বিশ্বকাপ চলাকালেই তিনি হারালেন নিজের বাবাকে। রিঙ্কুর বাবা খানচাঁড় সিং দীর্ঘদিন ধরে যকৃতের ক্যান্সারে ভুগছিলেন। গ্রেটার নয়ডার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। এই দুঃসংবাদটি শুক্রবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান ভারতের সাবেক অফ স্পিনার হরভজন সিং।
শোকবার্তায় তিনি লিখেছেন, 'রিঙ্কু সিংয়ের বাবা শ্রী খানচাঁড় সিংজির মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত। রিঙ্কু এবং তার পরিবারের জন্য এটি অত্যন্ত কঠিন সময়, যদিও সে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দলের দায়িত্ব পালনে নিবেদিত রয়েছে। আমার আন্তরিক সমবেদনা ও প্রার্থনা তাদের সঙ্গে আছে।'
চিকিৎসকেরা জানান, চতুর্থ পর্যায়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন খানচাঁড় সিং। কয়েক দিন আগে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গ্রেটার নয়ডার একটি হাসপাতালে তাকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়। তখন বিশ্বকাপ খেলতে দলের সঙ্গে থাকা রিঙ্কু ছুটি নিয়ে বাবার কাছে ছুটে যান। পরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বৃহস্পতিবারের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে আবার দলের সঙ্গে যোগ দেন তিনি।
বিশ্বকাপের আগের পাঁচ ম্যাচেই মাঠে নেমেছিলেন ২৮ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান। তবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের একাদশে জায়গা হয়নি তার। তবু তিনি ডাগআউটে ছিলেন এবং বদলি ফিল্ডার হিসেবে মাঠেও নামেন। বাবার মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পরপরই পরিবারের কাছে ফিরে গেছেন তিনি।
রিঙ্কুর ক্রিকেটার হয়ে ওঠার গল্পটিও কম সংগ্রামের নয়। উত্তর প্রদেশের আলিগড় শহরে গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহের কাজ করতেন তার বাবা। পাঁচ সন্তান নিয়ে সংসারে ছিল চরম আর্থিক সংকট। সেই পরিবেশেই ক্রিকেটের প্রতি প্রবল টান তৈরি হয় রিঙ্কুর। শুরুতে বাবার বকুনি সহ্য করতে হলেও পরে ছেলের স্বপ্নকে সমর্থন করেন তিনি। কঠোর পরিশ্রম করে সংসার চালানোর পাশাপাশি ছেলের ক্রিকেট খেলার পথও সহজ করার চেষ্টা করেছেন।