বাংলাদেশ নয় শ্রীলঙ্কার অনুরোধে ভারত ম্যাচ খেলেছে পাকিস্তান

পাকিস্তান ক্রিকেট
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
‘আমাদের একমাত্র লক্ষ‍্য ছিল বাংলাদেশের জন‍্য কিছুটা সম্মান আদায়।’ ভারত ম্যাচ খেলতে রাজি হওয়ার পর এমন মন্তব্য করেছিলেন মহসিন নাকভি। তবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান জানালেন, ভারত ম্যাচ খেলতে রাজি হওয়ার পেছনে বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে শ্রীলঙ্কা। দেশটির প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকেকে কৃতিত্ব দিয়ে নাকভি বলেন, শুধুমাত্র আপনার কারণেই আমরা ম্যাচটি খেলেছি।

ভারতে যেতে রাজি না হওয়ায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে সরিয়ে দেয় আইসিসি। ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার এমন সিদ্ধান্তের পর প্রতিবাদ হিসেবে বিশ্বকাপ খেললেও ভারত ম্যাচ বয়কট করে পাকিস্তান। দেশটির সরকার এমন সিদ্ধান্ত জানালে ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি লোকসানের আশঙ্কা তৈরি হয়। আইসিসি লোকসান হতো ২০০ কোটি রুপির মতো। আইসিসি এত বড় লোকসানের মুখে পড়লে বিপাকে পড়তো সদস্য দেশগুলোও।

ক্রিকেটের স্বার্থে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ যাতে হয় এজন্য পিসিবিকে চিঠি দেয় শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি) সমস্যা সমাধানে দায়িত্ব দেওয়া হয় আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাওয়াজাকে। পরবর্তীতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভিকে নিয়ে লাহোরে বৈঠক করেন আইসিসির প্রতিনিধি দল। পাকিস্তান থেকে ফেরার পর পিসিবিকে ম্যাচ খেলার অনুরোধ করে বিসিবি।

ফলপ্রসূ আলোচনা হওয়ায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভারত ম্যাচ খেলতে রাজি হয়েছে পাকিস্তান। ক্রিকেটের স্বার্থে ও সদস্য দেশগুলোর অনুরোধে নিজেদের ‘ইউ টার্ন’ নেওয়ার কথা জানায় দেশটির সরকার। পরবর্তীতে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে ম্যাচও খেলে পাকিস্তান। যেখানে ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হারতে হয়েছে সালমান আলী আঘার দলকে। সেই ম্যাচ দেখতে গিয়েছিলেন নাকভি। কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে কুমারা দিসানায়কের সঙ্গে দেখা হয় পিসিবির চেয়ারম্যানের।

পরদিন আবারও শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করেন নাকভি। যেখানে তিনি বলেন, ‘প্রথমত, পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি (আসিফ আলি জারদারি) এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর (শেহবাজ শরিফ) পক্ষ থেকে উষ্ণ শুভেচ্ছা। তারা আমাকে বিশেষভাবে অনুরোধ করেছেন আপনার কাছে তাদের শুভেচ্ছা পৌঁছে দিতে। আসলে, গতকালের ম্যাচে আপনিই ছিলেন আসল হিরো, কারণ আপনার কারণেই ২০০ কোটি মানুষ আনন্দিত হয়েছে। শুধুমাত্র আপনার কারণেই আমরা ম্যাচটি খেলেছি।’

ভারত ম্যাচ না খেললে ৬ হাজারের বেশি টাকা লোকসান হতো আইসিসি, ব্রডকাস্টার, বিজ্ঞাপণ সংস্থা ও অন্যান্য। এমনকি শ্রীলঙ্কারও বড় একটা ক্ষতি হতো। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফকে ফোন করেছিলেন কুমারা দিসানায়কে। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের ফোন কলের পরই পাকিস্তানকে ম্যাচ খেলার নির্দেশ দেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী। এজন্য দিসানায়কে প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন নাকভি।

পিসিবির চেয়ারম্যান বলেন, ‘ভারতের সাথে খেলা নিয়ে আমাদের বেশ কিছু সমস্যা ছিল, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী আপনার কল পাওয়ার সাথে সাথেই আমাকে ফোন করেন এবং বলেন, ‘আর কোনো সমস্যা নেই... আমাদের ম্যাচটি খেলতে হবে। ব্যস, এটুকুই।’ আমি আপনার প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ যে আপনি এতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।’

আরো পড়ুন: