প্রধানমন্ত্রী না করলে পুরো পাকিস্তান বললেও কাজ হবে না, বিশ্বকাপ নিয়ে বাসিত

পাকিস্তান ক্রিকেট
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যেতে হচ্ছে না পাকিস্তানের। বাবর আজম, শাহীন শাহ আফ্রিদিরা টুর্নামেন্টের সবগুলো ম্যাচই খেলবেন শ্রীলঙ্কায়। এমন অবস্থায় পাকিস্তানের বিশ্বকাপ বয়কটের কোনো কারণ দেখেন না বাসিত আলী। তবে পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার মনে করেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী যদি না করেন তাহলে ক্রিকেটাররা চাইলেও বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ নেই।

নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে ভারতে যাবে না বাংলাদেশ! সেই জন্য লিটন দাস-মুস্তাফিজুর রহমানদের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে নিতে আইসিসিকে চিঠি দেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। কয়েকবার চিঠি চালাচালির পর ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠকও করেছে তারা। যদিও আইসিসিকে নিজেদের পরিস্থিতির কথা বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুলরা। কদিন আগে আইসিসির বোর্ড সভায়ও হেরে গেছে বাংলাদেশ।

১৫ ভোটের মধ্যে কেবলমাত্র পাকিস্তান বাংলাদেশের পক্ষ নিয়েছে। লিটনদের সমর্থন জানিয়ে আইসিসিকে চিঠিও দেয় দেশটির ক্রিকেট বোর্ড। গত কয়েকদিনে বেশ কয়েকবারই গুঞ্জন উঠেছে, আইসিসি যদি বাংলাদেশের দাবি মেনে না নেয় তাহলে বিশ্বকাপ বয়কট করতে পারে পাকিস্তান। ২৪ জানুয়ারি পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিনও এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। আপাতত সরকারের অপেক্ষায় আছেন তারা।

পিসিবির পাশাপাশি রশিদ লতিফ, মোহাম্মদ শেহজাদের মতো ক্রিকেটাররা বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। পিসিবির সাবেক চেয়ারম্যান নাজাম শেঠি তো জানিয়েই দিয়েছেন পাকিস্তান যদি বিশ্বকাপ বয়কট করে তাহলে সেটিকে তিনি সমর্থন করবেন। পাশাপাশি ২৫ জানুয়ারি ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মহসিন নাকভি। যেখানে পিসিবির নীতিগত অবস্থানকে সমর্থনও জানিয়েছেন বিশ্বকাপ দলে থাকা ক্রিকেটাররা।

জানা গেছে, বাংলাদেশকে সমর্থন জানিয়ে পাকিস্তান যদি বিশ্বকাপও বয়কট করে তবুও পিসিবির পাশে থাকবেন বাবর, শাহীন আফ্রিদির মতো ক্রিকেটাররা। তবে বিশ্বকাপ বয়কটের কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না বাসিত। বিশ্বকাপ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে মিটিং করবেন মহসিন নাকভি। বাসিত মনে করেন, পিসিবি চেয়ারম্যানেরও বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার পক্ষেই কথা বলা উচিত।

এ প্রসঙ্গে ইউটিউবে কামরান আকমলের সঙ্গে আলাপকালে বাসিত বলেন, ‘পাকিস্তানে কিভাবে শ্রীলঙ্কায় যেতে চাইবে না, আমাকে এটা বুঝান। কোনো কারণ দেখালে পাকিস্তানের সমস্যা হতে পারে। এটাই সত্য। আমার মনে হয় না খেলোয়াড়রা বলবে আমরা বিশ্বকাপ খেলতে যেতে চাই না। সাবেক ক্রিকেটারদের কথা যদি বলি শহীদ আফ্রিদিও তো বলেছে পাকিস্তানের যাওয়া উচিত। আমার মনে হয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মহসিন নাকভি সাহেবের মিটিং আছে। চেয়ারম্যানেরও বলা উচিত বিশ্বকাপে যেতে চাই।’

যদিও বাসিত মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী না করলে তখন পুরো পাকিস্তান চাইলেও বিশ্বকাপ খেলা হবে না। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কী বলেন সেটা সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। উনি যদি না করে দেয়...। ধরুন ভারতের সরকার ভারত দলকে বলল তোমরা শ্রীলঙ্কায় গিয়ে পাকিস্তানের সাথে ম্যাচ খেলো না। দুই পয়েন্ট তাদের দিয়ে দাও। ভারতীয় দল ওইটাই করবে। সরকারের বিরুদ্ধে তো যেতে পারবেন না। আমাদের প্রধানমন্ত্রী যদি বলে তোমরা যেও না তাহলে ক্রিকেটাররা বলুক কিংবা পুরো পাকিস্তান বলুক কোন কাজ হবে না। তবে আমার মনে হয় প্রধানমন্ত্রী অনুমতি দেবেন (বিশ্বকাপ খেলার)।’

বাংলাদেশকে সমর্থন জানিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট করলে বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে পাকিস্তান, এমন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞাও দেয়া হতে পারে তাদের। বাসিত মনে করেন, বিশ্বকাপ বয়কট করলে পাকিস্তান সফর করতে রাজি নাও হতে পারে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, সাউথ আফ্রিকার মতো দলগুলো।

পাশাপাশি পাকিস্তান সুপার লিগেও (পিএসএল) বিদেশি ক্রিকেটার নিয়ে শঙ্কায় পড়তে হবে। টুর্নামেন্ট খেলতে বোর্ডরা এনওসি দেবে না বলে ধারণা তাঁর। বাসিত বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড আসবে না, সাউথ আফ্রিকাও ঝামেলা করবে। অবশ্যই, পিএসএলের লোকসান হবে। তারা খেলোয়াড়দের (বিদেশি) ছাড়বে না, এটা আমার মনে হয়।’

আরো পড়ুন: