বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাচ্ছে না বাংলাদেশ, চুপ বিসিসিআই সভাপতি

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
নিরাপত্তা ঝুঁকির কোনো পরিবর্তন না হওয়ায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানানোর পাশাপাশি আসিফ নজরুল আক্ষেপ করেই বলছিলেন, বিসিসিআই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেনি। মুস্তাফিজুর রহমানকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া ঘটনার শুরু থেকেই একদম নীরব দেশটির ক্রিকেট বোর্ড। বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাচ্ছে না বাংলাদেশ! সেই প্রশ্নেও চুপ থাকলেন মিঠুন মানহাস। বাংলাদেশের প্রসঙ্গে করা কোন প্রশ্নের উত্তরই দেননি বিসিসিআই সভাপতি।

বিজেপির একাংশ ও বেশ কয়েকটি উগ্র ধর্মীয় সংগঠনের তোপের মুখে মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দিতে বাধ্য হয় বিসিসিআই। ভারতের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্সও তাদের স্কোয়াড থেকে বাংলাদেশের তারকা পেসারকে ছেড়ে দেয়। এমন ঘটনার জেরে নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সেখান থেকেই টানাপোড়েন শুরু।

পরবর্তী সময়ে আইসিসিকে দু’বার চিঠি দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো সরিয়ে নিতে অনুরোধ করে বিসিবি। চিঠি দেয়ার পর আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বোর্ডের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে বৈঠক করেন আইসিসির শীর্ষ কর্মকর্তারা। গত ১৭ জানুয়ারি বাংলাদেশশের সঙ্গে আলোচনা করতে অ্যান্ড্রু এফগ্রেভকে প্রতিনিধি হিসেবে পাঠায় বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। কয়েক ঘণ্টার বৈঠকেও সমাধান আসেনি।

বাংলাদেশের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বোর্ড সভার আয়োজন করে আইসিসি। সেখানেও তাদের মন গলাতে পারেননি বুলবুল। পরবর্তীতে ভোটের আয়োজন করা হলে একমাত্র পাকিস্তান বাংলাদেশের পক্ষে ভোট দিয়েছে। যার ফলে আইসিসি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বিশ্বকাপ খেলতে হলে বাংলাদেশকে ভারতেই যেতে হবে। সরকারের সঙ্গে আলোচনা করতে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছ থেকে ২৪ ঘণ্টা চেয়ে নেয় বিসিবি। সেই সময়ের মধ্যে ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন আসিফ নজরুল।

লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্তদের সঙ্গে আলোচনা শেষে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা নিশ্চিত করেন, নিরাপত্তা ঝুঁকির কোন পরিবর্তন না হওয়ায় বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাবে না বাংলাদেশ। তাদের এমন সিদ্ধান্তের পরও চুপচাপ বিসিসিআই। ভারত ও নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি দেখতে রায়পুরে গেছেন মিঠুন মানহাস। সেখানে বিমানবন্দরে তাকে ঘিরে ধরেন ভারতীয় সাংবাদিকরা।

বাংলাদেশের ভারতে না যাওয়া নিয়ে বারবার প্রশ্ন করলেও উত্তর দেননি তিনি। এএনআইয়ের ভিডিওতে দেখা যায়, বাংলাদেশ প্রসঙ্গে সব প্রশ্নই এড়িয়ে গেছেন বিসিসিআই সভাপতি। গাড়িতে ওঠার সময় মিঠুন বলেন, ‘রায়পুরে আমি ভারত ও নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি দেখতে এসেছি।’

বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে যাতে শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হয় সেজন্য আইসিসিকে আবারও চিঠি দিয়েছে বিসিবি। পাশাপাশি বাংলাদেশের দাবিটি আইসিসির স্বাধীন ডিসপিউট রেজোল্যুশন কমিটির কাছে পাঠানোর অনুরোধও করা হয়েছে। এদিকে ২২ জানুয়ারি কলকাতার ইডেন গার্ডেন্স ভেন্যু পরিদর্শন করেছেন বিসিসিআই ও আইসিসির প্রতিনিধিরা। বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য তাদেরকে সবুজ সংকেতও দিয়েছে তারা।

আরো পড়ুন: