তারা স্পষ্ট জানিয়েছে সরকারি নির্দেশনার কারণেই তারা কলম্বোতে নির্ধারিত ওই ম্যাচে অংশ নিতে পারছে না। তবে পাকিস্তানকে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলাতে রাজি করাতে সবরকমের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আইসিসি। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বড় কোনো ধরনের শাস্তিরও সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে ক্রিকইনফো।
তাদের মতে বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যুদ্ধ কিংবা সরকারের হঠাৎ জারি করা কোনো নির্দেশের ক্ষেত্রে চুক্তির শর্ত পূরণ করা সম্ভব না হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে আইনগতভাবে দায়ী করা হয় না। আইসিসির টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণসংক্রান্ত চুক্তিতেও এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। সেখানে সরকারি নির্দেশকে ফোর্স মাজ্যুর হিসেবে গণ্য করা হয়। অর্থাৎ কোনো দেশের সরকার যদি দলকে খেলায় অংশ না নেওয়ার নির্দেশ দেয়, তাহলে সেটি সংশ্লিষ্ট দলের জন্য চুক্তি লঙ্ঘন নয়, বরং বৈধ কারণ হিসেবেই বিবেচিত হয়।
এর আগে পিসিবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিবৃতিতে জানায় যে তারা ভারতের বিপক্ষে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলবে না। এরপর দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ মন্ত্রিসভার আলোচনায় একই কথা জানান এবং বিষয়টিকে বাংলাদেশের প্রতি সংহতি প্রকাশের সঙ্গে যুক্ত করেন। বাংলাদেশ নিরাপত্তার কারণে ভারতে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। বিসিবি বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতে সরিয়ে নেয়ার দাবি জানিয়েছিল। যদিও আইসিসি সেই দাবি না মেনে উল্টো বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে যুক্ত করেছে বিশ্বকাপে।
আইসিসির মেম্বারস পার্টিসিপেশন অ্যাগ্রিমেন্ট (এমপিএ) এর ১২ নম্বর ধারা অনুযায়ী, কোনো সদস্য বোর্ড তখনই ফোর্স ম্যাজিউর দাবি করতে পারে, যদি চারটি শর্ত একসঙ্গে পূরণ হয়। প্রথমত, ঘটনাটি বোর্ডের নিয়ন্ত্রণের বাইরে হতে হবে। দ্বিতীয়ত, সেটি সরাসরি চুক্তিগত দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করতে হবে। তৃতীয়ত, বোর্ডকে আনুষ্ঠানিকভাবে নথিপত্রসহ আইসিসিকে বিষয়টি জানাতে হবে।চতুর্থত, ঘটনার প্রভাব কমাতে বোর্ডকে যথাসাধ্য চেষ্টা চালাতে হবে।
এখন আসলে দেখার বিষয় পাকিস্তান তাদের পক্ষে কোন কোন যুক্তি দেবে। আইসিসি পিসিবিকে জানিয়েছে, যদি ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করে তারা, তাহলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা হিসেবে আইসিসি যে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে, তার জন্য পিসিবির কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করার অধিকার তাদের আছে। তবে আইসিসি এটাও স্পষ্ট করেছে, তারা এই ইস্যুতে সরাসরি সংঘাতে যেতে চায় না।
একই সঙ্গে আইসিসি মনে করিয়ে দিয়েছে, তাদের সংবিধান অনুযায়ী, যদি কোনো সদস্য দেশ চুক্তিগত দায়িত্বে গুরুতর লঙ্ঘন করেছে বলে মনে হয়, তাহলে আইসিসি কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এর মধ্যে সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা বা বাতিল করার সিদ্ধান্তও অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে, পিসিবিও নিজেদের শক্ত যুক্তি নিয়ে তৈরি আছে। বিষয়টি যদি আনুষ্ঠানিক বিরোধে রূপ নেয়, তাহলে তারাও পাল্টা যুক্তি দেবে।
এ ক্ষেত্রে তারা অতীতের একটি ঘটনা সামনে আনতে পারে। যা পিসিবি ও বিসিসিআইয়ের মধ্যে ২০১৪ সালে হওয়া একটি সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী। ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ছয়টি দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলার কথা ছিল। ভারতীয় বোর্ড সেই চুক্তি মানেনি। বিষয়টি পরে আইসিসির ডিসপিউট রেজল্যুশন কমিটি (ডিআরসি) পর্যন্ত গড়ায়।
ওই মামলায় শেষ পর্যন্ত পিসিবি ক্ষতিপূরণ পায়নি। তবে পিসিবির মতে, সেই রায়ে ভারত সরকারের অনুমতি না দেওয়ার বিষয়টি যুক্তি হিসেবে উঠে আসা বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করে। এই অবস্থায়, পিসিবি চেয়ারম্যান পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করার পর থেকেই আইসিসি ও পিসিবির মধ্যে নীরব আলোচনার প্রক্রিয়া চলছে।