ওভার মুখ্য নয়, প্রথম ইনিংসে ৪০০ চায় বাংলাদেশ

বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজ
বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজের ট্রফি উন্মোচন, ক্রিকফ্রেঞ্জি
বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজের ট্রফি উন্মোচন, ক্রিকফ্রেঞ্জি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ঘরের মাঠে ধারাবাহিক ভালো ফল না পাওয়াটা বাংলাদেশের জন্য বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নতুন চক্র শুরু হওয়ার আগে তাই নিজেদের দুর্বলতার জায়গাগুলো নিয়ে ভাবছে বাংলাদেশ দল। ঘরের মাঠে ধারাবাহিক হওয়ার জন্যে প্রথম ইনিংসে বড় রানের বিকল্প দেখছেন না অধিনায়ক নাজমূল হোসেন শান্ত।

২০২৩-২৫ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে বাংলাদেশ জিতে চারটি ম্যাচে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২০২৩ সালে ঘরের মাঠে ম্যাচ জয়ের পর ২০২৪ সালের আগস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজটি ২-০ ব্যবধানে জিতে বাংলাদেশ।

২০২৪ সালের নভেম্বরে কিংস্টনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একটি টেস্ট ম্যাচও জিতে শান্তর দল। সর্বশেষ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে দেশের বাইরে ছয় ম্যাচে তিনটি জয় পেলেও, ঘরের মাঠে সমান সংখ্যক ম্যাচে জিতেছে মাত্র একটি।

পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে এই প্রসঙ্গেই কথা বলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ঘরের মাঠে দল কেন পিছিয়ে পড়ছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি ব্যাটিংকেই বড় কারণ হিসেবে তুলে ধরেন।

শান্ত বলেন, 'অধিনায়ক হিসেবে চাইব যে ঘরের মাঠে বেশির ভাগ ম্যাচগুলো যেন আমরা জিতি এই চক্রে। ব্যাটসম্যান হিসেবে আমি ব্যক্তিগতভাবে যেটা চাই দলের কাছ থেকে, প্রথম ইনিংসে আমরা যেন ভালো ক্রিকেট খেলি সব সময়। এই চ্যালেঞ্জটা যদি আমরা ঠিকভাবে নিতে পারি, আমার মনে হয় এই চক্রটা আরও ভালো হবে।'

পরিসংখ্যানও বলছে, ঘরের মাঠে ব্যাটিংয়ে পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ। গত চক্রে দেশের মাটিতে খেলা ছয় টেস্টে মাত্র একবার তিন শতাধিক রান করতে পেরেছিল দল। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেই ম্যাচে ৩১০ রান এসেছিল প্রথম ইনিংসে। বাকি কোনো ম্যাচেই দুই শতাধিক রান তুলতে পারেনি বাংলাদেশ।

এবার সেই জায়গাতেই উন্নতি দেখতে চান অধিনায়ক। শান্তর মতে, প্রথম ইনিংসে চার শতাধিক রান করতে পারলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়া সহজ হয়ে যাবে। একই সঙ্গে ব্যাটসম্যানদের নিজস্ব খেলার ধরন বদলানোর পক্ষেও নন তিনি।

শান্ত আরো বলেন, '(প্রথম ইনিংসে) চার শর বেশি রান যদি আমরা করতে পারি, সেটা দলের জন্য খুব ভালো। একটা জিনিস বুঝতে হবে, একেকজনের খেলার ধরন একেক রকম। আমি চাই না যে কেউ তা পরিবর্তন করুক। যে যেভাবে খেলতে পছন্দ করে, সে সেভাবেই খেলুক। রান করাটাই গুরুত্বপূর্ণ। ৮০ ওভারে যদি আমরা ৪০০ করতে পারি কোনো সমস্যা নেই, যদি কেউ ১২০ ওভার লাগায়, তাতেও আমার কোনো সমস্যা নেই।'

বাংলাদেশের বর্তমান ব্যাটিং লাইনআপে অভিজ্ঞতারও অভাব নেই। পাকিস্তানের বিপক্ষে দলে থাকা নতুন দুই মুখ তানজিদ হাসান ও অমিত হাসান ছাড়া প্রায় সবাই খেলেছেন অন্তত ২০টি টেস্ট। তবে তাদের বেশির ভাগ ম্যাচই ছিল বিদেশের মাটিতে। এবার ঘরের কন্ডিশনে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আশা করছে দল।

মিরপুরের উইকেট নিয়েও আশাবাদী শান্ত। তার মতে, সাম্প্রতিক সময়ে এই মাঠের উইকেটে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। তিনি বলেন, 'যে রকম কন্ডিশনই থাকুক, ওই অনুযায়ী কত ভালো ব্যাটিং করা যায়, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সম্প্রতি যদি মিরপুরের উইকেট দেখেন, বিশেষত সাদা বলের ক্রিকেট, আমরা কয়েকটা সিরিজ খেললাম আগের থেকে অনেক ভালো উইকেটে। এখন আশা করাই যেতেই পারে যে ধীরে ধীরে এ জায়গাটাতে ব্যাটসম্যানরা আরেকটু ভালো ব্যাটিং করতে পারবে।'

আরো পড়ুন: