সিরিজের আগের পাঁচ ইনিংসে দুইশ রানের গণ্ডি পেরোতে পারেনি পাকিস্তান। এবার অবশ্য দ্বিতীয় ইনিংসে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৪৪৯ রান করেছে তারা। আজান আওয়াইসের ৫৯, শান মাসুদের ৯৫ ও বাবর আজমের ৭৬ রানের পরও একসময় পাকিস্তানের সাড়ে তিনশ রান করা নিয়েই ছিল সংশয়।
সেই সময় ৩১৮ রানে আট উইকেট হারিয়ে ইনিংস হার এড়াতেই হিমশিম খাচ্ছিল পাকিস্তান। ৯ নম্বরে নামা রাজাউল্লাহ এরপর মোহাম্মাদ আব্বাসকে সঙ্গে নিয়ে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন। মাত্র ১২৩ বলে দুজন মিলে যোগ করেন ১২১ রান। এর মধ্যে রাজাউল্লাহর ব্যাট থেকেই আসে ৭০ রান।
অভিষেক টেস্ট খেলতে নামা ২১ বছর বয়সী এই পেসার শেষ পর্যন্ত ৬৩ বলে ৮১ রান করে আউট হন। তার ইনিংসে ছিল চারটি চার ও নয়টি ছক্কা। টেস্ট অভিষেকে ৯ ছক্কা মেরে তিনি ছুঁয়েছেন টিম সাউদির রেকর্ড। ২০০৮ সালে অভিষেকেই সমানসংখ্যক ছক্কা মেরেছিলেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক এই পেসার।
রাজাউল্লাহর আগে আব্বাসও দেখিয়েছেন দারুণ প্রতিরোধ। ৬৭ বলে ৪২ রানের ইনিংসে পাঁচটি চার ও দুটি ছক্কা মারেন তিনি। তাদের জুটিতেই ১৩০ রানের লক্ষ্য দিতে পেরেছে পাকিস্তান। দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগে শেষ উইকেটটি হারানোয় চতুর্থ দিনে এই রান তাড়া করতে নামবে ইংল্যান্ড।
এর আগে পাকিস্তানের ইনিংস গড়ার ভিত তৈরি করেন আজান, মাসুদ ও বাবর। আজানের সঙ্গে ১২৫ রানের জুটি গড়েন মাসুদ। ৪০ রানে জীবন পেয়ে ৯৫ রান করেন পাকিস্তান অধিনায়ক। সেঞ্চুরি থেকে মাত্র পাঁচ রান দূরে থাকতে গাস অ্যাটকিনসনের বলে থিও লরেন্সের দুর্দান্ত ক্যাচে ফেরেন তিনি।
বাবরও পেয়েছিলেন বড় ইনিংসের আভাস। ৭৬ রানের পথে পাকিস্তানের পঞ্চম অধিনায়ক হিসেবে টেস্টে দুই হাজার রান পূর্ণ করেন তিনি। তবে শতকের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হয়েছে তার। অ্যাটকিনসনের বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তিনি।
এরপর দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে পাকিস্তান। প্রথম দুই টেস্টে বড় ব্যবধানে হারের পর পাকিস্তানের দলে পরিবর্তনের অংশ হিসেবে ইংল্যান্ডে আসা সাত ক্রিকেটারের একজন ছিলেন রাজাউল্লাহ।
অভিষেকেই তার এমন ইনিংস এখন পাকিস্তানকে সিরিজে হোয়াইটওয়াশের হাত থেকে অন্তত সাময়িকভাবে বাঁচিয়েছে। তবে চতুর্থ দিনে ১৩০ রান করতে পারলেই তিন ম্যাচের সিরিজে ইংল্যান্ডের পূর্ণাঙ্গ জয় নিশ্চিত হবে।