নাইমের আক্ষেপ, আবু হায়দারের শেষের ঝলকে সেন্ট্রালের জয়

বিসিএল
বিসিবি
বিসিবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
পেস বোলিং মূল দায়িত্ব হলেও সবশেষ কয়েক বছরে নিজেকে অনেকটা বদলে ফেলেছেন আবু হায়দার রনি। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিচের দিকে নেমে প্রায়শই ব্যাটিংয়েও চমক দেখাচ্ছেন। বড় ইনিংস খেলে কখনো কখনো দলের জয়ে অবদানও রাখছেন আবু হায়দার। ইষ্ট জোনের বিপক্ষে বাঁহাতি পেস বোলিংয়ে একমাত্র জাকির হাসানের উইকেটটা নিয়েছিলেন। বোলিংয়ে একটির বেশি উইকেট না পেলেও ব্যাটিংয়ে সেটা পুষিয়ে দিয়েছেন। নাইম শেখের হাফ সেঞ্চুরিতে জয়ের আশা জাগানো সেন্ট্রাল জোনকে টেনেছেন আবু হায়দার। ৪২ বলে অপরাজিত ৬৬ রানের ইনিংস খেলে সেন্ট্রাল জোনের জয়ের নায়কও তিনি। ইয়াসির আলী চৌধুরি রাব্বির ইষ্ট জোনকে হারিয়ে বিসিএলের ওয়ানডে ফরম্যাটের চলতি আসরে প্রথম জয় পেয়েছেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনরা।

বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে রান তাড়ায় শুরুটা ভালো হয়নি সেন্ট্রালের। ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই ফেরেন সাইফ হাসান। খালেদ আহমেদের বলে উড়িয়ে মারার চেষ্টায় নাসুম আহমেদের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন ডানহাতি এই ওপেনার। এক চারে ১১ বলে ৬ রান করে ফিরতে হয় তাকে। দ্বিতীয় উইকেটে অবশ্য জুটি গড়েন নাইম ও মাহফিজুল ইসলাম রবিন। তারা দুজনে মিলে ৪৫ রান যোগ করেন। যদিও প্রত্যাশিতভাবে পাওয়ার প্লেতে রান তুলতে পারেননি তাদের দুজনের কেউই।

মাহফিজুলকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন নাঈম হাসান। ডানহাতি অফ স্পিনারের বিপক্ষে রান বের করতে পারছিলেন না তিনি। পঞ্চম বলে বাউন্ডারির আশায় ডাউন দ্য উইকেটে এসে খেলার চেষ্টায় ওয়াইড লং অনে অমিত হাসানকে ক্যাচ দিয়েছেন। চারটি চার ও একটি ছক্কায় ৪৭ বলে ২৯ রান করে ফেরেন তরুণ এই ব্যাটার। বেশ খানিকটা সময় টিকে থাকলেও সুবিধা করতে পারেননি অঙ্কন। সেন্ট্রালের অধিনায়কের উইকেট নিয়েছেন শামীম হোসেন পাটোয়ারি।

ডানহাতি স্পিনারের বলে অফ স্টাম্পে এসে ফাইন লেগের উপর দিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন অঙ্কন। তবে টপ এজ হওয়ায় মুশফিক হাসানকে ক্যাচ দেন ২৬ বলে ১২ রান করা সেন্ট্রাল জোনের অধিনায়ক। এরপর নাইম ও আরিফুল ইসলাম মিলে দলকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ধীরগতির ব্যাটিং করলেও নাসুমকে চার মেরে ৬৭ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন নাইম। একটু পর অবশ্য আরিফুলকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন মুশফিক।

ডানহাতি পেসারের শর্ট ডেলিভারিতে কাট করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছিলেন আরিফুল। ক্যাচের আবেদন করলেও আম্পায়ার তাতে সাড়া দেননি। একই ওভারে অবশ্য মুশফিকের বলে পুল করতে গিয়ে নাঈমকে ক্যাচ দেন ৩৯ বলে ২১ রান করে। পরবর্তীতে নাইম ও আবু হায়দার মিলে জুটি গড়েন। দারুণ ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরির পথে হাঁটছিলেন নাইম। তবে বাঁহাতি ওপেনারকে সেঞ্চুরি করতে দেননি নাঈম। ডানহাতি স্পিনারের বলে ডাউন দ্য উইকেটে এসে ছক্কা মারতে গিয়ে লং অফে ক্যাচ দিয়েছেন।

পাঁচটি চার ও দুইটি ছক্কায় ৯৮ বলে ৮৩ রানের ইনিংস খেলেছেন। নাইম আউট হওয়ার আগে অবশ্য সেঞ্চুরি করেছেন আবু হায়দার। স্পিনার নাঈমকে ছক্কা মেরে পঞ্চাশ ছুঁয়েছেন ২৮ বলে। পরবর্তীতে আবু হায়দার ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত মিলে সেন্ট্রালের জয় নিশ্চিত করেন। আবু হায়দার ৪২ বলে ৬৬ ও মোসাদ্দেক অপরাজিত ছিলেন ১১ বলে ২০ রানে। ইষ্ট জোনের হয়ে নাঈম দুইটি উইকেট নিয়েছেন। একটি করে উইকেট পেয়েছেন নাসুম, মুশফিক ও শামীম।

এর আগে সকালের শুরুতে ব্যাটিংয়ে নেমে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৩৭ রান তোলে ইষ্ট জোন। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫১ বলে ৪৫ রানের ইনিংস খেলেছেন জাকির। এ ছাড়া ইয়াসির ৩৭, মুমিনুল হক ৩৪, পারভেজ হোসেন ইমন ২৭ ও নাঈম অপরাজিত ২৬ রান করেছেন। সেন্ট্রালের হয়ে রাকিবুল হাসান নিয়েছেন তিনটি উইকেট। রিপন মণ্ডল ও তাসকিন আহমেদ পেয়েছেন দুইটি করে উইকেট।

আরো পড়ুন: