আবুধাবিতে শনিবারের এই ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতাকেই হারের মূল কারণ হিসেবে দেখছেন তাসকিন। তার মতে, প্রতিপক্ষের দেয়া লক্ষ্য এই উইকেটে তাড়া করা সম্ভব ছিল। কিন্তু ব্যাটাররা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারেননি।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তাসকিন বলেন, ‘সত্যি বলতে, আজকে যেরকম পিচ ছিল, আমরাও তো বল করেছি, একটু এদিক-ওদিক হলেই কিন্তু পানিশড হচ্ছিলাম। জিম্বাবুয়ের সঙ্গে অন্তত ২৭০ অবশ্যই তাড়া করার মতো ছিল। ওদের কন্ডিশনে ওরা অস্ট্রেলিয়াকেও কঠিন সময়ের ভেতর দিয়ে নিয়েছে। কিন্তু এই কন্ডিশনে আমাদের আসলে তাড়া করা উচিত ছিল। আমরা আসলেই ভালো খেলিনি।’
বাংলাদেশের ইনিংসে উদ্বোধনী জুটিতে সৌম্য সরকার ও তানজিদ হাসান ৪৭ রান যোগ করেন। তানজিদের ব্যাট থেকে আসে ৪৬ রান। এরপর বড় কোনো জুটি গড়তে পারেনি বাংলাদেশ। নবম উইকেটে তাসকিন আহমেদ ও রিশাদ হোসেনের ২৬ বলে ৩২ রানের জুটিই ছিল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তবে ততক্ষণে ম্যাচ থেকে অনেকটাই ছিটকে গেছে দল।
ব্যাটিংয়ে জুটি গড়তে না পারাকেই বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন তাসকিন। তাঁর মতে, একটি ভালো জুটি ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারত। তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত আমরা একটাও জুটি গড়তে পারিনি। একটা জুটি হলেই খেলাটা বের হয়ে যেত। আমাদের ব্যাটিংয়ে প্রায়ই ভুল হয়ে থাকে। বোলিংয়ে অবশ্য ধারাবাহিকতা আগের চেয়ে বেড়েছে। আসলে ব্যাটসম্যানদের আজ জেতানো উচিত ছিল, কিন্তু পারেনি।’
চাপের মুখে ব্যাটিংয়ে দ্রুত ভেঙে পড়ার প্রবণতা থেকেও বেরিয়ে আসতে চান তাসকিন। তার মতে, বাংলাদেশের ব্যাটারদের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন নেই, বরং ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার জায়গায় ঘাটতি রয়েছে। বড় দল হয়ে উঠতে হলে এই দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা জরুরি।
এ প্রসঙ্গে তাসকিন বলেন, ‘ম্যাচ পরিস্থিতি বুঝতে পারার ঘাটতিটা একটু বেশি। কারণ দক্ষতা কিন্তু সবার আছে। আপনারা যারা ক্রিকেট খেলা দেখেন, প্রতিটি ব্যাটসম্যানই কিন্তু প্রমাণ করেছে, তারা ভালো ব্যাট করতে পারে। মাঝে মাঝে আমরা দল হিসেবে দেখবেন, চাপে পড়লে খুব দ্রুত ভেঙে পড়ি। এই জিনিসটাই আমাদের আসলে বের হয়ে আসতে হবে। বড় দল হতে চাইলে যেকোনোভাবে বের হয়ে আসতে হবে। আমি নিশ্চিত, এটা নিয়ে আমরা সবাই মিলে কাজ করছি, কীভাবে দ্রুত ঠিক করা যায়।’
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারের পরও ফাইনালে ওঠার আশা ছাড়ছেন না তাসকিন। ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের সামনে এখনো একটি ম্যাচ বাকি রয়েছে। সেই ম্যাচে ভালো ক্রিকেট খেলে ঘুরে দাঁড়াতে চায় দল। তাসকিন বলেন, ‘এখনো একটা ম্যাচ বাকি আছে। আমরা চাইব যে ভালোভাবে লড়াই করে ফিরে এসে যেন ফাইনাল খেলতে পারি।’