অভিষেক শর্মা:
আমি আগেও বিষয়টা বলতে চেয়েছিলাম, তবে আজ বলার জন্যই সবচেয়ে ভালো দিন। কোচ আর অধিনায়ক আমার ওপর বিশ্বাস রেখেছিলেন। আমিও মাঝে মাঝে নিজের ওপর সন্দেহ করছিলাম, কারণ আমার জন্য টুর্নামেন্টটা সহজ ছিল না। জীবনে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলছি, এমন অভিজ্ঞতা আগে হয়নি। কিন্তু সবাই আমাকে একটাই কথা বলছিল, তুমি একদিন বড় ম্যাচ জেতাবে, বড় ম্যাচ জেতাবে। আমি নিজের প্রক্রিয়াতেই ছিলাম, কিন্তু তরুণ খেলোয়াড় হিসেবে এটা মোটেও সহজ ছিল না। ভারতীয় দলে আমার সময় তখন মাত্র এক-দুই বছর।
এই সময়টা পার করাও কঠিন ছিল। তবে ওই কঠিন দিনগুলোতে দল আমাকে যেভাবে দেখভাল করেছে, সেজন্য আমি এই দলকে ভীষণ ভালোবাসি। এমন অনুভূতি আগে কখনো পাইনি। সত্যি বলতে, এটা আমার জন্য সহজ ছিল না। পুরো বছর আমি দলের জন্য ভালো করছিলাম, কিন্তু বড় মঞ্চে পারছিলাম না। তবু সবাই আমার ওপর যে বিশ্বাস আর আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছেন, তা আমাকে ভীষণ আবেগী করে তুলেছিল।
আমি সব ম্যাচেই ভালো করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পারছিলাম না। তখন ভাবছিলাম কোচ বা অধিনায়কের সঙ্গে কথা বলব। তারা সবসময় একটাই কথা বলতেন, তুমি আমাদের বড় ম্যাচ জেতাবে। আমি শুধু সেই দিনের অপেক্ষায় ছিলাম। আজকের দিনের চেয়ে ভালো দিন আর হতে পারে না।
সাঞ্জু স্যামসন:
খুব, খুব আনন্দ লাগছে। ভীষণ কৃতজ্ঞ। ভাষায় প্রকাশ করার মতো শব্দ নেই, অনুভূতিও যেন খুঁজে পাচ্ছি না। শুধু এই মুহূর্তটা অনুভব করছি। সবকিছু একটু অবাস্তব মনে হচ্ছে। সত্যি বলতে কী, এর শুরুটা হয়েছিল এক দুই বছর আগে। ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী দলের সঙ্গে আমি ছিলাম, কিন্তু একটি ম্যাচও খেলতে পারিনি।
তখন থেকেই আমি নিজেকে কল্পনায় দেখতাম, স্বপ্ন দেখতাম এবং কঠোর পরিশ্রম করে গেছি। তখনই ভেবেছিলাম, একদিন টুর্নামেন্টসেরা হওয়ার মতো পারফরম্যান্স করতে চাই। নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, এত পরিশ্রম করব যেন ঠিক এই অর্জনটাই করতে পারি। সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপায় আজ রাতে সবকিছু বদলে গেছে।
জসপ্রিত বুমরাহ:
অসাধারণ এক অনুভূতি। নিজের ঘরের মাঠে আমি এর আগে একটি ফাইনাল খেলেছিলাম, কিন্তু জিততে পারিনি। তাই এবারটা আমার কাছে আরও বেশি বিশেষ মনে হচ্ছে। আমি ভীষণ অনুপ্রাণিত ছিলাম, নিজের পরিকল্পনা নিয়েও ছিলাম একদম পরিষ্কার। আমি জানতাম ঠিক কী করতে চাই।
উইকেটটা ছিল একেবারে ফ্ল্যাট। এখানে আমি আমার ক্যারিয়ারের প্রায় সব ক্রিকেটই খেলেছি। তাই নিজের সব অভিজ্ঞতাই কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি। আজকের দিনটা দারুণ ছিল, পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রায় সবকিছুই বাস্তবায়ন করতে পেরেছি। খুবই আনন্দিত, খুবই কৃতজ্ঞ। সৃষ্টিকর্তা সত্যিই অনেক দয়ালু।
বরুণ চক্রবর্তী:
অসাধারণ অনুভূতি। টানা দুটি আইসিসি শিরোপা জেতা সত্যিই অবিশ্বাস্য লাগছে। অভিষেক আজ রান করতে পেরেছে, এতে আমি খুব খুশি। সে আমার পাশেই বসত। আমরা মাঝেমধ্যে আসনও বদলাতাম। নিজেদের মধ্যে বলতাম, কী হচ্ছে আমাদের? কিছুই তো ঠিকমতো হচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত আমরা কাপ জিতেছি। এখন মনে হচ্ছে সব হিসাব মিটে গেছে।
শিভাম দুবে:
আমার ভূমিকা শুরু থেকেই পরিষ্কার ছিল, বড় বড় ছক্কা মারা। টুর্নামেন্টের প্রথম দিন থেকেই এটাই ছিল আমার দায়িত্ব। কখনো অন্য কোনো ব্যাটার উপরে খেলতে গেছে, কিন্তু আমি সবসময় নিজের ওপর বিশ্বাস রেখেছি, সুযোগ পেলেই ছক্কা মারব। বোলিং নিয়েও আমি অনেক উন্নতি করেছি। যদিও এই টুর্নামেন্টে খুব বেশি বল করতে হয়নি। তবে আগামীবার আরও ভালোভাবে ফিরে আসব।
আজকের মঞ্চটা বিশাল ছিল, দর্শকদের সমর্থন ছিল দারুণ। এই টুর্নামেন্টটা আসলে ভারতীয় ক্রিকেট দলের সমর্থকদের। কঠিন সময়ে তাদের দোয়া আর ভালোবাসা আমাদের শক্তি দিয়েছে। সব কৃতিত্ব ভারতীয় দলের সমর্থকদের।
তিলক ভার্মা:
দলের যা প্রয়োজন, আমরা সেটার জন্যই প্রস্তুত ছিলাম। যে কোনো ব্যাটিং পজিশনে খেলতে আমরা আগেই অনুশীলন করেছি।ফিল্ডিংয়ের ক্ষেত্রেও যখন দলকে দরকার হয়েছে, সবাই এগিয়ে এসেছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অক্ষর দারুণ কিছু ক্যাচ নিয়েছিল। আজও আমি আর ইশান কয়েকটা ক্যাচ নিয়েছি। আগামী কয়েক দিন ছেলেদের সঙ্গে বড় একটা উদযাপন হবে। তারপর একটু বিরতি নেব, এরপর আবার আইপিএলের জন্য প্রস্তুতি শুরু করব।
আর্শদীপ সিং:
আমি একটু আগে দৌড়ে গিয়ে ড্যারেল মিচেলের কাছে ক্ষমা চেয়েছি। আমার থ্রোটা রিভার্স সুইং হয়ে তাকে আঘাত করেছিল। এখন কেমন লাগছে ঠিক বুঝতে পারছি না। আমরা জিতেছি, তাই ভালো লাগছে। হয়তো কয়েক দিনের মধ্যে পুরো বিষয়টা সত্যি মনে হবে।
আমরা আমাদের সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করেছি। এই ফলটা যেন কেকের ওপর আইসিংয়ের মতো। বোলারদের কাজই হলো, ব্যাটাররা যদি ২৫০ রান করে, তাহলে প্রতিপক্ষকে তার নিচে আটকে রাখা। আর যদি আগে বল করি, তাহলে লক্ষ্য থাকে যত কম রানে সম্ভব তাদের থামানো।