টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এইডেন মার্করামের বিপক্ষে ৮ ইনিংসে বোলিং করে মাত্র ৩৮ রান দিয়েছেন অক্ষর। সাউথ আফ্রিকার অধিনায়ককে তিনবার আউটও করেছেন তিনি। বাঁহাতি স্পিনারের বিপক্ষে মার্করামের স্ট্রাইক রেট ১১১.৭৬। সাউথ আফ্রিকা ম্যাচের আগে এমন পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দিচ্ছিল নিশ্চিতভাবেই ভারতের একাদশে থাকবেন অক্ষর। তবে সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে একাদশে রাখা হয়নি তাকে।
গ্রুপ পর্বে প্রথম তিন ম্যাচে ৬ উইকেট নেওয়া বাঁহাতি স্পিনারকে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে খেলায়নি ভারত। সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষেও রাখা হয়নি তাকে। সাউথ আফ্রিকার একাদশে থাকা রায়ান রিকেলটন, কুইন্টন ডি কক ও ডেভিড মিলার ভারতের জন্য হুমকি হতে পারেন, এমন ভাবনা থেকেই অফ স্পিনার ওয়াশিংটনকে খেলায় ভারত। অথচ পুরো ম্যাচে ২ ওভার বোলিং করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। ১৭ রান খরচায় ছিলেন উইকেটশূন্য।
সাউথ আফ্রিকার ১৮৮ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ১১১ রানে গুটিয়ে যায় ভারত। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের সবচেয়ে বড় হারের পর অক্ষরকে কেন খেলানো হয়নি সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বাকিদের মতো অশ্বিনও প্রশ্ন তুলেছেন বাঁহাতি স্পিন বোলিং অলরাউন্ডারকে না খেলানোয়। আইপিএলে ম্যাচ-আপের জন্য পরিবর্তন আনলেও আইসিসির টুর্নামেন্টে একই একাদশ রাখার পক্ষে তিনি। সেই সঙ্গে সবাইকে মনে করিয়ে দিয়েছেন অক্ষর টি-টোয়েন্টিতে এমভিপি।
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে অশ্বিন বলেন, ‘আমি একমত যে, আইপিএলে ম্যাচ-আপ ঠিক আছে। ১৪ ম্যাচের টুর্নামেন্ট, সেখানে দলে পরিবর্তন আসতেই পারে। কিন্তু এই ধরনের আইসিসি টুর্নামেন্টে দল যত থিতু থাকে, ততই ভালো। আমি শতভাগ একমত যে, বাঁহাতিদের বিপক্ষে ওয়াশিংটন সুন্দরকে প্রয়োজন হতে পারে। বুঝলাম তাকে খেলানো জরুরি। কিন্তু অক্ষর প্যাটেল তো টি-টোয়েন্টিতে দলের এমভিপি (মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার)। সে কী করেছে, ভুলে যাওয়া যাবে না।’
স্পিনের পাশাপাশি ওয়াশিংটন ও অক্ষর ব্যাটিং করতে পারেন। দুজনের ব্যাটিং সামর্থ্য থাকলেও একটু এগিয়ে থাকবেন অক্ষর। এদিকে বাড়তি ব্যাটারের প্রয়োজনে ৮ নম্বরে খেলানো হয়েছে রিংকু সিংকে। বাঁহাতি ব্যাটার যখন ব্যাটিংয়ে আসেন তখন ভারতের পরাজয় অনেকটা নিশ্চিত হয়ে গেছে। অশ্বিন মনে করেন, তাকে এত নিচে ব্যাটিং করানোর সুযোগ নেই। পাশাপাশি তালগোল পাকিয়ে হেরে যাওয়াকে ভারতের জন্য শিক্ষা হিসেবে দেখছেন তিনি।
অশ্বিন বলেন, ‘রিংকু সিং ৮ নম্বরে ব্যাটিং করেছে। আপনার দলে ৮ জন ব্যাটার আছে এবং রিংকু ৮ নম্বরে ব্যাটিং করেছে। আপনি তাকে এমন পজিশনে পাঠাতে পারেন না। ওয়াশিংটন সুন্দরের প্রতি আমার কোনো অসম্মান নেই। সে দারুণ একজন ব্যাটার। আমরা তার ব্যাটিং স্কিলের কথা জানি। সাউথ আফ্রিকা ভারতকে শিক্ষা দিয়েছে। দয়া করে প্রস্তুতি ছাড়া খেলতে আসার দরকার নেই।’