উপমহাদেশের মাটিতে বরাবরই স্পিনের চ্যালেঞ্জের সামনে পড়তে হয় ইংলিশদের। বাংলাদেশের পেসাররাও সাম্প্রতিক সময়ে দারুণ পারফরম্যান্স করছেন। তাই দুই বিভাগ নিয়েই ইংল্যান্ডকে ভাবার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি স্পিন বোলারদের পেছনে আরও বিনিয়োগের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। সেই ভাবনাতেই স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নতুন সহকারী হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পাশাপাশি রিচার্ড ডসনকে ইংল্যান্ডের জাতীয় দলের স্পিন বোলিং কোচের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
আসন্ন বাংলাদেশ সফর নিয়ে নর্থ বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন ভালো ক্রিকেট দল, ভালো টেস্ট দলও। সেখানে গিয়ে শুধু ভালো স্পিনারদের মোকাবিলা করতে হবে, বিষয়টি এমন নয়। তাদের বেশ কয়েকজন ভালো পেসারও আছে। তাই আমরা জানি, সফরটি কঠিন হবে। তবে ওই কন্ডিশনে সব ধরনের বিকল্প কাজে লাগানোর মতো একটি দল আমাদের তৈরি করতে হবে।’
বেন স্টোকসের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের পর নিজেদের প্রথম সিরিজে কোনো বিশেষজ্ঞ স্পিনার ছাড়াই দল সাজিয়েছিল ইংল্যান্ড। পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের পথে ড্যান লরেন্স ও জো রুটের অফ স্পিনের ওপর নির্ভর করেছিল তারা। আর শোয়েব বশিরকে থাকতে হয়েছিল পানি টানার দায়িত্বে। ডিসেম্বরে সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে পরবর্তী টেস্ট সিরিজেও একই রকম ভারসাম্য নিয়ে মাঠে নামার কথা ইংল্যান্ডের।
এমন ভাবনা থাকলে বাংলাদেশ সফরে বিপাকে পড়তে পারে ইংল্যান্ড। তাই নিজেদের স্পিনের গভীরতা তৈরি করার পরামর্শ দিয়েছেন নর্থ। তিনি বলেন, ‘পেস বোলিং নিয়ে যেমন একটি প্রকল্প ছিল, তেমনি এখন আমাদের ব্যবস্থায় বেশ কয়েকজন স্পিনার এসেছে, যাদের নিয়ে আমরা কাজ করতে পারি। আমরা এমন গভীরতা তৈরি করতে চাই, যাতে প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও দলের ভারসাম্য নিয়ে ভালোভাবে আলোচনা করা যায়।’
মঙ্গলবার নতুন কেন্দ্রীয় চুক্তির তালিকা প্রকাশ করেছে ইসিবি। কেন্দ্রীয় চুক্তিতে জায়গা পেয়েছেন শোয়েব বশির ও রেহান আহমেদ। পাশাপাশি ডেভেলপমেন্ট চুক্তিতে জায়গা পেয়েছেন ম্যাসন ক্রেন, জেমস কোলস ও লিয়াম প্যাটারসন-হোয়াইট। আপাতত তাদেরকে নিয়েই এগোতে চায় ইংল্যান্ড। চুক্তি থেকে বাদ পড়েছেন অভিজ্ঞ স্পিনার জ্যাক লিচ। মূলত উপমহাদেশের কন্ডিশনের কথা মাথায় রেখেই এক ঝাঁক স্পিনারকে সুযোগ দিয়েছে ইংল্যান্ড।
এই স্পিনার বাংলাদেশ সফর ও আসন্ন সিরিজগুলোর ভাবনায় নেই বলেই জানিয়েছেন নর্থ। তিনি যোগ করেন, ‘ইংল্যান্ডের হয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমরা তাকে (জ্যাক লিচ) দেখেছি। সমারসেটের হয়েও সে অসাধারণ খেলছে। তবে এই মুহূর্তে ডেভলপমেন্ট চুক্তি ও কেন্দ্রীয় চুক্তির তালিকা দেখলেই বোঝা যায়, আমরা কিছুটা ভিন্ন পথে এগোচ্ছি।’