টস জিতে আগে ব্যাট করতে নামা নাইট রাইডার্স শুরুতে বেশ ভালোই এগোচ্ছিল। পঞ্চম ওভারে তাদের রান ছিল ৪১, তখনও বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু এরপরই ম্যাচের গতিপথ বদলে দেন মিরাজ। টানা দুই বলে কলিন মুনরো ও নিকোলাস পুরানকে ফিরিয়ে নাইট রাইডার্সের ব্যাটিংয়ে বড় ধাক্কা দেন বাংলাদেশের এই অফ স্পিনার। তার ওই জোড়া আঘাতের পর গায়ানার স্পিনাররা আরও চেপে বসেন ব্যাটারদের ওপর।
মিরাজের আঘাতেই থেমে থাকেনি নাইট রাইডার্সের বিপর্যয়। পাওয়ারপ্লের পর থেকে ১৩তম ওভার পর্যন্ত মাত্র একটি বাউন্ডারি আসে তাদের ব্যাট থেকে। এই সময়ের মধ্যে আরও দুই উইকেট হারিয়ে চাপ বাড়তে থাকে। দশম ওভারে অ্যালেক্স হেলস ফিরে যাওয়ার পর ১৩তম ওভারে আবারও বল হাতে এসে জাইড গুলিকে বোল্ড করেন মিরাজ। এরপর ১৫তম ওভারে তার শিকার হন সুনীল নারাইন।
শেষদিকে জাস্টিন গ্রিভস ৩৭ বলে ৩৭ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে ১৭তম ওভারে শামার জোসেফ তাকে ফিরিয়ে দিলে নাইট রাইডার্সের বড় সংগ্রহের শেষ আশাটুকুও শেষ হয়ে যায়।। কাইরন পোলার্ডও সাত নম্বরে নেমে তেমন কিছু করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১২৬ রানেই থামে তাদের ইনিংস। চার ওভারে মাত্র ২৩ রান খরচায় গুরুত্বপূরণ ৪ উইকেট নেন মিরাজ।
এরপর ১২৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে গায়ানাও শুরুতে খুব দ্রুত এগোতে পারেনি। পাওয়ারপ্লেতে ৩৫ রান তুলতেই একটি উইকেট হারায় তারা। গ্লেন ফিলিপসকে ফেরান উসমান তারিক। তবে শাই হোপ ও শিমরন হেটমায়ার মিলে ৪৯ রানের জুটি গড়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেন। ১৩তম ওভারে নারাইন হেটমায়ারকে ফেরালেও গায়ানার জয় তখন সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। শেষ পর্যন্ত ১৯তম ওভারে চার ও ছক্কা মেরে দলকে জয় এনে দেন অপরাজিত শাই হোপ, ৪২ রান করেন ৩৫ বলে।
এই ম্যাচের আগে সিপিএলে অভিষেকটাও দুর্দান্ত হয়েছিল মিরাজের। সেন্ট লুসিয়া কিংসের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই চার ওভারে মাত্র ১৩ রান দিয়ে নিয়েছিলেন ৩ উইকেট। জন ক্যাম্পবেলকে দিয়ে শুরু করে কেমল স্যাভরি ও চরিথ আসালঙ্কাকেও ফেরান তিনি। তার সঙ্গে ইমরান তাহিরের জুটিতে মাত্র ১১৯ রানেই অলআউট হয়েছিল সেন্ট লুসিয়া।