বিসিবি সম্মান ফেরত না দিলে আর ক্রিকেট খেলবেন না বিজয়

বাংলাদেশ ক্রিকেট
বিসিএলের ফাইনাল দেখতে মিরপুরে এসেছিলেন এনামুল হক বিজয়, ছবি: তানভির হোসেন, ক্রিকফ্রেঞ্জি
বিসিএলের ফাইনাল দেখতে মিরপুরে এসেছিলেন এনামুল হক বিজয়, ছবি: তানভির হোসেন, ক্রিকফ্রেঞ্জি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে (বিসিএলে) খেলার কথা ছিল এনামুল হক বিজয়। সাউথ জোনের স্কোয়াডে থাকলেও শেষ পর্যন্ত খেলেননি ডানহাতি উইকেটকিপার ব্যাটার। দেশের ঘরোয়া টুর্নামেন্টে না খেললেও বিসিএলের ফাইনালের দিন মিরপুরে এসেছিলেন বিজয়। স্টেডিয়াম চত্তরে দাঁড়িয়ে সতীর্থ লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্তদের খেলা দেখে হয়ত আক্ষেপে পুড়েছেন তিনি। স্টেডিয়াম থেকে বের হওয়ার আগে বিজয় নিশ্চিত করেছেন, বিসিবি সম্মান ফেরত না দেওয়ার আগ পর্যন্ত আর ক্রিকেট খেলবেন না তিনি।

২০২৫ বিপিএলে দুর্বার রাজশাহীর হয়ে খেলেছিলেন বিজয়। ফ্র্যাঞ্চাইজিটির হয়ে অধিনায়কত্ব করার পাশাপাশি দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকও ছিলেন তিনি। যদিও টুর্নামেন্টের মাঝ পথে অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় তাকে। বাংলাদেশের টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পর বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার, কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ফিক্সিংয়ের অভিযোগ উঠে। পরবর্তীতে স্বাধীন তদন্ত কমিটিও গঠন করে বিসিবি।

যার পরিপ্রেক্ষিতে বিপিএলের গত আসরের নিলামের আগে ৯ জন ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগ আসায় বিসিবির দুর্নীতি দমন বিভাগের পরামর্শক অ্যালেক্স মার্শালের পরামর্শে এনামুলসহ মোসাদ্দেক হোসেন, আলাউদ্দিন বাবু, সানজামুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, নিহাদুজ্জামান ও শফিউল ইসলাম। বিসিবি যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি তাদের কার বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ আছে।

এমন অবস্থায় বিপিএলে খেলা হয়নি তাদের কারও। বিপিএলে না থাকলেও দেশের অন্যান্য ঘরোয়া টুর্নামেন্টে খেলতে বাধা ছিল তাদের। যদিও অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপে সুযোগ হয়নি বিজয়, মোসাদ্দেকের। চার দলের বিসিএল টুর্নামেন্টে রাখলেও খেলেননি বিজয়। ডানহাতি উইকেটকিপার জানান, এক টুর্নামেন্টে খেলতে দেওয়া হবে আরেকটিতে হবে না এভাবে তো চলতে পারে না।

এ প্রসঙ্গে বিজয় বলেন, ‘আমাকে একটা টুর্নামেন্ট খেলতে দেওয়া হবে, একটা টুর্নামেন্ট খেলতে দেওয়া হবে না। এভাবে তো চলতে পারে না। আমি তো এমন না পেশাদার ক্রিকেটার না বা তৃতীয় বিভাগ খেলছি বা আমি কোনোক্রিকেট খেলতেছি না, উড়ে এসে জুড়ে বসলাম। ব্যাপারটা এমন না। আমার পেছনে একটা ক্যারিয়ার আছে। ১০-১২ বছর ধরে জাতীয় দলে খেলছি, ৫১টা সেঞ্চুরি করা খেলোয়াড় আমি। আমি তো এমনি এমনি উড়ে আসিনি। অনূর্ধ্ব-১৯ দলে অধিনায়কত্ব করছি, ‘এ’ দলের হয়ে অধিনায়কত্ব করেছি। আমি তো একটা নরমাল খেলোয়াড় না যে আমি আসলাম আর বললাম। জিনিসটা এত দীর্ঘ হওয়া উচিত না।’

অভিযোগ আসার পর নিজের ফেসবুক পেইজে লাইভে এসেছিলেন বিজয়। সেই সময় বিসিবিকে চ্যালেঞ্জ করে বলেছিলেন, প্রমাণ দেখাতে পারলে তিনি আর কখনো ক্রিকেট খেলবেন না। এমনকী প্রমাণ পেলে তাকে আজীবন বহিষ্কার করার কথাও বলেন তিনি। তবে কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কিছু দেখাতে পারেনি বিসিবি। এতদিন ধরে ঝুলিয়ে রাখায় বিষয়টি হাস্যকর মনে হচ্ছে বিজয়ের। তিনি মনে করেন, কেউ কিছু করে থাকলে এতদিন লাগার কথা না।

