লর্ডসের উইকেট নিয়ে হতাশা এমসিসির, জিতেও প্রশ্ন তুলছেন স্টোকস

ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড সিরিজ
ফাইল ফটো
ফাইল ফটো
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
লর্ডসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট শেষ হয়েছে মাত্র চার দিনেরও কম সময়ে। বৃষ্টি না থাকলে ম্যাচটি আরও আগেই শেষ হতে পারত বলে মনে করছেন অনেকেই। পুরো ম্যাচে হয়েছে মাত্র ১৬৬ ওভার, এর মধ্যেই দুই দলের ৪০টি উইকেটের পতন হয়েছে। ফলে উইকেটের মান নিয়ে শুরু হয়েছে বিস্তর আলোচনা।

ম্যাচে বলের অতিরিক্ত সিম নড়াচড়া এবং নিয়মিত অসম উচ্চতার বাউন্স ব্যাটারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। কখনও বল অস্বাভাবিকভাবে উঁচুতে উঠেছে, আবার কখনও নিচু হয়ে গেছে। ৪০টি আউটের মধ্যে ২৪টিই হয়েছে বোল্ড কিংবা লেগ বিফোরের মাধ্যমে, যা উইকেটের আচরণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেয়।

ক্রিকেটের আইনপ্রণেতা সংস্থা মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবও উইকেট নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী রব লসন বলেন, 'আমরা যতটা প্রত্যাশা করেছিলাম, তার চেয়ে বেশি বৈচিত্র্যময় বাউন্স দেখা গেছে এই উইকেটে। সর্বোচ্চ মান বজায় রাখার ব্যাপারে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাই প্রত্যাশা পূরণ না হলে স্বাভাবিকভাবেই হতাশ হতে হয়।'

লসনের মতে, টেস্টের আগে আবহাওয়ার বৈরী প্রভাব উইকেট প্রস্তুতিকে কঠিন করে তুলেছিল। তিনি বলেন, 'মে মাসের অস্বাভাবিক গরমের পর বৃষ্টি হওয়ায় মাঠকর্মীদের জন্য কাজটি বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। তবে আমরা দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করছি।'

উইকেট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক বেন স্টোকসও। তার মতে, এমন ধরনের উইকেট দীর্ঘমেয়াদে টেস্ট ক্রিকেটের জন্য ইতিবাচক নয়। স্টোকস বলেন, 'এই সংস্করণের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রায়ই কথা হয়। কিন্তু আবহাওয়ার বাধা না থাকলে এই ম্যাচ চতুর্থ দিন পর্যন্তও গড়াত না। টেস্ট ক্রিকেট টিকে থাকুক, সেটাই চাই। তবে এমন পরিস্থিতি কাম্য নয়।'

তবে মাঠকর্মীদের দায়ী করতে রাজি নন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। তিনি বলেন, 'মাঠকর্মীদের কাজ সহজ নয়। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে এমন উইকেট তৈরি করে না, যেখানে একদিনেই এত উইকেট পড়ে। কিন্তু যখন এমন অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়, তখন তা ভবিষ্যতে খেলাটির জন্য সহায়ক হয় না।'

উভয় দল দুই ইনিংসে অলআউট হওয়া টেস্টগুলোর মধ্যে এটি ইতিহাসের তৃতীয় সংক্ষিপ্ততম ম্যাচ। ফলে ফলাফলের চেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে লর্ডসের উইকেট। সামনের ম্যাচগুলোতে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ উইকেট দেখার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরো পড়ুন: