২০১৬ সালে প্রথমবার ভারতের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পান হারমানপ্রীত। এরপর তার নেতৃত্বে বেশ কিছু ঐতিহাসিক সাফল্য পেয়েছে ভারত। এর মধ্যে ওয়ানডে বিশ্বকাপ ও এশিয়ান গেমসে সোনা জয়ের মতো অর্জনও রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে তার নেতৃত্ব ও ব্যাটিং নিয়ে অবশ্য সমালোচনা চলছিল। তার জায়গায় সহ-অধিনায়ক স্মৃতি মান্ধানার দায়িত্ব নেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে হারমানপ্রীত লিখেছেন, ‘আজ আমি ভারতের নারী ক্রিকেট দলের সব সংস্করণের অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি। এটি সহজ কোনো সিদ্ধান্ত নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বছরের পর বছরের স্মৃতি, আবেগ, ত্যাগ এবং এমন অনেক মুহূর্ত, যা সারা জীবন আমার সঙ্গে থাকবে।’
অধিনায়ক হিসেবে দলকে সবার আগে রাখতে গিয়ে অনেক সময় নিজের ব্যক্তিগত চাওয়া ও পারফরম্যান্সকে পেছনে রেখেছেন বলেও জানিয়েছেন হারমানপ্রীত। তিনি লিখেছেন, ‘আমি এই দল ও ভারতীয় নারী ক্রিকেটকে আমার সবকিছু দিয়েছি, আমার রক্ত, ঘাম, সময় এবং অনেক সময় নিজের খেলা ও ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষারও একটা অংশ। কারণ আমি বিশ্বাস করতাম, দলের স্বার্থই সবার আগে।’
অধিনায়কত্বে নেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও সেগুলো সব সময় দলের ভালোর জন্যই ছিল বলে দাবি করেন হারমানপ্রীত। তার ভাষায়, ‘অধিনায়ক হিসেবে আমাকে কঠিন কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। সব সিদ্ধান্ত সবাই বুঝতে পারেনি, সব সিদ্ধান্ত সহজও ছিল না। কখনো কখনো এর ব্যক্তিগত মূল্যও দিতে হয়েছে। তবে প্রতিটি সিদ্ধান্তের পেছনে একটাই উদ্দেশ্য ছিল, দলকে আরও ভালো করা এবং অন্য খেলোয়াড়দের বেড়ে ওঠার, নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখার ও সেরাটা দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া।’
অধিনায়কত্ব ছাড়লেও ক্রিকেট থেকে সরে যাচ্ছেন না হারমানপ্রীত। এবার শুধু খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে মনোযোগ দিতে চান তিনি। বিদায়ী বার্তায় বলেছেন, ‘আজ আমি আবেগে পূর্ণ হৃদয় নিয়ে অধিনায়কত্ব ছাড়ছি, তবে মনে শান্তি আছে। কারণ আমি সত্যিই বিশ্বাস করি, আমার দল ভালো জায়গায় আছে। প্রতিভা, চরিত্র, বিশ্বাস ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, সবই এই দলে আছে। অধিনায়কত্ব শেষ, যাত্রা চলবে।’