প্রস্তুতি ম্যাচে হারলেও অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর আত্মবিশ্বাস ছিল: মিরাজ

অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ সিরিজ
মেহেদী হাসান মিরাজ, ফাইল ফটো
মেহেদী হাসান মিরাজ, ফাইল ফটো
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
সবশেষ টেস্টে জিম্বাবুয়ের কাছে ইনিংস ব্যবধানে হার। এরপর প্রস্তুতি ম্যাচেও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের অখ্যাত বোলারদের বিপক্ষেও মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হবার লজ্জা। ডারউইনে প্রথম টেস্টে মাঠে নামার আগে এই টেস্ট বাংলাদেশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়া কতটা দাপটের সাথে জেতে সেটি দেখার অপেক্ষায় ছিলেন সবাই। কিন্তু ক্রিকেট বিশ্বকে চমকে দিয়ে মারারা ওভালে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার সাথে বাংলাদেশের জয় পুরো ক্রিকেট বিশ্বকে চমকে দিলেও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দারুণ কিছু করার বিশ্বাস দলের মধ্যে ছিল, এমনটাই জানিয়েছেন ডারউইন টেস্ট জয়ের অন্যতম নায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ।

টেস্টের প্রথম দিনেই ১৯৮ রানে অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু এরপরেও এই টেস্টে অস্ট্রেলিয়া প্রবলভাবে ঘুরে দাঁড়াবে বলেই বিশ্বাস করছিলেন ধারাভাষ্য কক্ষে থাকা অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটারা। কিন্তু বাংলাদেশ সেটি হতে দেয়নি। এই টেস্টে খেলা হওয়া ১১ টি সেশনের প্রতিটিতেই দাপট দেখিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। শেষ দিনেও ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন নিয়ে অজিরা ব্যাটিংয়ে নামলেও মিরাজের স্পিন জাদুতে অসহায় ছিল অজি ব্যাটাররা।

ঐতিহাসিক জয়ের পর মিরাজ বলেন, 'প্রস্তুতি ম্যাচে হারের পর আমাদের ভাবতে হয়েছে, এই কন্ডিশনে এটি আমাদের জন্য দারুণ একটি সুযোগ। অনেক দিন পর আমরা এখানে এসেছি। তারা খুব ভালো একটি দল, বিশ্বমানের খেলোয়াড় রয়েছে তাদের। তাদের হারাতে পারলে আমাদের দেশ ও ক্রিকেটের জন্য সেটি দারুণ কিছু হবে।'

ব্যাট হাতে প্রথম ইনিংসে ৬৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলার পর বল হাতে ৬৬ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন মিরাজ। মিরাজের অসাধারণ স্পেলেই শেষদিন ম্যাচে ফেরার স্বপ্ন সফল হয়নি অজিদের। ম্যাচ জয়ে অবশ্য সবাইকেই কৃতিত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশ অলরাউন্ডার।

মিরাজ বলেন, 'প্রথম ১০ ওভারে তামিম ও শাদমান যেভাবে ব্যাট করেছে, সেটি দারুণ ছিল। তামিম সেঞ্চুরি করেছে। এরপর শান্ত তার ব্যাটিং দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছে এবং মুমিনুলও খুব ভালো করেছে। পরে আমার সাথে ব্যাটিংয়ে হাসান, তাসকিন ও তাইজুলের দারুণ জুটি হয়েছে। তারা আমাকে সুযোগ করে দিয়েছে। তারা আউট হয়ে গেলে আমি তো রান করতে পারতাম না।'

মিরাজ আরো যোগ করেন, 'আমাদের জন্য অসাধারণ ও দারুণ একটি মুহূর্ত। অনেক দিন পর আমরা এখানে এসেছি এবং দল হিসেবে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছি। আমরা যেভাবে খেলেছি, তাতে আমাদের মানসিক দৃঢ়তা ফুটে উঠেছে। সবকিছুই নিখুঁত ছিল।'

প্রথম ইনিংসে অজিদের ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেবার নায়ক ছিলেন হাসান মাহমুদ। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেটের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও ৩ উইকেট নিয়েছেন এই পেসার। ম্যাচে মোট ৯ উইকেট নিয়ে হয়েছেন ম্যাচসেরা খেলোয়াড়। পাশাপাশি ব্যাট হাতেও ৯২ বলে ১৪ রানের দারুণ কার্যকরী এক ইনিংসও খেলেনোয়াড় পেসার।

ম্যাচসেরার পুরষ্কার জেতার পর হাসান বলেন, 'আমরা অনুশীলন সেশনে ভালোই করছিলাম এবং নিজেদের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস ছিল। ভালো করার ব্যাপারে আমরা আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। কোচদের সঙ্গে বসে আমরা দলীয় পরিকল্পনা করেছি, প্রতিপক্ষের বিশ্লেষণ দেখেছি- এগুলো আমাদের অনেক সাহায্য করেছে। বোলার হিসেবে আমরা ধৈর্য ধরে বোলিং করেছি এবং আঁটসাঁট লাইন বজায় রেখেছি। দেশে আমাদের সবাই নিশ্চয়ই খুব খুশি হবে এবং রাস্তায় নেমে উদযাপন করবে।'

আরো পড়ুন: