চেন্নাইয়ের ব্যাটিং ইনিংসে জসপ্রিত বুমরাহর বলে কার্তিক শর্মার একটি ক্যাচ ধরতে গিয়ে কাঁধে চোট পান স্যান্টনার। সেই অবস্থায় মাঠেই লুটিয়ে পড়েন এই কিউই স্পিনার। পরে তাকে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হলে ম্যাচ রেফারি বরাবর তার কনকাশন সাবস্টিটিউটের আবেদন জানায় মুম্বাই। বাঁহাতি স্পিনার স্যান্টনারের বদলি হিসেবে পেস বোলিং অলরাউন্ডার শার্দুল ঠাকুরকে মাঠে নামার অনুমতি দেন ম্যাচ রেফারি। আর তাতেই বাঁধে বিপত্তি।
আইপিএলের প্লেয়িং কন্ডিশন অনুযায়ী, ম্যাচ রেফারি কনকাশন সাবস্টিটিউট তখনই অনুমোদন করতে পারেন যখন কোনো খেলোয়াড় মাথায় বা ঘাড়ে আঘাত পান এবং সেটি ম্যাচ রেফারি নিশ্চিত হতে পারেন চিকিৎসকদের মাধ্যমে। প্রাথমিকভাবে স্যান্টনার কাঁধে আঘাত পেয়েছেন বলেই মনে হচ্ছিল। তাকে ড্রেসিংরুমে নিয়ে যাবার পর কাঁধে বরফ লাগানোর দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ায় মুম্বাইয়ের বিরুদ্ধে সন্দেহ আরো দানা বাঁধে।
এছাড়াও কনকাশন সাবস্টিটিউটের ধারা অনুযায়ী ইনজুরি আক্রান্ত খেলোয়াড়ের বদলি খেলোয়াড়কে হতে হবে 'লাইক ফর লাইক'। অর্থাৎ স্পিনারের বদলে আরেকজন স্পিনারকেই মাঠে নামাতে হবে। তাই স্যান্টনারের বদলি হিসেবে শার্দুলকে নামানোর অনুমতি দেয়া যথার্থ হয়েছে কিনা সেই প্রশ্নও উঠছে।
যদিও মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স কোচ মাহেলা জয়াবর্ধনে এসব অভিযোগকে অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, শুরুতে কাঁধে ব্যাথা লাগলেও পরে মাথা ও ঘাড়েও ব্যাথা অনুভব করছিলেন স্যান্টনার। পরে তিনি মাথায় অস্বস্তিও অনুভব করেন। তাই তার জন্য কনকাশন সাবস্টিটিউটের আবেদন করেছেন তারা।
ইনজুরি আক্রান্ত হবার আগেই নিজের কোটার চার ওভার পূরণ করেছিলেন স্যান্টনার। তাই এই অন্যায় সুবিধা নেবার অভিযোগের ভিত্তিও আছে যথেষ্ট। এদিকে প্রথম ইনিংসে এই ঘটনার পর দ্বিতীয় ইনিংসে আইপিএলের নিয়ম মেনেই দানিশ মালেওয়ারকে ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসেবে মাঠে নায়ায় মুম্বাই। ইমপ্যাক্ট প্লেয়ারের নিয়ম প্রচলন হবার পর আইপিএলে এক দল ১২ জন খেলোয়াড় খেলাতে পারে।
কিন্তু অন্যায় সুবিধা নিয়ে এবার এক ম্যাচেই ১৩ জন খেলিয়ে দিয়েছে হার্দিক পান্ডিয়ার দল। যদিও ১৩ জন খেলোয়াড় খেলিয়েও টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে নিজেদের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হার এড়াতে পারেনি মুম্বাই। চেন্নাইয়ের কাছে তারা হেরেছে ১০৩ রানের বিশাল ব্যবধানে। সাত ম্যাচ শেষে দুই জয় নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের আট নম্বরে অবস্থান করছে তারা।