যদিও শ্রীলঙ্কা সফরে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি তিনি। এর পেছনে লম্বা বিরতিকে দুষছেন সিরাজ। গত ৮ জুন আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট খেলার পর দুই মাস মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি। এরপর ৭ আগস্ট কলম্বোতে শ্রীলঙ্কা বিপক্ষে খেলতে নামেন তিনি। সেই সিরিজে ১২০-১৩০ গতিতে বল করেছেন সিরাজ।
এই সিরিজটিতে ভারতের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে কম ব্যবহার করা হয়েছে সিরাজকেই। সেখানে ৪৪ ওভার মাত্র বোলিং করেন সিরাজ। তার চেয়ে কম বোলিং করেছেন শুধু প্রসিধ কৃষ্ণা। শুভমান গিল এই পেসারকে দিয়ে বল করিয়েছেন সিরাজের চেয়ে ১৪.৩ ওভার কম। সম্প্রতি দুলীপ ট্রফিতে খেলেছেন সিরাজ। সেখানেই ছন্দ ফিরে পেয়েছেন তিনি।
এই টুর্নামেন্টের ফাইনাল শেষে সিরাজ বলেন, ‘প্রত্যেক বোলারের শরীর আলাদা। তবে আমার শরীর দীর্ঘ বিরতি ভালোভাবে নিতে পারে না। অল্প সময়ের বিরতি ঠিক আছে। কিন্তু ১০ বছরের ক্যারিয়ারে আমি কখনো টানা দুই মাস মাঠের বাইরে থাকিনি। জিমে অনুশীলন করেছি, মাঝেমধ্যে বোলিংও করেছি। কিন্তু ম্যাচের তীব্রতা কোনো অনুশীলন দিয়ে তৈরি করা যায় না। এটা আমার জন্য নতুন অভিজ্ঞতা ছিল, তবে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য মূল্যবান শিক্ষাও হয়েছে।’
বিরতির ফলে ছন্দ এবং ধার দুটোই কমে যায় দাবি করে সিরাজ বলেন, ‘আমি পুরোপুরি ছন্দনির্ভর বোলার। ছন্দে না থাকলে ক্রিজে দৌড়ে এসে বিস্ফোরণ ঘটাতে পারি না। শ্রীলঙ্কায় সেটিই সমস্যা হয়েছিল। আমার রানআপটা বিচ্ছিন্ন মনে হচ্ছিল। কোনো কোনো পদক্ষেপ খুব ছোট হয়ে যাচ্ছিল, আবার কোনোটা বড় হয়ে যাচ্ছিল। এতে আমার প্রবাহ নষ্ট হয়েছে এবং গতি কমে গেছে।’
শ্রীলঙ্কা সফর শেষে তাই দুলীপ ট্রফির ফাইনালে দক্ষিণ অঞ্চলের হয়ে খেলতে চেন্নাইয়ে চলে আসেন সিরাজ। ম্যাচটিকে তিনি ছন্দ ফিরে পাওয়ার সুযোগ হিসেবেই দেখেছিলেন। চেন্নাইয়ের প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও দুই ইনিংসে ৪১ ওভার বোলিং করেন তিনি। তবে আরও ভালো করা উচিত ছিল বলেও অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন সিরাজ।
তিনি যোগ করেন, ‘দুই মাসের বিরতির পর সরাসরি ম্যাচে নামায় আমার ছন্দ পুরোপুরি ছিল না। এই ম্যাচে নামার আগে মূল লক্ষ্য ছিল সেই ছন্দটা ফিরে পাওয়া। ম্যাচটা আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। দুই মাস পর শরীর একইভাবে সাড়া দেয় না, সবকিছু একটু ধীর মনে হয়। এই ম্যাচটা শেষ করার পর শরীর আবার সচল হয়েছে এবং আমার ছন্দও ফিরে এসেছে।’