সাকিবকে নিয়ে ‘স্টান্টবাজি’ করছে বিসিবি, দাবি আমিনুলের

বাংলাদেশ ক্রিকেট
সাকিব আল হাসান (বামে) ও আমিনুল হক (ডানে)
সাকিব আল হাসান (বামে) ও আমিনুল হক (ডানে)
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
শর্ত পূরণ করতে পারলে আবারও বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে খেলতে পারবেন সাকিব আল হাসান। পাশাপাশি নির্বাচকরাও তাকে বিবেচনা করবেন। বিসিবির বোর্ড মিটিং শেষে এমন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন। বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবলের সাবেক ফুটবলার আমিনুল হক মনে করেন, টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের না খেলা নিয়ে চলমান বিতর্ক আড়াল করতেই সাকিবকে নিয়ে স্টান্টবাজি করছে বিসিবি।

২০২৪ সালের আগষ্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে দেশে ফিরতে পারেননি সাকিব। তৎকালীন সরকারের সংসদ সদস্য হওয়ায় বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়কের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে চাইলেও দেশে ফিরতে পারেননি তিনি। এমনকি সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেয়ার কথা থাকলেও তাঁর সেই আশা পূরণ হয়নি।

একবার ফেরার প্রক্রিয়া শুরু হলেও মিরপুরে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের কারণে সাকিবকে সবুজ সংকেত দেয়নি সরকার। সবশেষ কয়েক মাসে প্রায়শই বিসিবি কর্তাদের কাছে তারকা অলরাউন্ডারকে নিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে। বেশিরভাগ সময়ই কৌশলে উত্তর দিয়ে প্রশ্নগুলো এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। সবসময় সরকারের কোর্টে বল ঠেলে দিয়েছে বিসিবি। যদিও হুট করেই সাকিবকে নিয়ে অবস্থান বদলেছেন বিসিবি পরিচালকরা।

নিরাপত্তা শঙ্কায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাচ্ছে না বাংলাদেশ। যার ফলে টাইগারদের সরিয়ে বিশ্বকাপ খেলার জন্য স্কটল্যান্ডকে সুযোগ করে দিয়েছে আইসিসি। ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার এমন ঘোষণার দিনই আমজাদ বলেন, ‘সাকিব আল হাসানের অ্যাভেইলঅ্যাবিলিটি, ফিটনেস এবং অ্যাকসেসিবিলিটির ওপর ভিত্তি করে এবং পাশাপাশি যেখানে খেলা হবে ভেন্যুতে, সেখানে যদি উপস্থিত থাকার মতো ক্যাপাসিটি থাকে, অবশ্যই বোর্ড বা নির্বাচক কমিটি সাকিবকে পরবর্তীতে নির্বাচনের জন্য বিবেচিত করবে।’

বেশিরভাগ ক্রিকেটমোদী মানুষের ধারণা, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলার আলোচনা আড়াল করতেই এমন পথ অবলম্বন করেছে বিসিবি। সাবেক ফুটবলার আমিনুলও মনে করেন, সাকিবকে নিয়ে স্টান্টবাজি করছে বিসিবি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা (সাকিবকে খেলার জন্য বিবেচনা করা) তো রীতিমতো স্টান্টবাজি আমি বলব। কারণ সাকিবের বিষয়টা সিদ্ধান্ত নেবে রাষ্ট্র, রাষ্ট্রের আইন। সেই রাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী সাকিব যদি নিরপরাধ হয়, তার মামলাগুলো রয়েছে সেগুলো যদি প্রত্যাহার করা হয় রাষ্ট্রীয়ভাবে তাহলে সাকিব আসবে। সেখানে কারো কোনো সমস্যা নেই। আমি একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে অবশ্যই একজন খেলোয়াড়ের যে সম্মান সেটা তাকে দিতে চাই।’

‘সাকিবের মতো কিংবদন্তি ক্রিকেটার বাংলাদেশের হয়ে খেলবে এটা আমরাও চাই। কিন্তু ক্রিকেট বোর্ড বিশ্বকাপ খেলতে যাবে না, তাদের হয়ত সুদূরপ্রসারী ক্রিকেট কূটনীতির মাধ্যমে আমাদের দলকে যে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়ার কথা ছিল সেটা তারা দিতে পারেনি। এখন তারা স্টান্টবাজি করে সাকিবের কথাটা যেটা আপনাদের ভাষ্য অনুযায়ী সাংবাদিকরা প্রশ্ন করার আগেই সাকিবকে ফিরিয়ে আনার জন্য ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্ত তো ক্রিকেট বোর্ড দিতে পারে না।’

বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটারকে জাতীয় দলের জার্সিতে দেখতে চান আমিনুলও। যদিও রাষ্ট্রের আইনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তাকে ফিরিয়ে আনতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের সাবেক ফুটবলার মনে করেন, রাষ্ট্রীয় আইন অমান্য করে সাকিবকে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার সেই বিসিবির।

আমিনুল বলেন, ‘কারণ সাকিবের যে ইস্যুটা রয়েছে সেটা রাষ্ট্রের সাথে, রাষ্ট্রের আইনের বিষয় আছে। রাষ্ট্রীয় আইন অমান্য করে ক্রিকেট বোর্ডের কোনো এখতিকার নেই সাকিবকে ফিরিয়ে আনার। সাকিবের মতো একজন কিংবদন্তি ক্রিকেটার ফিরে আসুক অবশ্যই আমরা এটি চাই। কিন্তু সেটিকে আনতে হলে অবশ্যই রাষ্ট্রকে সম্মান দেখিয়ে রাষ্ট্রের যে আইন রয়েছে সেই আইনের প্রক্রিয়ার ভেতরে সাকিবকে ফিরিয়ে আনতে হবে।’

আরো পড়ুন: