সাইফ-নাইমের ব্যাটে বিসিএলের শিরোপা সেন্ট্রাল জোনের

বিসিএল ফাইনাল
ক্রিকফ্রেঞ্জি
ক্রিকফ্রেঞ্জি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
বিসিএল ওয়ানডের এবারের আসরে ব্যাট হাতে আলো ছড়িয়েছেন তাওহীদ হৃদয়। ফাইনালেও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে খেললেন ৯৬ রানের দৃষ্টিনন্দন এক ইনিংস। তাঁর ব্যাটেই ভর করেই আগে ব্যাট করে ২৩৮ রানের পুঁজি নিশ্চিত করে নর্থ জোন। তবে সাইফ হাসান ও নাইম শেখের দেড়শ পেরুনো জুটির কাছে পাত্তা পায়নি নর্থ জোন। তারকাবহুল দলটিকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে সেন্ট্রান জোন। আর তাতেই বিসিএল ওয়ানডে সংস্করণের শিরোপা জিতে নেয় সেন্ট্রাল।

মাঝারি লক্ষ্যে খেলতে নেমে ভালো শুরু পায়নি সেন্ট্রাল জোন। তারা শুরুতেই হারায় জিসান আলমের উইকেট। জিসানকে সাজঘরে ফিরিয়েছেন পেসার নাহিদ রানা। এই পেসারের বলে কাট করতে গিয়ে কট বিহাইন্ড হয়ে ফেরেন সেন্ট্রালের এই ওপেনার। তার ব্যাট থেকে আসে মাত্র ১৪ রান।

জিসান ফিরলেও দ্বিতীয় উইকেটে নাইম ও সাইফ মিলে সেন্ট্রাল জোনের হাল ধরেন। দুজনই সমান গতিতে খেলতে থাকেন। তাদের ব্যাটেই ১৬ ওভারে দলীয় একশ পূরণ হয়ে যায় দলটির। ৪৯ বলে এদিন হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন সাইফ। রিশাদ হোসেনকে মিড অফে ফ্লিক করে এক রান নিয়েই মাইলফলকে পৌঁছান তিনি।

সাইফ হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেয়ার খানিক বাদেই পঞ্চাশের দেখা পেয়েছেন নাইমও। তিনি মেহরব হোসেনকে কাউ কর্নার দিয়ে ছক্কা মেরে হাফ সেঞ্চুরিতে পৌঁছান মাত্র ৬৩ বলে। এক সময় মনে হচ্ছিল সাইফ ও নাইম বোধ হয় ম্যাচ শেষ করেই আসবেন। তবে এই দুজনের ১৬৪ রানের বিশাল জুটি ভেঙেছেন রিশাদ হোসেন। এই লেগ স্পিনারের বলে ৮৭ বলে ৭৮ রানের ইনিংস খেলে বোল্ড হয়েছেন নাইম। তার ইনিংস সাজানো ছিল ৩টি ছক্কা ও ৭টি চারে।

নাইমের মতো সেঞ্চুরি মিসের আক্ষেপে পুড়েছেন সাইফও। তিনি ৭৮ বলে ৮৬ রান করে আউট হয়েছেন। শরিফুল ইসলামের করা শর্ট বলে মিড অন দিয়ে উড়িয়ে মারতে গিয়ে তাওহীদ হৃদয়ের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি। তার ইনিংস সাজানো ছিল ৩টি ছক্কা ও ৭টি চারে। এরপর উইকেট থিতু হতে পারেননি মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। তিনি ৮ বলে ৬ রান করে ফিরে যান নাহিদের দ্বিতীয় শিকার হয়ে। তবে ততক্ষণে ম্যাচ হাতের মুঠো থেকে বেরিয়ে গেছে নর্থ জোনের। বাকি সময়টা দেখেশুনে খেলে সেন্ট্রাল জোনের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন মাহফিজুল ইসলাম রবিন। দলের এক রান বাকি থাকতে আউট হয়ে ফেরেন ইরফান শুক্কুর।

এদিন মিরপুর শের ই বাংলা স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ভালো শুরু পায়নি নর্থ জোন। তারা ৩৪ রানের মধ্যেই হারায় ২ উইকেট। শুরুটা অবশ্য সতর্কভাবেই করেছিলেন দুই ওপেনার হাবিবুর রহমান সোহান ও তানজিদ তামিম। যদিও ইনিংস বড় করতে পারেননি সোহান। ৫ রান করে ফিরলে ২২ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙে। অন্য প্রান্তে তানজিদ খেলেন ২২ বলে ২৩ রানের ছোট কিন্তু কার্যকর ইনিংস। দ্রুত দুই উইকেট হারানোর পর তিন নম্বরে নেমে ইনিংস সামলান শান্ত।

হৃদয়ের সঙ্গে তার জুটিতে আসে ৫২ রান। ৫১ বলে ৩৫ রান করে আউট হন শান্ত। অন্যদিকে হৃদয় ছিলেন অবিচল। ৯৮ বল মোকাবিলা করে ৯৬ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন তিনি। তার ইনিংস জুড়ে ছিল একটি ছক্কা ও আটটি চার। মাঝে এসএম মেহেরাব হোসেন ও সাব্বির রহমান উইকেটে থিতু হওয়ার ইঙ্গিত দিলেও কেউই ইনিংস বড় করতে পারেননি।

মেহেরাব করেন ২৮ রান, সাব্বিরের ব্যাট থেকে আসে ৪৩ বলে ২৪ রান। শেষদিকে রিশাদ হোসেন ১৮ বলে ১৬ রান যোগ করে দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন। সেন্ট্রাল জোনের হয়ে সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট নেন রিপন মন্ডল। পাশাপাশি দুটি উইকেট নিয়েছেন তাসকিন আহমেদ ও রাকিবুল হাসান। একটি উইকেট যায় সাইফ হাসানের ঝুলিতে।

আরো পড়ুন: