গত জুন-জুলাইয়ে আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফরের দলে প্রথমবার ডাক পান সূর্যবংশী। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হলেও তিন ম্যাচে করতে পারেন মাত্র ৪২ রান। এরপর জিম্বাবুয়ে সফরে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান তিনি। প্রথম ম্যাচেই ফিফটি করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে কম বয়সে পঞ্চাশ ছোঁয়ার রেকর্ড গড়েন। শেষ ম্যাচে করেন ৮১ রান, সিরিজসেরার পুরস্কারও ওঠে তাঁর হাতে।
তবে এরপর ঘরের মাঠে আফগানিস্তানের বিপক্ষে কোনো ম্যাচেই সুযোগ পাননি সূর্যবংশী। তার জায়গায় একাদশে ফেরেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পাওয়া সাঞ্জু স্যামসন। এশিয়ান গেমসে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেমিফাইনালে একাদশে ফিরলেও সূর্যবংশী করেন ৩৮ রান, পাকিস্তানের বিপক্ষে ফাইনালে করেন ১৫। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের সিরিজের দলেও আছেন তিনি। তবে কত ম্যাচে সুযোগ পাবেন, সেটি এখনো অনিশ্চিত।
সূর্যবংশীকে অপেক্ষা করতে হবে, গত মাসেই এমন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন গম্ভীর। এবারও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে ভারতীয় কোচ বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে ভালো করা সাঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মার জায়গা শুধু বাইরের চাপের কারণে বদলাতে চান না।
গম্ভীর বলেন, ‘এটা আমার জন্যও নতুন অভিজ্ঞতা ছিল। হ্যাঁ, সে ভালো ফর্মে ছিল, তবে আমি তাকে বুঝিয়েছি যে, যারা লম্বা সময় ধরে ভালো করে আসছে, তাদের কারণে মাঝেমধ্যে তাকে সুযোগের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।’
একাদশ নির্বাচনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনা কিংবা বাইরের চাপকে গুরুত্ব না দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন গম্ভীর। তার ভাষায়, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিংবা বাইরের শোরগোলের ওপর ভিত্তি করে একাদশ সাজানো হয় না। এটা নির্ভর করে ড্রেসিংরুমে কারা আছে, কোচ ও অধিনায়কের সিদ্ধান্ত, অর্থাৎ কারা ম্যাচ জেতাতে পারবে, সেরা একাদশ কোনটি এবং কারা দীর্ঘদিন ধরে ভালো খেলে আসছে, সেটার ওপর।’
সূর্যবংশীকে খেলাতে হলে সাঞ্জু কিংবা অভিষেকের একজনকে বাদ দিতে হবে। গম্ভীর মনে করেন, দীর্ঘদিনের সাফল্য পাওয়া একটি সমন্বয় হুট করে ভেঙে ফেলা ঠিক হবে না। তিনি বলেন, ‘এখন যদি বৈভব খেলে, তাহলে অভিষেক বা সাঞ্জু, যাকেই বাদ দেয়া হবে, তার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করাটা বেশ কঠিন হবে। গত দেড়-দুই বছর ধরে যে সমন্বয় দারুণ প্রভাব ফেলেছে, সেটাকে তো হুট করে উপেক্ষা করা যায় না।’
গম্ভীরের মতে, কয়েকটি ম্যাচে ব্যর্থ হলেই দীর্ঘদিন ভালো করা ক্রিকেটারকে বাদ দেয়া উচিত নয়। তিনি বলেন, ‘মাত্র তিন-চারটি ম্যাচে ব্যর্থ হওয়ার পরই তাদের বাদ দিয়ে কোনো প্রতিভাবান ও ভালো ফর্মে থাকা তরুণ খেলোয়াড়কে খেলানো ঠিক হবে না। তাই অনেক সময় সুযোগের জন্য অপেক্ষা করতে হয়, কারণ আমরা ড্রেসিংরুমে সেই আস্থার পরিবেশ বজায় রাখতে চাই।’