৫ জুন বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) চার নম্বর মাঠে অগ্রণী ব্যাংকের বিপক্ষে মাঠে নামার কথা ছিল ব্রাদার্সের। ম্যাচ খেলার জন্য নির্ধারিত সময়ে মাঠে যান জাহিদুজ্জামান সাগর, সোহাগ গাজীরা। টসের আগে পারিশ্রমিক পাবেন এমন ভাবনা থেকেই মাঠে গিয়েছিলেন তারা। তবে টসের সময়ও পারিশ্রমিক পাননি ক্রিকেটাররা। যার ফলে আম্পায়ার অনুরোধ করার পরও টস করেননি ব্রাদার্সের অধিনায়ক।
১০ মিনিট সময় বাড়িয়ে দিলেও সেটা কাজে আসেনি। এমন অবস্থায় অগ্রণী ব্যাংককে ওয়াকভার দেয় ব্রাদার্স। ফলে ম্যাচ না খেলেই ২ পয়েন্ট পেয়েছেন ইমরুল কায়েসরা। লিগের বাই-লজ অনুযায়ী, কোনো দল ওয়াকওভার দিলে তাদের রেলিগেশন নিশ্চিত। ক্রিকেটারদের ম্যাচ বর্জনের খবর কানে আসতেই তাদের সঙ্গে বসে আলোচনা এবং সমাধানের চেষ্টা করেন তামিম। ক্লাব ও ক্রিকেটারদের কাছে চুক্তির কাগজপত্র না থাকায় কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি বলে জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি।
এ প্রসঙ্গে তামিম বলেন, ‘আজকে আমার নির্বাচন ছিল, এজন্য আমি গতকাল প্রচুর ব্যস্ত ছিলাম। তারপরও আমি তাদের সঙ্গে বসেছি, দুই পক্ষের সঙ্গেই বসেছি। দুই পক্ষকে ডেকে নিয়ে এসেছে একটা সমাধানও দিয়েছি। যেহেতু দুই পক্ষের কারও কাছে কাগজপত্র, চুক্তির কাগজ ছিল না। আমি তো বোর্ড হিসেবে সিদ্ধান্ত দিতে পারি না। কেউ যদি বলে এক টাকা পাই, আবার কেউ যদি বলে দুই টাকা পাই এটা প্রমাণ করার জন্য তো আমার হাতে কাগজ থাকতে হবে। যেহেতু কোনো খেলোয়াড়ের কাছে চুক্তিপত্র ছিল না এজন্য আমি কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারি না।’
‘তাদের দুই পক্ষকেই আমি যে অনুরোধ করেছি, সিসিডিএমের নিয়ম হিসেবে যদি এভাবে ওয়াকওভার দেওয়া হয় দলটা আপনাআপনিভাবে অবনমন হয়ে যায়। প্রথম বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগের কারণটা পুরো ভিন্ন ছিল। যখন আমরা সিদ্ধান্ত নিই ওই দলগুলোকে রেলিগেট করব না, এই সিদ্ধান্তটা কিন্তু আমি নিইনি ৪৪টা ক্লাব মিলে একমত হয়েছে দেখে এই সিদ্ধান্তটা এসেছে।’
ক্লাব ও ক্রিকেটারদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের জন্য দুইটি উপায়ও বাতলে দিয়েছিলেন তামিম। যেখানে বিসিবি সভাপতি জানান, ক্রিকেটার ও ক্লাব সমঝোতায় না পৌঁছালে তার কিছু করার থাকবে না। অর্থাৎ ব্রাদার্স রেলিগেটেড হয়ে যাবে। নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করে ম্যাচ খেলার জন্য বাকি ক্লাবগুলোকে চিঠি দেওয়ার পরামর্শ দেন তামিম। ক্রিকেটের স্বার্থে বাকি ১১টা ক্লাব রাজি হলে তখন ম্যাচটি পুনরায় আয়োজনের জন্য বোর্ডে প্রস্তাব দিতেন তিনি। তবে তামিম জানিয়েছেন, ক্রিকেটার ও ক্লাবের মধ্যে কোনো প্রকার সমঝোতা হয়নি।
বিসিবি সভাপতি তামিম বলেন, ‘আমি উনাদেরকে বলেছিলাম আপনাদের কাছে দুইটি উপায় আছে। একটা উপায় হচ্ছে আপনারা ক্লাব আর খেলোয়াড়রা যদি বিভক্ত থাকেন তাহলে আমার হাতে কিছু করার থাকবে না। ব্রাদার্স আপনাআপনিভাবে রেলিগেট হয়ে যাবে। দ্বিতীয় উপায় হচ্ছে আপনারা খেলোয়াড় ও ক্লাব একটা সমঝোতা করে নেন। নিজেদের মধ্যে কথা বলে ১২টা দলকে চিঠি দিয়ে যে এই ম্যাচটা আমরা আবার খেলতে পারি কিনা ক্রিকেটের স্বার্থে।’
‘পরবর্তী দুইটা ম্যাচ আপনারা খেলতে চান, যদি সব দল একমত হয়, আপনারা যদি আমাকে উপস্থাপন করেন ১১ দলের স্বাক্ষরসহ তাহলে আমি এটা বোর্ডে প্রস্তাব করতে পারি। ক্রিকেটের স্বার্থে আমি হয়ত আপনাদের জন্য এটা করার চেষ্টা করব। নির্বাচনের মধ্যেও এটা নিয়ে কাজ করছিলাম, দুর্ভাগ্যক্রমে খেলোয়াড় ও ক্লাবের মধ্যে সমঝোতা হয়নি। আমি এখনো পর্যন্ত কোনো চিঠি পাইনি। বাইলজের যে জিনিসটা আছে আমাকে ওইটা অনুসরণ করতে হবে।’