হারমানপ্রীত-স্মৃতিদের জন্যও উন্মুক্ত নারী বিপিএল

নারী বিপিএল
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
আইপিএলের বাইরে বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলার অনুমতি নেই বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, অভিষেক শর্মা, শুভমান গিলদের। যদিও হারমানপ্রীত কৌর, স্মৃতি মান্ধানাদের বিদেশি লিগে খেলতে বাধা নেই। দ্য হান্ড্রেডের পাশাপাশি বিগ ব্যাশ, সিপিএলেও নিয়মিতই খেলেন ভারতের নারী ক্রিকেটাররা। প্রথমবারের মতো আয়োজিত নারী বিপিএলেও দেখা যেতে পারে তাদের কাউকে। রুবাবা দৌলা নিশ্চিত করেছেন, সব দেশের ক্রিকেটারদের জন্যই উন্মুক্ত টুর্নামেন্টটি। অর্থাৎ অনাপত্তি পত্র পেলে এবং ফ্র্যাঞ্চাইজিদের আগ্রহ থাকলে বাংলাদেশের বিপিএলেও দেখা যেতে পারে স্মৃতি-হারমানপ্রীতদের।

নাজমুল হাসান পাপন, ফারুক আহমেদরা আশ্বাস দিলেও নারী বিপিএল আয়োজন করতে পারেননি। তবে আমিনুল ইসলাম বুলবুল আশা দেখানোর কয়েক মাস পরই সেটা আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। রুবাবা দৌলার প্রচেষ্টায় প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নারী বিপিএল। টুর্নামেন্টের পর্দা উঠবে আগামী ৪ এপ্রিল, ফাইনাল হবে ১৪ এপ্রিল নববর্ষের দিন। দুই ভেন্যুতে হবে তিন দলের টুর্নামেন্ট।

ভেন্যু হিসেবে মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সঙ্গে চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়াম বেছে নিয়েছে বিসিবি। নারী বিপিএলের পর্দা উঠবে চট্টগ্রাম। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে সেখানেই হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। তবে ফাইনাল হবে মিরপুর। যদিও এখনো তিনটি ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানা চূড়ান্ত করতে পারেনি তারা। দরপত্র আহ্বান করায় আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সেটা চূড়ান্ত হতে পারে।

এ প্রসঙ্গে টুর্নামেন্টের গভর্নিং কাউন্সিলের প্রধান বলেন, ‘আপনারা জানেন আমরা আগেই ঘোষণা দিয়েছিলাম ৩ এপ্রিল থেকে ১৫ এপ্রিলের মধ্যে এটি হবে। এখন পর্যন্ত আমরা যেটা নির্ধারণ করেছি, ৪ এপ্রিল আমাদের প্রথম ম্যাচ শুরু হবে। খেলাটি আমরা চট্টগ্রামে শুরু করব। এরপর আমরা সমাপনী অনুষ্ঠানটি করব ঢাকায় এবং সেটি হবে ১৪ এপ্রিল অর্থাৎ নববর্ষের দিন।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা তিনটি ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকদের কথা বলেছি। এখানে তিনটি দল খেলবে মোট ছয়টি ম্যাচ এবং ফাইনাল হবে। চট্টগ্রামে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে। আশা করছি খুব ভালো হবে। অনেকদিন পর চট্টগ্রামে খেলা হচ্ছে। আমরা আশা করছি সামনে ভালো কিছু ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক পাব। এরপর ড্রাফট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খেলোয়াড় নির্বাচন করা হবে।’

ছেলেদের বিপিএলে নিলাম হলেও মেয়েদের বিপিএলে খেলোয়াড়দের কেনা হবে ড্রাফট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। তিনটি দলের জন্য তিনজন আইকন ক্রিকেটার থাকতে পারে। এ ছাড়া ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’ এবং ‘ডি’ ক্যাটাগরি থেকে ক্রিকেটারদের কিনে দল সাজাতে হবে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের। দেশি ক্রিকেটারদের পাশাপাশি বিপিএলে দেখা যাবে বিদেশিদেরও। রুবাবা নিশ্চিত করেছেন, একাদশে অন্তত দুজন করে বিদেশি ক্রিকেটার রাখতে হবে। সর্বোচ্চ তিন থেকে চারজনও হতে পারে।

টুর্নামেন্টের গভর্নিং কাউন্সিলের প্রধানের বিশ্বাস, নারী বিপিএলে আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটাররা আসবেন। ফ্র্যাঞ্চাইজিদের জন্য সরাসরি চুক্তির সুযোগ রাখতে পারে বিসিবি। এ ছাড়া ভারতসহ সব দেশের ক্রিকেটারদের জন্যই নারী বিপিএল উন্মুক্ত রাখছে তারা। যার ফলে দ্য হান্ড্রেড, বিগ ব্যাশ ও সিপিএলের মতো নারী বিপিএলেও দেখা যেতে পারে স্মৃতি, হারমাপ্রীত, রিচা ঘোষদের মতো তারকা ক্রিকেটারদের। যদিও সেটা পুরোপুরি নির্ভর করছে ভারতীয় ক্রিকেটারদের অ্যাভেইলএবল থাকা ও এনওসি পাওয়ার উপর।

রুবাবা দৌলা বলেন, ‘আমরা আশা রাখছি এখানে কিছু আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ও আসবে। আমরা সেই সুযোগ দিচ্ছি। আমরা বলেছি প্রতি দলে ন্যূনতম দুজন এবং সর্বোচ্চ ৩ থেকে ৪ জন আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় থাকতে পারে। আমরা বিষয়গুলো সামনে চূড়ান্ত করব এবং একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত জানাব।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘বেশ কিছু আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় ইতোমধ্যে আগ্রহ দেখিয়েছেন। দলগুলো চূড়ান্ত হওয়ার পর তারা খেলোয়াড়দের সাথে যোগাযোগ করবে। এখানে কিছু তারকা খেলোয়াড়ও থাকতে পারে। আমরা সব দেশের খেলোয়াড়দের জন্যই উন্মুক্ত রাখছি।’

আরো পড়ুন: