অধিনায়ক আইয়ারকে দেখে আজহারউদ্দিনের কথা মনে পড়ে রায়নার

আইপিএল
শ্রেয়াস আইয়ার, বিসিসিআই
শ্রেয়াস আইয়ার, বিসিসিআই
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
গত মৌসুমে পাঞ্জাব কিংসে যোগ দিয়েই দলকে প্রথম আইপিএল শিরোপার খুব কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিলেন শ্রেয়াস আইয়ার। গত আসরের অপ্রতিরোধ্য পাঞ্জাব এবারের আসরেও আছে দারুণ ছন্দে। দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়া শ্রেয়াসের অধিনায়কত্বে মুগ্ধ ভারতের সাবেক ক্রিকেটাররাও। ২০১১ বিশ্বকাপজয়ী অলরাউন্ডার সুরেশ রায়নাকে আইয়ারের অধিনায়কত্ব মনে করিয়ে দেয় কিংবদন্তি অধিনায়ক মোহাম্মদ আজহারউদ্দিনের কথাও।

অধিনায়ক হিসেবে আইপিএলে দারুণ সফল আইয়ার। ২০২০ সালে দিল্লি ক্যাপিটালসকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে ফাইনালে তোলেন তিনি। পরে দল বদলে কলকাতা নাইট রাইডার্সে এসে ২০২৪ সালে আইপিএল শিরোপা জেতান দলকে। শিরোপা জেতার পরের মৌসুমেই কলকাতা আইয়ারকে ছেড়ে দিলেও অধিনায়ক আইয়ারের ফর্ম তখনও তুঙ্গে। নতুন দল পাঞ্জাবে প্রথম মৌসুমেই পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থেকে দলকে তোলেন প্লে অফে।

‎প্লে অফে দারুণ পারফর্ম করে ফাইনালে উঠলেও নিয়তির কাছে সেবার শিরোপা হারাতে হয় আইয়ারকে। গত আসরের সেই ফর্ম এবারের আসরেও টেনে এনেছেন এই অধিনায়ক। এবারের মৌসুমের প্রথম অংশেও পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে ছিল পাঞ্জাব। বর্তমানে ৯ ম্যাচে ছয় জয় নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে আইয়ারের পাঞ্জাব।

‎অধিনায়কত্বের এমন রেকর্ডই শুধু নয়, মাঠ ও মাঠের বাইরে অধিনায়ক আইয়ারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ রায়না। জিও হটস্টারের সাথে আলাপকালে রায়না বলেন, 'সে যেখানেই গেছে, যে ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়েই খেলেছে, সেখানেই ক্রিকেটের এক ভিন্ন ব্র্যান্ড নিয়ে এসেছে। অধিনায়ক হিসেবে সে নির্ভীক থেকেছে এবং সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে।'

‎শ্রেয়াসের অধিনায়কত্ব প্রসঙ্গে রায়না আরো যোগ করেন, 'দিল্লি হোক,কলকাতা হোক কিংবা পাঞ্জাব,সব জায়গাতেই তার প্রভাব দেখা গেছে। এমনকি পাঞ্জাবও গত বছর ১১ বছর পর ফাইনালে খেলেছিল। কেন সে একজন ভালো অধিনায়ক, সেটা বোঝা যায়; কারণ মাঠের বাইরের যোগাযোগ এবং বোঝাপড়াটাও দারুণ।'

শুধু অধিনায়ক আইয়ার নন, ব্যাটার আইয়ারও আছেন দুর্দান্ত ফর্মে। এবারের আসরে ৯ ম্যাচ খেলে মোট ৩২৮ রান করেছেন এই ব্যাটার। গড়টা অবিশ্বাস্য, ৫৪.৬৭। দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবার এই গুণের কারণে আইয়ারের আত্মবিশ্বাস ছড়িয়ে যায় পুরো দলের মাঝেই। তার এমন মানসিকতা কিংবদন্তি আজহারউদ্দিনকে মনে করিয়ে দেয় রায়নাকে।

‎এ প্রসঙ্গে রায়না বলেন, ‘সে নিজের খেলোয়াড়দের ভরসা দেয়। আর যখন তাকে ওই দাপুটে ভঙ্গিতে হাঁটতে দেখো, তার শরীরী ভাষা আমাকে মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন ভাইয়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। আজহারউদ্দিন যখন অধিনায়ক ছিলেন, তখন তার আশপাশের খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসই ছিল আলাদা মাত্রার।’

রায়না আরো যোগ করেন, ‘প্রত্যেকের নেতৃত্ব দেওয়ার ধরন আলাদা, আর শ্রেয়াসের মধ্যে আপনি একসঙ্গে স্থিরতা ও সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দুটোই পাবেন। পাঞ্জাব যখন ব্যাট করে, তখন তাদের পুরোপুরি আক্রমণাত্মক মানসিকতা দেখা যায়, একইভাবে বোলিংয়েও।’

আরো পড়ুন: