এবারের মৌসুমে টানা চার জয়ে দুর্দান্ত শুরু করেছিল রাজস্থান। তবে এরপর আট ম্যাচে তারা জিতছে মাত্র দুইটিতে। ফলে প্লে-অফে ওঠা এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তাদের জন্য। দিল্লির বিপক্ষে ১৯৩ রান করেও সেটি ডিফেন্ড করতে পারেনি তারা। এটি ছিল তাদের টানা তৃতীয় হার।
দিল্লির বিপক্ষে ম্যাচ শেষে পরাগ বলেন, 'যদি আপনি শিরোপা জিততে চান, যদি প্রতি বছর শিরোপার দাবিদার হতে চান, তাহলে আজ আমরা যেভাবে খেলেছি, তার চেয়ে অনেক ভালো খেলতে হবে। গত চার-পাঁচ ম্যাচে আমরা নিজেদের সামর্থ্যের ধারেকাছেও যেতে পারিনি।'
পরাগ মনে করেন বিরতির পর তার দল যেভাবে মাঠে নেমেছে তাতে দলের সামর্থ্য অনুযায়ী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘাটতি স্পষ্ট ছিল তাদের। পরাগের ভাষায়, 'এভাবে খেলতে থাকলে আমাদের শীর্ষ চারে থাকার দাবিদারই বলা যাবে না।'
রাজস্থানের ফিল্ডিং ছিল তাদের জন্য বড় মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যশ রাজপুঞ্জ শূন্য রানে লোকেশ রাহুলের ক্যাচ ফেলেন। পরে রাহুল ৪২ বলে ৫৬ রান করেন। এছাড়া বৈভব সূর্যবংশী ও পারাগ নিজেও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ফিল্ডিং মিস করেছেন।
তবু ম্যাচে তখনও সুযোগ ছিল রাজস্থানের। শেষ তিন ওভারে দিল্লির দরকার ছিল ৩৫ রান, হাতে ছিল ছয় উইকেট। সেই সময়ে পারাগ পেসার দাসুন শানাকা ও এডাম মিলনের কোটার ওভার বাকি রেখেই অফস্পিনার ডোনোভান ফেরেইরাকে আক্রমণে আনেন। কিন্তু এই ঝুঁকি নিয়েও সফল হতে পারেননি। ফেরেইরার ওই ওভারে একটি করে ছক্কা হাঁকিয়ে ১৬ রান তোলে দিল্লি। পরে চার বল হাতে রেখেই সেই ম্যাচ জিতে নেয় তারা।
তবে নিজের সিদ্ধান্তকে ভুল মানতে নারাজ পরাগ। তিনি বলেন, 'টিভিতে হয়তো এটা ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত মনে হয়েছে, কিন্তু তখন দুজনই বাঁহাতি ব্যাটার ছিল। তাই আমি ফেরেইরাকে দিয়েই সুযোগ নিতে চেয়েছি, শানাকাকে আরেক ওভার দেওয়ার চেয়ে।'
ব্যাট হাতেও শেষ দিকে ধস নামে রাজস্থানের ইনিংসে। শেষ সাত ওভারে তারা তোলে মাত্র ৪১ রান, হারায় ছয় উইকেট। এর মধ্যে ১৫তম ওভারে দিল্লি পেসার মিচেল স্টার্ক তিন উইকেট তুলে নেন, যার একটি ছিল ২৬ বলে ৫১ রান করা পরাগের উইকেট। তখন রাজস্থানের স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ১৬১, হাতে ছিল আরও ৩৪ বল। কিন্তু সুবিধাজনক অবস্থানে থেকেও শেষদিকে স্কোর বড় করতে পারেনি আইপিএলের প্রথম আসরের চ্যাম্পিয়নরা।
এ প্রসঙ্গে পরাগ বলেন, 'আমাদের ২২০ থেকে ২৩০ রানের মতো স্কোর করা উচিত ছিল। কিন্তু আমরা সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারিনি। আর বোলিংয়ে তো আমরা মোটেও আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারিনি।'