এরপর রাতেই ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান মিঠু। তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন। তবে ম্যাচের আগেও এমন আশ্বাসের কোনো বাস্তবায়ন হয়নি। মিঠুন জানিয়েছেন বিসিবির এই কর্মকর্তার সঙ্গে দফায় দফায় কথা হলেও ফল আসেনি।
বিসিবির সেই পরিচালকও পদত্যাগ করেননি। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন ডাকে কোয়াব। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কোয়াব সভাপতি মিঠুন, নুরুল হাসান সোহান, মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাজমুল হোসেন শান্তর মতো ক্রিকেটার। তারা জানিয়েছেন শুধু এক কারণেই তারা খেলা থেকে সরে যাননি।
এর নেপথ্যে বেশ কিছু কারণ উত্থাপন করেছেন তারা। সেখান থেকে জানানো হয়েছে, খেলার জন্য তৈরি আছেন ক্রিকেটাররা। তবে এর আগে বিসিবিকে নিশ্চিত করতে হবে নাজমুল ইসলাম পদত্যাগ করছেন। এমনকি ঢাকা প্রথম বিভাগ ক্রিকেটের সংকট, নারী ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানির অভিযোগে বিসিবির অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে।
মিঠুন নিজেদের অবস্থান খোলাস করে বলেছেন, 'একটা পর্যায়ে এসে তারা (বিসিবি) ওএসডি করতে চেয়েছিল কিন্তু আমরা রাজি হইনি। তারপর উনার জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় চেয়েছিল। তাদের প্রসিডিউর অনুযায়ী, ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগবে। আমি খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনা করেছি।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'আলোচনা করার পরে আমাদের প্রশ্নটা হচ্ছে ৪৮ ঘণ্টা পরে যদি উনি এখান থেকে পদত্যাগ না করেন তারপরেও তো আমাদের খেলা বন্ধ করতে হচ্ছে। উনারা এখন অনুরোধ করতেছে আমাদের খেলতে। আমাদের প্রতিবাদ স্বরূপ প্রথম ম্যাচ আমরা বাদ দিলাম, প্রথম আর (আজ) হবে না। দ্বিতীয় ম্যাচ থেকে যদি আমরা খেলতেও যাই তারা ৪৮ ঘণ্টা যে সময় চেয়েছে। ৪৮ ঘণ্টা পর যদি উনাকে না সরানো হয় তাহলে আল্টিমেটলি আবার খেলা বন্ধ হয়ে যাবে।'
কোয়াবের এমন আল্টিমেটামের পর বিপিএলের এবারের আসরের বাকি ম্যাচগুলো নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে বিসিবি যদি নাজমুল ইসলামের পদত্যাগের বিষয়ে নিশ্চয়তা দেয় তবে সন্ধ্যায় দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামার জন্য ক্রিকেটাররা তৈরি বলেও জানিয়েছেন ক্রিকেটাররা। বিসিবি এখনও কোনো নিশ্চয়তা দেয়নি বলে জানান মিঠুন।
তার ভাষ্য, 'আমরা মাঠে যাব একটাই শর্তে বিসিবি থেকে উনারা যদি আপনাদের সামনে এসে কমিটমেন্ট করেন ঠিক আছে আমরা গ্যারান্টি নিচ্ছি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই লোক থাকবে না বিসিবিতে। যদি থাকে তখন ক্রিকেটাররা যে খেলা বন্ধ করবে তখন তাদের উপর কোন দায়ভার থাকবে না এবং সেটার সম্পূর্ণ দায়িত্ব বিসিবি নেবে। এই শর্তে আমরা আবার মাঠে ফিরতে পারি। এটা নিয়ে যদি বিসিবি থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে। আমরা এটা নিয়ে তাদের সঙ্গে ইতোমধ্যে যোগাযোগ করেছি কিন্তু আমরা কোন ধরনের নিশ্চয়তা পাইনি।'