পরিবর্তনের এমন ধরন নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট খেলতে টি-টোয়েন্টিতে বেশি পরিচিত ক্রিকেটারদের দলে নেওয়া এবং মাত্র পাঁচ টেস্ট পর লাল বলের প্রধান কোচ সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছেন না তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এসব সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আফ্রিদি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ আফ্রিদি বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তের যুক্তি বা কারণ কী, তা বুঝতে পারছি না। বদলি খেলোয়াড়দের নেওয়ার সিদ্ধান্তও কোনো অর্থ তৈরি করছে না। ইংল্যান্ডে একটি টেস্ট ম্যাচের জন্য টি-টোয়েন্টির খেলোয়াড়দের নেওয়া হয়েছে-এই চিন্তা ও পদ্ধতি কী?’
আফ্রিদি আরও বলেন, ‘মাত্র পাঁচটি টেস্টের পর কোচকে কেন সরিয়ে দেওয়া হলো? এত অভিজ্ঞ নির্বাচক নিয়ে গঠিত একটি কমিটির নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে বিস্ময়কর।’
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দুই টেস্টে পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের অবস্থা ছিল খুবই করুণ। চার ইনিংসের কোনোটিতেই ২০০ রান করতে পারেনি তারা। হেডিংলিতে প্রথম টেস্টে ইনিংস ও ১০৩ রানে এবং লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে ১৯৪ রানে হেরে যাওয়ার পরই বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটে পিসিবি। লর্ডসের পর সিরিজ ২-০ ব্যবধানে নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড।
তৃতীয় টেস্টের আগে মোহাম্মদ রিজওয়ান, ইমাম-উল-হক, সালমান আলী আগা, আলী উসমান, আমির জামাল, মুহাম্মদ আওয়াইস জাফর ও খুররম শাহজাদকে দেশে পাঠিয়ে দিয়েছে পিসিবি। তাদের জায়গায় সাতজনকে দলে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সাইম আইয়ুব ও আবদুল্লাহ ফজল এর আগে টেস্ট খেলেছেন, আর পাঁচজনের এখনো টেস্ট অভিষেক হয়নি।
শুধু খেলোয়াড় নয়, মাঝ সিরিজেই বদলে দেওয়া হয়েছে পাকিস্তানের কোচিং স্টাফও। এপ্রিলে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজের আগে লাল বলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন সাবেক অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। বাংলাদেশে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ হারানোর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ ১-১ ব্যবধানে শেষ করে পাকিস্তান। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চলতি সিরিজে টানা দুই হারের পর পাঁচ টেস্টের মাথায় সরফরাজকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সরফরাজের সঙ্গে বোলিং কোচ উমর গুলকেও সরিয়ে দিয়েছে পিসিবি। তাদের জায়গায় সাদা বলের প্রধান কোচ মাইক হেসন এবং বোলিং কোচ অ্যাশলি নফকেকে তৃতীয় টেস্টের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর বার্মিংহামে শুরু হবে সিরিজের শেষ টেস্ট।