কয়েক শ কোটি টাকা ক্ষতির মুখে বাংলাদেশ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
বাংলাদেশ দল
বাংলাদেশ দল
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
বাংলাদেশ ক্রিকেটের সামনে এখন এক কঠিন ও চূড়ান্ত বাস্তবতা। নিরাপত্তাশঙ্কার কারণে সহ আয়োজক দেশ ভারত থেকে ম্যাচ না সরালে বাংলাদেশ যে এবারের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলবে না। সে সিদ্ধান্তে সরকার ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) অনড়। হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বিশ্বকাপ দলে থাকা ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকের পর যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের বক্তব্য ‘সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই’ এই অবস্থানকে স্পষ্ট করেছে।

এর অর্থ হলো, আইসিসি ভেন্যু পরিবর্তন না করলেও বাংলাদেশ ভারতে গিয়ে ম্যাচ খেলবে না। ফলে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সামনে বড় ধরনের আর্থিক ও ক্রিকেটীয় ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিসিবির আয়ের বড় অংশ আসে আইসিসি থেকে। বোর্ডের মোট আয়ের প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশই আইসিসি রাজস্ব বণ্টনের অংশ। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নিলে এই খাত থেকে কোনো অর্থই পাবে না বিসিবি।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বকাপে না খেললে বাংলাদেশ প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার, অর্থাৎ ৩৩০ কোটির বেশি টাকা আয়ের সুযোগ হারাবে। এ ছাড়া অংশগ্রহণ ফি (৩ লাখ ডলার), ম্যাচ জয়ের বোনাস ও প্রাইজমানির সুযোগও থাকবে না। আইসিসির কাছে গ্রহণযোগ্য কারণ দেখাতে ব্যর্থ হলে বিসিবিকে প্রায় ২০ লাখ ডলার জরিমানাও গুনতে হতে পারে।

এর সঙ্গে যুক্ত হবে সম্প্রচার স্বত্ব ও স্পনসরশিপ থেকে সম্ভাব্য বড় ক্ষতি। সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ না খেললে দেশের সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান ও বিজ্ঞাপন বাজারে কয়েক শ কোটি টাকার লোকসান হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতি আরও গভীর। ভারতের বিপক্ষে ভবিষ্যৎ দ্বিপক্ষীয় সিরিজ অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে, যা বিসিবির বড় আয়ের উৎস।

পাশাপাশি আইসিসির ভবিষ্যৎ রাজস্ব বণ্টন চক্রে বাংলাদেশের বরাদ্দ কমে যাওয়া, এমনকি প্রশাসনিক প্রভাব খর্ব হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। ক্রিকেটীয় দিক থেকেও প্রভাব গুরুতর। এবারের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেললে আগামী বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সরাসরি খেলার সুযোগ নাও থাকতে পারে; বাছাইপর্ব পেরিয়ে উঠতে হতে পারে মূল পর্বে। সব মিলিয়ে, একটি সিদ্ধান্তই বাংলাদেশ ক্রিকেটকে আর্থিক, প্রশাসনিক ও প্রতিযোগিতামূলক—তিন দিক থেকেই বড় সংকটের মুখে ফেলেছে।

আরো পড়ুন: