বছর তিনেক হলো বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলায় কারাগারে বন্দী ইমরান খান। পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী সাবেক অধিনায়ক ও দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা নিয়ে পরিবার সবসময়ই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইমরান খানের চোখ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, এমন খবরও বেরোয়। সেই খবরের পর পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়কের চিকিৎসার জন্য দেশটির সরকারের কাছে চিঠি লিখেছিলেন আন্তর্জাতিক ১৪ জন অধিনায়ক।
ছয় মাসের ব্যবধানে কদিন আগে ২১ জন অধিনায়ক মিলে আবারও চিঠি দেন। তাদের অন্যতম একজন ছিলেন মাইকেল আথারটন। শুধু চিঠি লিখেই থেমে যাননি ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ও স্কাই স্পোর্টসের ব্রডকাস্টার। ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের দ্বিতীয় টেস্টের আগে বুধবার সকালে লর্ডসের রাইটারস রুমে ইমরান খানের দুই ছেলে সুলেইমান ও কাসিমের সাক্ষাৎকার নেন আথারটন।
সাক্ষাৎকার নেওয়ার পর স্কাই স্পোর্টস একটি টিজারও প্রকাশ করে। যেখানে জানানো হয় লর্ডস টেস্টের প্রথম দিনের লাঞ্চ বিরতির সময় সাক্ষাৎকারটি প্রচার করা হবে। ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকইনফো জানিয়েছে, সাক্ষাৎকারের টিজার সামনে আসার পর স্কাই স্পোর্টসের সঙ্গে যোগাযোগ করে পিসিবি। সাক্ষাৎকারটি যেন না প্রচার করা হয় সেজন্য তাদের অনুরোধ করা হয়।
বিভিন্ন সূত্রের বরাতে আরও জানানো হয়েছে, সাক্ষাৎকার প্রচার হলে পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা লাঞ্চের পর মাঠে নামবেন না এমন হুমকিও নাকি দেওয়া হয়েছিল। যদিও পিসিবির সেই অনুরোধ গায়ে লাগায়নি স্কাই স্পোর্টস। একটু দেরিতে হলেও ১৮ মিনিটের পুরো সাক্ষাৎকার প্রচার করে তারা। যদিও এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজম ও তৎকালীন প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ।
কাশিম মনে করেন, পিসিবি এমন কাণ্ড করে নিজেদেরকে বোকা হিসেবে উপস্থাপন করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের সঙ্গে আলাপকালে কাশিম বলেন, ‘তারা (পিসিবি) নিজেদের পুরোপুরি বোকা হিসেবে উপস্থাপন করেছে।’
সুলাইমান আরও একধাপ এগিয়ে বলেছেন। ইমরানের ছেলে মনে করেন, পিসিবি পুরোপুরি একটা কাণ্ডজ্ঞানহীন কাজ করেছে। এমনকি তিনি এও জানান, ইংল্যান্ডে ২২ বছর ধরে বাস করা একজন সাবেক ক্রিকেটারের সাক্ষাৎকার আটকে দেওয়ার এখতিয়ার রাখে না পিসিবি। পাশাপাশি সুলাইমান এটাকে রাজনীতির অংশ হিসেবে দেখছেন না।
তিনি বলেন, ‘আমি কিছু একটা প্রতিক্রিয়ার আশা করছিলাম। কিন্তু আমি ভাবিনি তারা মাঠে নামার হুমকি দেওয়ার মতো এতটা কাণ্ডজ্ঞানহীন কাজ করবে। পাকিস্তানের একজন সাবেক খেলোয়াড় যিনি কিনা ২২ বছর ধরে ইংল্যান্ডে বসবাস করেন—তার সাক্ষাৎকার সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না। এখানে রাজনীতির কিছু ছিল না। বরং এটা মানবিক পরিস্থিতি এবং তার স্বাস্থ্যের ব্যাপারে একটা সাক্ষাৎকার ছিল।’