স্বল্প লক্ষ্য নিয়েই বোলারদের কল্যাণে সিলেটকে শুরু থেকে চাপে রাখে রংপুর। ৪৪ রানের মধ্যে সিলেট হারায় ৪ উইকেট। নিজের প্রথম ওভারেই মুস্তাফিজুর রহমান আউট করেন ২ রান করা তৌফিক খান তুষারকে। আরেক ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন আউট হন আলিস আল ইসলামের শিকার হয়ে।
আরেক ব্যাটার আরিফুল ইসলামকে আউট করেন নাহিদ রানা। আলিস বোল্ড করেছেন আফিফ হোসেন ধ্রুবকে। ফলে চাপে পড়ে যায় সিলেট। সেখান থেকেই দলের হাল ধরেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ও স্যাম বিলিংস। দুজনে ৫০ রানের জুটি গড়েন। ২৩ বলে ১৮ রান করা মিরাজকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন খুশদিল শাহ।
৪০ বলে ২৯ রান করা বিলিংসকে আউট করেন মুস্তাফিজ। এরপর শেষ ওভারে ৯ রানের প্রয়োজন ছিল সিলেটের। উইকেটে দুই ইংলিশ ব্যাটার মঈন আলী ও ক্রিস ওকস। বল করতে আসেন ফাহিম আশরাফ। প্রথম তিন বলে মাত্র ২ রান খরচ করেন ফাহিম। চতুর্থ বলে মঈনকে আউট করেন এই পাকিস্তানি বোলার। খালেদ আহমেদ এসে পঞ্চম বলে নেন এক রান। এরপর শেষ বলে ছক্কা মেরে সিলেটকে জিতিয়েছেন ক্রিস ওকস। আর তাতেই দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে জায়গা করে নেয় সিলেট।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা শুরুটা ভালো হয়নি রংপুরের। সকালের আর্দ্রতার পাশাপাশি উইকেটে ঘাস থাকায় সেটা বেশ ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছেন সিলেটের পেসাররা। ক্রিস ওকসের পাশাপাশি খালেদ আহমেদ চেপে ধরেন রংপুরের দুই ওপেনারকে। দ্বিতীয় ওভারেই সিলেটকে সাফল্য এনে দিয়েছেন খালেদ। ডানহাতি পেসারের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে এজ হয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন তাওহীদ হৃদয়। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান ফিরেছেন ৪ রানে।
তৃতীয় ওভারে উইকেট এনে দিয়েছেন ওকস। বিপিএলের অভিষেকেই মালানকে ফিরিয়েছেন তিনি। ইংল্যান্ডের পেসারের বলে অফ স্টাম্পের বাইরে গিয়ে স্কয়ার লেগ দিয়ে খেলার চেষ্টায় টপ এজ হয়ে পারভেজ ইমনকে ক্যাচ দিয়েছেন মালান। চতুর্থ ওভারে খালেদ ফিরিয়েছেন লিটনকে। তিনিও আউট হয়েছেন অফ স্টাম্পের বাইরের বলে এজ হয়ে। ১১ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর প্রতিরোধ গড়তে পারেননি কাইল মেয়ার্স।
সালমান ইরশাদের বলে এক্সট্রা কভারের উপর দিয়ে খেলার চেষ্টায় বিলিংসকে ক্যাচ দিয়েছেন। এরপর খুশদিল ও মাহমুদউল্লাহ মিলে রংপুরকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। তবে ৩ ছক্কায় ১৯ বলে ৩০ রান করা খুশদিলকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন নাসুম আহমেদ। একটু পর ২৬ বলে ৩৩ রান করে আউট হয়েছেন মাহমুদউল্লাহও। ২৪ বলে ১৮ রান করেছেন সোহান। শেষ পর্যন্ত ১১১ রানের পুঁজি পেয়েছে রংপুর। সিলেটের হয়ে একাই ৪ উইকেট নিয়েছেন খালেদ। দুইটি করে উইকেট পেয়েছেন ওকস এবং নাসুম।