তৃতীয় ওয়ানডের বাংলাদেশ দলে শেখ মেহেদি
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডের জন্য দলে যুক্ত করা হয়েছে অফস্পিনার শেখ মেহেদী হাসানকে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডের জন্য দলে যুক্ত করা হয়েছে অফস্পিনার শেখ মেহেদী হাসানকে।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর ভাইরাল হয় ড্রেসিংরুমে বলা মুস্তাফিজুর রহমানের কথাগুলো। বিশ্বকাপ জিততে হলে দলের মান কীভাবে আরো উপরে তোলা যায় সেটা নিয়েই মতামত জানাচ্ছিলেন মুস্তাফিজ। টাইগার এই পেসারের কথার সঙ্গে শতভাগ একমত সৌম্য সরকার। তৃতীয় ওয়ানডে শুরুর আগের দিন তেমনটাই জানিয়েছেন এই অলরাউন্ডার।
২১ বছর অপেক্ষার পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে জয়ের স্বাদ পেয়েছিল বাংলাদেশ। সেই জয়ের পর দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও পাঁচ উইকেটের জয় তুলে নিয়ে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। এবার টাইগারদের লক্ষ্য অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করা।
রাইলি মেরেডিথের বলে ছক্কা মেরে বাংলাদেশের সিরিজ জয় নিশ্চিত করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পরই হাসপাতালে যেতে হয় বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ককে। হাসপাতাল থেকে অবশ্য বাসায় ফিরেছেন মাথায় আঘাত পাওয়া মিরাজ। স্পিন বোলিং অলরাউন্ডারকে নিয়েই তৃতীয় ওয়ানডের জন্য দল ঘোষণা করেছে বিসিবি।
অজি পেসার রাইলি মেরেডিথকে ছক্কা মেরে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। সেই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজ জয়ের ইতিহাসও গড়ে বাংলাদেশ। ম্যাচ জেতানো ওই ছক্কার পর স্বস্তি ফিরে আসে বাংলাদেশ শিবিরে।
বাংলাদেশের ক্রিকেটের সেরা সময় বলা হয় ২০১৫-২০১৯ সময়কালকে। তখন ওয়ানডে ফরম্যাটে পাকিস্তান, ভারত ও সাউথ আফ্রিকার মতো দলকে ঘরের মাঠে নাস্তানাবুদ করেছিল টাইগাররা। কিন্তু সেই সময় শুধুমাত্র ওয়ানডে ক্রিকেটেই দাপট দেখিয়েছে বাংলাদেশ। এবারে যেন সেই সেরা সময়কেও ছাপিয়ে গেছেন ক্রিকেটাররা। টেস্ট, ওয়ানডে কিংবা ট-টোয়েন্টি, তিন ফরম্যাটেই ধারাবাহিকভাবে বড় দলের মতই ক্রিকেট খেলছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ক্রিকেটের এমন ধারাবাহিক উন্নতির প্রসংশা করেছেন পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার কামরান আকমল, পাকিস্তানেরও বাংলাদেশের পদাঙ্ক অনুসরণ করা উচিৎ বলে মনে করেন তিনি।
আশির দশকের ওয়েস্ট ইন্ডিজ যেকোনো দলকে নিয়েই রীতিমতো ছেলেখেলা করত, ২০০০ সালের শুরুর দিকের অস্ট্রেলিয়াও প্রায় একই ধাঁচের ক্রিকেট খেলে প্রতিপক্ষকে চেপে ধরতো। কিংবা সাম্প্রতিক সময়ের ভারত সেই আধিপত্য ধরে রেখেছে। এবার তাদের সঙ্গেই বাংলাদেশের তুলনা টেনেছেন পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার বাসিত আলী।
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটে যেমন প্রত্যাশা ছিল অনেক। তবে সরকারি সিদ্ধান্তে ভারতে বিশ্বকাপ খেলা হয়নি বাংলাদেশের। অনেকেই মনে করেন সীমিত ওভারের এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনেক ভালো করার সুযোগ ছিল। এই আক্ষেপ নিশ্চিতভাবেই বাড়িয়েছে বাংলাদেশ দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স।
কদিন আগেই পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জয়টা একটু আলাদা। ২১ বছরের খরা কাটিয়ে দ্বিতীয় ওয়ানডে জয়ের পর সিরিজটাও বাগিয়ে নিয়েছে টাইগাররা। প্রথমবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে ওয়ানডে সিরিজ হারানোয় ক্রিকেটার, সমর্থকদের মধ্যে আনন্দের সীমা নেই। তাসকিন আহমেদ বাড়তি আনন্দে পাচ্ছেন ভালো উইকেটে হারাতে পেরে। ডানহাতি এই পেসার মজার ছলে বলার চেষ্টা করলেন, এখন আর কেউ ধানক্ষেত বলে খোঁচা দিতে পারবে না।
কার্ডিফে রিকি পন্টিং, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট কিংবা গ্লেন ম্যাকগ্রাদের অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে পুরো বিশ্বকে চমকে দিয়েছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল, হাবিবুল বাশাররা। সেই জয়ের পর কয়েকটা বছর পেরিয়েছে, দুই যুগে গোটা পনেরো ওয়ানডে ম্যাচও খেলেছে বাংলাদেশ। তবুও অস্ট্রেলিয়াকে ওয়ানডেতে হারাতে পারেনি টাইগাররা। ২১ বছরের সেই অপেক্ষার অবসান ঘটেছে মিরপুরে। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের সঙ্গে নাহিদ রানার আগুনে বোলিংয়ে ৮৬ রানের জয়ে খরা কাটায় বাংলাদেশ।
২১ বছর অপেক্ষার পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে জয়ের স্বাদ পেয়েছিল বাংলাদেশ। সেই জয়ে সিরিজ জয়ের সম্ভাবনাও উঁকি দিচ্ছিল। প্রথম ম্যাচে হারের ধাক্কায় অস্ট্রেলিয়া মিচেল মার্শকে দেশ থেকে উড়িয়ে আনলেও দ্বিতীয় ওয়ানডেতে তাকে খেলায়নি। রিজার্ভে থাকা রাইলি মেরিডিথকে একাদশে নিয়েও লাভ হয়নি। দ্বিতীয় ম্যাচে ৫ উইকেটের জয় তুলে নিয়ে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ চলছে। এর মাঝেই ৩ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের দল ঘোষণা করেছেন নির্বাচকরা। সবশেষ নিউ জিল্যান্ড সিরিজে বিশ্রাম পেয়েছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান, নাহিদ রানা ও তাসকিন আহমেদ। বেশ কয়েকজনকে সুযোগ দিতেই তাদের বিশ্রামের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন নির্বাচকরা।