বিজয় বলেন, ‘এটা আসলে হাস্যকর। আমার কাছে মনে হয় কেউ যদি কোনো কিছু করে থাকে তার জন্য এক মাস, এক সপ্তাহ, দুই সপ্তাহ যথেষ্ট বের করার জন্য। দুই বছর ধরে কারোর ব্যাপারে কেউ বের করতে পারছে না, জানে না, তার মানে সে কিছু করে নাই। ব্যাপারটা তো এরকমই হওয়া উচিত। কিন্তু আমি জানি না আমি নাসায় জব করি কিনা। নাসায় জব করলে বলতে পারতাম আমি অনেক বুদ্ধিমান মানুষ।

‘আমি এমন কিছু করেছি কেউ বুঝতে পারছে না, একদম নীরবে। যদি বোঝা যেতো প্রকাশ্যেই বোঝা যেতো যে আমি করতেছি কিনা। আর আমি এত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারতাম না যে আমি কিছু করি নাই। আমি তো বলতেছি আমি কিছু করি নাই, করলে আপনি প্রমাণ দেখান। আমি আর ক্রিকেট খেলব না। এখনো বলতেছি আমার খেলার দরকার নাই।’

মাস চারেক পেরিয়ে গেলেও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে পারছে না বিসিবি। বিজয় অপরাধী নাকি অপরাধী না সেটাও বলতে পারছে না মার্শালের দুর্নীতি দমন বিভাগ। অভিযোগ থাকায় ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) গত আসরে শুরুতে দল পাননি বিজয়। পরবর্তীতে দল পেলেও খেলতে হয়েছে কম পারিশ্রমিকে। আগামী আসরেও এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হতে পারে তাকে। বিসিএলে না খেলা বিজয় আবারও কবে ফিরবেন ক্রিকেটে? ডানহাতি ব্যাটার জানান, বিসিবি সম্মান ফিরিয়ে দিলেই আবারও ক্রিকেট খেলা শুরু করবেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আজকে যদি বলি হার্ডলাইনের কথা আমার ক্রিকেট খেলার দরকার নাই। যতক্ষণ পর্যন্ত না উনারা (বিসিবি) আমাকে সম্মান ফেরতে দিচ্ছে, সসম্মানে সবাইকে জানাচ্ছে বিজয় অপরাধী না। বিজয়ের পেমেন্ট ক্লিয়ার হয়েছে, বিজয়ের সঙ্গে পুরোপুরি ভুলে হয়েছে গেছে, সন্দেহের তালিকায় ছিল। এই জিনিসটা সুন্দর (ঠিক) হয়ে গেছে। এখন সব ধরনের খেলা ও খেলতে পারবে। সুন্দর করে বিসিবি যখন বলবে তখন আমি ক্রিকেট খেলব।’

‘তার আগে এমন না বিসিএল খেললে আমার...এর আগেও আমি বহুত সেঞ্চুরি মারছি। এই মাঠে আমার অনেক সেঞ্চুরি আছে, অন্য জায়গায় যেখানে খেলি অনেক সেঞ্চুরি আছে। আপনারা অনেক ভালোবাসা দিছেন, অনেক পাইছি আলহামদুলিল্লাহ। এখন আমার সম্মান দরকার। সম্মানের জন্য ছোটবেলা থেকে ক্রিকেট খেলে আসছি, টাকার জন্য না। সেটা আমি আবার ফেরত পেতে চাই।’

সমাধান পেতে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান মিঠুর সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে যোগাযোগ করেছেন বিজয়। সভাপতির সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেও কথা বলতে পারেননি। এমনকি ডানহাতি ব্যাটারের মেসেজের জবাব দেননি বুলবুল। বাকি দুই পরিচালক ফারুক ও মিঠু শুধু আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন।

বিজয় বলেন, ‘আমি বুলবুল ভাইয়ের সাথে এখন পর্যন্ত আমি ফোনে (কথা বলতে) পাই নাই। এসএমএস করেছি উনাকে (আমিনুল ইসলাম বুলবুল)। অনুরোধ করছি ভাইয়া আমি আপনার সাথে কথা বলতে চাই। উনি কথা বলেনি, রিপ্লাইও দেয়নি। ফারুক ভাইয়ের সাথে কথা হয়েছে, উনি বলেছে দেখি বিষয়টা। আর মিঠু ভাই তো সবসময় বলে দেখি, দেখি, দেখি হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। ব্যাপারটা এভাবেই রয়ে গেছে। এখন আল্লাহর উপর ছেড়ে দিছে মনে হয়।’

আরো পড়ুন: