৩২ বলে হাফ সেঞ্চুরি পাওয়া ডানহাতি ব্যাটার সেঞ্চুরি করলেন ৫২ বলে। হেলমেট খুলে দু’হাত প্রসারিত করে সেঞ্চুরির উদযাপন সারলেন নিশাঙ্কা। পাশাপাশি নিশ্চিত করেছেন শ্রীলঙ্কার জয়ও। ১৮২ রানের লক্ষ্য স্বাগতিকরা পেরিয়ে গেছে ১২ বল বাকি থাকতেই। অস্ট্রেলিয়াকে ৮ উইকেটে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে জায়গা করে নিয়েছেন দাসুন শানাকারা। বিশ্বকাপের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও রেকর্ড রান তাড়া করেছে তারা।
শ্রীলঙ্কার হ্যাটট্রিক জয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের দ্বারপ্রান্ত অস্ট্রেলিয়া। নিজেদের শেষ দুই ম্যাচের যেকোন একটিতে জিততে পারলেই শ্রীলঙ্কার সঙ্গে সুপার এইটে উঠবে জিম্বাবুয়ে। সিকান্দার রাজার জিম্বাবুয়ে যদি দুই ম্যাচের দুইটিতেও হারে তাহলে শেষ ম্যাচে ওমানকে বড় ব্যবধানে হারাতে হবে অস্ট্রেলিয়াকে। সেটা করতে না পারলে ২০০৯ সালের পর গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হবে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের।
রান তাড়ায় ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই কুশল পেরেরার উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। তবে দ্বিতীয় উইকেটে হাল ধরে স্বাগতিকদের ভালো শুরু এনে দেন কুশল মেন্ডিস ও নিশাঙ্কা। তাদের দুজনের ব্যাটে পাওয়ার প্লেতে ৬১ রান তোলে শ্রীলঙ্কা। জুটি গড়ার পাশাপাশি দ্রুত রান তুলে দলকে জয়ের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন তারা। দারুণ ব্যাটিংয়ে ৩৫ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন মেন্ডিস। যদিও পঞ্চাশ ছোঁয়ার পর ফিরতে হয় তাকে। মার্কাস স্টইনিসের বলে ছক্কা মারার চেষ্টায় কুপার কনোলির হাতে ক্যাচ দিয়েছেন ৩৮ বলে ৫১ রানের ইনিংস খেলে।
মেন্ডিসের পাশাপাশি ৩২ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন নিশাঙ্কা। পঞ্চাশ ছোঁয়ার পর আরও আক্রমণাত্বক হয়ে উঠেন ডানহাতি এই ওপেনার। ম্যাচ জিততে শেষ ৬ ওভারে ৬৫ রান করতে হতো শ্রীলঙ্কাকে। সেঞ্চুরির জন্য নিশাঙ্কার প্রয়োজন ছিল ৪২ রান। দুই ওভার বাকি থাকতেই সেঞ্চুরির করার পাশাপাশি দলের জয় নিশ্চিত করেন তিনি। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পেয়েছেন নিশাঙ্কা। এ ছাড়া মাহেলা জয়াবর্ধনের পর শ্রীলঙ্কার প্রথম ব্যাটার হিসেবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। ৫২ বলে একশ করে অপরাজিত ছিলেন নিশাঙ্কা। আরেক ব্যাটার পবন রত্নায়েকে ১৫ বলে ২৮ রান করেছেন।
এর আগে ট্রাভিস হেড ও মিচেল মার্শের ব্যাটে দুর্দান্ত শুরু পায় অস্ট্রেলিয়া। উদ্বোধনী জুটিতে তারা দুজনে মিলে যোগ করেন ১০৪ রান। ২৯ বলে ৫৬ রান করেন হেড। অধিনায়ক মার্শের ব্যাট থেকে এসেছে ২৭ বলে ৫৪ রান। দুই ওপেনারের বিদায়ের পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় অজিরা। জশ ইংলিসের ২৭ ও ম্যাক্সওয়েলের ২২ রানের সুবাদে ১৮১ রান তোলে অস্ট্রেলিয়া। শ্রীলঙ্কার হয়ে দুশান হেমন্থ তিনটি ও চামিরা নিয়েছেন দুইটি উইকেট।