বছরে তিনটির বেশি বিদেশি লিগ খেলতে পারবেন না রশিদ-ওমরজাইরা

আফগানিস্তান ক্রিকেট
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
চলতি বছরের অক্টোবরে মাঠে গড়াবে আফগানিস্তানের নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগ (এপিএল)। পাঁচ দলের সেই টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই রশিদ খান, মোহাম্মদ নবিদের লাগাম টেনে ধরল আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি)। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এপিএলের পাশাপাশি বছরে তিনটির বেশি বিদেশি লিগ খেলতে পারবেন না আফগান ক্রিকেটাররা। এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এসিবি।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা ও মানসিক সুস্থতা রক্ষার জন্য বোর্ড বিদেশি লিগ সংক্রান্ত একটি নতুন নীতি অনুমোদন করেছে। নতুন নীতি অনুযায়ী, খেলোয়াড়রা এখন আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগ (এপিএল)-এ অংশগ্রহণ করতে পারবেন, পাশাপাশি বছরে সর্বোচ্চ আরও তিনটি আন্তর্জাতিক (বিদেশি) লিগে খেলতে পারবেন। এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হলো খেলোয়াড়দের কাজের চাপ নিয়ন্ত্রণ করা এবং জাতীয় দলের দায়িত্ব পালনের সময় সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স নিশ্চিত করা।’

বোর্ডের এমন নীতিতে বিপাকে পড়তে যাচ্ছেন রশিদের মতো তারকা ক্রিকেটাররা। আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে যাচ্ছেন ডানহাতি লেগ স্পিনার। একটা সময় বিপিএল, সিপিএলে খেলেছেন রশিদ। কয়েক বছর আগে খেলতেন পিএসএলেও। সাম্প্রতিক সময়ে অবশ্য বিদেশি এই লিগগুলোতে সেভাবে খেলতে দেখা যায় না তাকে। যদিও বছরজুড়ে লিগ খেলায় ব্যস্ততার শেষ নেই তাঁর।

সবশেষ কয়েক বছর ধরে নিয়মিতই আইপিএল খেলছেন রশিদ। সানরাইজার্স হায়দরবাদের হয়ে আইপিএল শুরু করা আফগান লেগ স্পিনার সবশেষ চার মৌসুমে খেলেছেন গুজরাট টাইটান্সের হয়ে। ভারতের জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলার সুবাদে ভারতীয় মালিকানাধীন ফ্র্যাঞ্চাইজির পছন্দের শীর্ষেও তিনি। যার ফলে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ফ্র্যাঞ্চাইজির বেশ কয়েকটি দলের সঙ্গে যুক্ত আছেন রশিদ।

ইন্টারন্যাশনাল লিগ টি-টোয়েন্টিতে এমআই এমিরেটস, মেজর লিগ ক্রিকেটে এমআই নিউ ইয়র্ক এবং সাউথ আফ্রিকার এসএ টোয়েন্টি লিগে খেলছেন এমআই কেপ টাউনের হয়ে। এসবের বাইরে ইংল্যান্ডের দ্য হান্ড্রেডেও খেলেন রশিদ। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে আইপিএলের বাইরে মাত্র বাকি দুইটা লিগে খেলতে পারবেন তিনি। যার ফলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকছে তাঁর।

শুধু রশিদ নয় নতুন নিয়মের জন্য বিপাকে পড়তে যাচ্ছেন মুজিব উর হমান, নূর আহমেদ, আজমতউল্লাহ ওমরজাই, মোহাম্মদ গাজানফার এবং রহমানউল্লাহ গুরবাজদের মতো ক্রিকেটারদের। কারণ দুনিয়ার প্রায় সব ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগেই কদর আছে তাদের। এমনটা দলে আফগানিস্তানের তারকা ক্রিকেটারদের বাংলাদেশের বিপিএলে দেখার সম্ভাবনা ক্ষীণ। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে আফগানিস্তানের বড় ক্রিকেটারদের কেউই সেভাবে বিপিএলে আসেন না।

চলতি বছর অবশ্য ঢাকা ক্যাপিটালসের হয়ে গুরবাজ, সিলেট টাইটান্সের হয়ে ওমরজাই এবং নোয়াখালী এক্সপ্রেসের হয়ে খেলেছেন মোহাম্মদ নবির মতো ক্রিকেটার। ভবিষ্যতে তাদেরও পাওয়া যাবে কিনা সেটা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হতেই পারে। আফগানিস্তানের মতো এমন নিয়ম আছে পাকিস্তানেও। বাবর আজমরা পিএসএলের বাইরে বছরে দুইটির বেশি বিদেশি লিগ খেলতে পারেন না।

আরো পড়ুন: