পাকিস্তান। তবে এভাবে চিন্তা করছেন না শান মাসুদ। পাকিস্তানের অধিনায়ক বলেন, ‘আমরা আমাদের পক্ষ থেকে ‘প্রতিশোধ’–এর মতো শব্দ ব্যবহার করি না। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ দল যেভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিল এবং খেলেছে, তার জন্য তাদের কৃতিত্ব দিতেই হবে। এমনকি যখন আমরা সুবিধাজনক অবস্থানে ছিলাম; যেমন তাদের ২৬ রানে ৬ উইকেট পড়ে গিয়েছিল—তখনো তারা লড়াই করে টেস্ট ম্যাচ জেতার মতো দক্ষতা ও সক্ষমতা দেখিয়েছে।’
আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সবশেষ তিন চক্রে ফাইনালে উঠতে পারেনি পাকিস্তান। পয়েন্ট টেবিলে বাবরদের সর্বোচ্চ অবস্থান ছিল পাঁচ। গত সিরিজে সাউথ আফ্রিকার সঙ্গে ভালো করায় নতুন চক্রে ফাইনাল খেলার স্বপ্ন দেখছে তারা। সিরিজ শুরুর দুদিন আগে সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন শাহীন শাহ আফ্রিদি। বাঁহাতি পেসার জানিয়েছিলেন, তাদের নজর শুধু বাংলাদেশকে হারানো নয় বরং টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলা।
শান মাসুদ অবশ্য পুরো নজর রাখছেন বাংলাদেশ সিরিজেই। তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে বর্তমানে থাকা ও পরিস্থিতিটাকে সম্মান করা। আমরা বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলছি, যেটা একই সঙ্গে চ্যালেঞ্জেরও এবং সুযোগও। আমরা এখান থেকে খুব দূরে তাকাতে পারি না, ধাপে ধাপে যেতে হবে। সব দলই ফাইনালের স্বপ্ন দেখে, ট্রফি জেতারও, কিন্তু এই মুহূর্তে আমাদের পুরো নজরটাই বাংলাদেশ সিরিজে।’
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বাংলাদেশের জয়ে অবদান রাখছেন না নাহিদ রানা, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলামরা। ঐতিহ্যগতভাবেই যুগের পর যুগ পাকিস্তান দারুণ সব পেসার তৈরি করেছে। বাংলাদেশ সফরেও আছেন শাহীন আফ্রিদি, মোহাম্মদ আব্বাস, খুররম শাহজাদরা। বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণকে শক্তিশালী মানলেও তুলনায় যেতে চান না পাকিস্তানের অধিনায়ক।
শান মাসুদ বলেন, ‘তাদের বোলিং আক্রমণ অত্যন্ত শক্তিশালী; আমি এ পর্যন্ত যা দেখেছি, সম্ভবত এটিই তাদের সেরা আক্রমণ। আমরা দুই দলের বোলিং ইউনিটের মধ্যে কোনো তুলনায় যাব না, কারণ দুই পক্ষেই মানসম্পন্ন বোলার রয়েছে।’