ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, বিষয়টি শুধু নিয়মভঙ্গের তদন্তে সীমাবদ্ধ নেই। ইংল্যান্ড ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়েও বোর্ডের ভেতরে আলোচনা শুরু হয়েছে। গত অ্যাশেজ সফরের পর দলের পরিবেশ ও খেলোয়াড়দের আচরণ নিয়ে নানা সমালোচনা হয়েছিল। এরপর থেকেই কঠোর নীতিমালা অনুসরণের ওপর জোর দেয় দল পরিচালনা বিভাগ। নতুন এই ঘটনা সেই অবস্থানকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
জানা গেছে, লন্ডনের কিংস রোড এলাকার একটি নাইট ক্লাবে গিয়েছিলেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক বেন স্টোকস ও পেসার গাস অ্যাটকিনসন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দলের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করেই তারা সেখানে অবস্থান করছিলেন। একই সময়ে সেখানে একটি রাগবি ক্লাবের মৌসুম-সমাপনী অনুষ্ঠান চলছিল। পরে সেখানেই অনাকাঙ্ক্ষিত এক ঘটনার সূত্রপাত হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২১ বছর বয়সী এক রাগবি খেলোয়াড় গাস অ্যাটকিনসনের দিকে ঘুষি ছুড়ে মারেন। তবে সেটি গিয়ে লাগে ক্রিকেট বোর্ডের এক নিরাপত্তাকর্মীর মুখে। এতে তিনি আহত হন এবং পরে তার চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। তবে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, স্টোকস কিংবা অ্যাটকিনসন কেউই ঘটনার আক্রমণাত্মক পক্ষ ছিলেন না। তাদের কারও শারীরিক ক্ষতির কথাও জানা যায়নি।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বোর্ড কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। তবে সম্ভাব্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা চলছে বলে সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি। এর প্রভাব দ্বিতীয় টেস্টের দল ঘোষণাতেও পড়তে পারে। সাময়িক নিষেধাজ্ঞা থেকে শুরু করে নেতৃত্ব নিয়ে পুনর্বিবেচনা- সব ধরনের সম্ভাবনাই আলোচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
অ্যাশেজের পর থেকেই মাঠের বাইরের আচরণ নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন ইংল্যান্ড ক্রিকেটের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা। ফলে অনেকের কাছেই এটি কেবল বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। বরং দলের সংস্কৃতি ও শৃঙ্খলাব্যবস্থা কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে, সেটিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে বেন স্টোকসকে ঘিরেও নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। কিছু ইংরেজি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি চাইলে স্বেচ্ছায় নেতৃত্ব ছাড়তে পারেন। আবার বোর্ড চাইলে নেতৃত্বের বিষয়ে নিজস্ব সিদ্ধান্তও নিতে পারে। এমনকি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনার কথাও আলোচনায় এসেছে। যদিও এ বিষয়ে স্টোকস নিজে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেননি। বোর্ডও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তাই তদন্তের ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষাই করতে হচ্ছে ইংল্যান্ড ক্রিকেটকে।