নিলামের টেবিল থেকে আইপিএলের অন্যতম শক্তিশালী পেইস বোলিং লাইনআপ নিয়েই দল গড়েছিলো কলকাতা। নতুন বলে হার্শিত রানার সাথে ডেথ আর মিডল ওভারে বিশ্বের সেরা দুই বোলার পাথিরানা আর মুস্তাফিজের সার্ভিস নিশ্চিত করেছিলো তারা। কিন্তু উগ্রবাদীদের চাপের মুখে মুস্তাফিজকে দল থেকে বাদ দেবার পর থেকেই শনি পিছু নিয়েছে তাদের।
১৮ কোটি রুপিতে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের নিলাম থেকে মাথিশা পাথিরানাকে কিনেছিলো কলকাতা নাইট রাইডার্স। কিন্তু বিশ্বকাপ চলাকালীন বাঁ পায়ে চোট পেয়ে মাঠের বাইরে ছিটকে যান এই লঙ্কান পেসার। ইনজুরির শুরুতে জানা গিয়েছিলো চার সাপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরে থাকতে হবে তাকে। কিন্তু ২৮ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া আইপিএলের শুরু থেকে পাথিরানার খেলাটা অনেকটাই অনিশ্চিত। কবে নাগাদ পূর্ণ ফিট হতে পারবেন পাথিরানা সেটিও জানা যায়নি এখনও।
এরপর নিরাপত্তাজনিত কারণে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দিয়েছে আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। ফলে তাদের পেস বোলিং আক্রমণ নিয়ে বড় শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এবার জানা গেছে পুরো মৌসুমেই পাওয়া যাবে না আরেক পেসার হার্শিত রানাকে। এই পেসার বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সময় হাঁটুর ইনজুরিতে পড়েন। এক মাস অতিবাহিত হলেও এখনো সম্পূর্ণ সেরে ওঠেননি। ইনজুরি থেকে সেরে ওঠা ও পুনর্বাসন মিলিয়ে আরো লম্বা সময় মাঠের বাইরে থাকতে হবে হার্শিতকে।
হার্শিতের ইনজুরি নিয়ে কলকাতা দলের একটি সূত্র বলেছে, 'দুর্ভাগ্যবশত হার্শিত রানা পাওয়া যাবে না। তবে এতে দলে থাকা অন্য বোলারদের—বৈভব অরোরা, উমরান মালিক, কার্তিক ত্যাগী এবং আকাশ দীপ—নিজেদের প্রমাণ করার ও সুযোগটি কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। এখনও তার কোনো বদলি খেলোয়াড় চূড়ান্ত করা হয়নি।'
আইপিএলে কলকাতার হয়ে ৩৩ ম্যাচ খেলে রানার ঝুলিতে আছে ৪০ উইকেট। মুস্তাফিজ, পাথিরানার অনুপস্থিতিতে ভারতের হয়ে সব ফরম্যাটেই ইতোমধ্যেই অভিষেক হওয়া এই পেসারকে নিয়ে বড় স্বপ্নই ছিলো কলকাতার। নতুন বলে হার্শিতের অভাব পূরণে বেগ পেতে হবে তাদের।
মুস্তাফিজের বদলি হিসেবে জিম্বাবুয়ের পেসার ব্লেসিং মুজারাবানিকে কেকেআর দলে ভেরালেও পেস বোলিং আক্রমণে তাদের অনেকটাই আনকোড়া। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই তাই পেস বোলারদের নিয়ে দারুণ বিপাকে কেকেআর। শনির দশার শুরুটা হয়েছিলো মুস্তাফিজকে বাদ দেবার মাধ্যমে।