ভারতীয় ক্রিকেটারদের সামনে আবারও ঠাসা সূচি। এর মধ্যেই ভবিষ্যত সূচিতে খেলোয়াড়দের পর্যাপ্ত বিশ্রামের বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে বিসিসিআই। সাম্প্রতিক পর্যালোচনা সভার পর বিসিসিআই সচিব দেবজিত সাইকিয়াও স্বীকার করেছেন, অতিরিক্ত ম্যাচ খেলার কারণে ক্রিকেটারদের চোটের ঝুঁকি বাড়ছে।
বিশেষ করে বিদেশ সফরের আগে বিশ্রাম, প্রস্তুতি ও কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য বাড়তি সময় রাখার পরিকল্পনা করছে বোর্ড। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সূচি নতুন করে ভাবার পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার দাবি তুলেছেন গাভাস্কার।
স্পোর্টস্টারে নিজের কলামে গাভাস্কার বলেছেন, চার বছরের পরবর্তী আন্তর্জাতিক সূচি তৈরির সময় খেলোয়াড়দের ওপর চাপের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে। তাঁর মতে, এক টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পরপরই আরেক প্রতিযোগিতায় পাঠিয়ে দিলে ক্রিকেটারদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধারের সুযোগ থাকে না।
এ প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, 'ভারতীয় ক্রিকেটের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার যে বৈঠক হয়েছে, সেখানে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার চেষ্টা করা হয়েছে। আশা করি, ২০২৭ সাল থেকে পরবর্তী চার বছরের আন্তর্জাতিক সূচি নিয়ে আইসিসির বৈঠকে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা বুঝবেন, ভারতীয় ক্রিকেটাররা কোনো যন্ত্র নয়, এমনকি আখও নয় যে প্রতিটি ফোঁটা রস বের করে নেওয়া হবে।'
গাভাস্কারের বক্তব্যের সঙ্গে সাম্প্রতিক বাস্তবতারও বেশ মিল রয়েছে। ৩ সেপ্টেম্বরের পর্যালোচনা সভার পর সাইকিয়া জানিয়েছিলেন, ভারতীয় ক্রিকেটাররা অনেক বেশি ম্যাচ খেলছেন এবং এ কারণেই চোটের ঘটনা বাড়ছে। পরবর্তী এফটিপিতে সিরিজগুলোর মাঝে বিশ্রামের সময় বাড়ানোর পাশাপাশি সাউথ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশে সফরের আগে প্রস্তুতি ও অনুশীলন ম্যাচের সুযোগ রাখার পরিকল্পনাও করছে বিসিসিআই।
শুধু আন্তর্জাতিক সূচি নয়, ঘরোয়া ক্রিকেট নিয়েও গাভাস্কারের উদ্বেগ স্পষ্ট। তার মতে, ভারতের বেঞ্চ শক্তি নিয়ে অনেক কথা হলেও সেটিকে স্বাভাবিক ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। একসঙ্গে তিনটি শক্তিশালী দল গড়ার মতো প্রতিভা থাকলেও সাম্প্রতিক ফলাফল দেখিয়েছে, সেই প্রতিভাকে বিশ্বমানের ক্রিকেটারে পরিণত করতে ঘরোয়া ক্রিকেটকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে।
গাভাস্কার বলেন, 'ভারত তিনটি দল মাঠে নামাতে পারে-এমন দাবি করা ভালো শোনায়। কিন্তু সাম্প্রতিক ফলাফল বলছে, এই মুহূর্তে একটি ভারতীয় দলও খুব বেশি শিরোপা জেতার মতো অবস্থায় নেই। ঘরোয়া ক্রিকেটকে অগ্রাধিকার না দিলে ভবিষ্যতে প্রতিভার যে ধারাবাহিক সরবরাহ দরকার, সেখান থেকে বিশ্বমানের ক্রিকেটার পাওয়া কঠিন হবে।'
ঘরোয়া ক্রিকেটের গুরুত্ব নিয়ে গাভাস্কারের এই বক্তব্যের পর ২০২৬-২৭ মৌসুমের সূচিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে রঞ্জি ট্রফির লিগ পর্ব ও পরের ধাপের মাঝে দুই মাসের বেশি বিরতি রাখা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই সময়ের মধ্যে সাইয়েদ মোশতাক আলি ট্রফি ও বিজয় হাজারে ট্রফি অনুষ্ঠিত হবে। গাভাস্কারের অভিযোগ, আইপিএল নিলামকে কেন্দ্র করে সাদা বলের ক্রিকেটকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম শ্রেণির প্রতিযোগিতা রঞ্জি ট্রফি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।